দেড় মাসেও খুলনা ফুলবাড়িগেট টিটিসি’র শিক্ষার্থী ওমর ফারুখ রাব্বি হত্যা মামলার কোনো আসামি গ্রেপ্তার হয়নি। হত্যাকাণ্ডের রহস্যও উদঘাটন করতে পারেনি পুলিশ। তদন্তে গতি না আসায় গত বুধবার মামলাটি ডিবিতে স্থানান্তর করা হয়েছে। বিষয়টি নিয়ে পরিবারের সদস্যরা উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। গত ২৩ মে দৌলতপুর থানার মহেশ্বরপাশা কার্তিককুল খুটির ঘাট এলাকা থেকে রাব্বির গুলিবিদ্ধ মরদহে উদ্ধার করে পুলিশ।
রাব্বির ছোট বোন ইশরাত জাহান মিম বলেন, আমার ভাই টিটিসি’র সম্মান শেষ বর্ষের ছাত্র ছিল। জীবনের ছোটো খাট ব্যক্তিগত বিষয় একটি ডায়েরীতে লিখে রাখতো। সেই ডায়েরী থেকে জানতে পেরেছি, জাব্দিপুর ৬ নং ইউনিয়ন মেম্বর গোলাম কিবরিয়ার ভাইয়ের ছেলে সামদ হত্যার কয়েকদিন পূর্বে তাকে হত্যার হুমকি দেয়। এরপর থেকে সে রাতে বাড়িতে থাকতো না। মাঝে মধ্যে বাড়িতে আসতো। সে ব্যক্তিগত কোনো কিছু বাড়ির কারও সাথে শেয়ার করত না।
তিনি আরও বলেন, ২২ মে বিকেল ৪টার দিকে বাড়ি থেকে বের হয়ে যায় রাব্বি। এলাকার দীঘির পূর্ব পাড় জিয়া কলেজের পাশে আশিক, মোহন ও সাদ্দামের সঙ্গে দেখা করতে যায়। তার বন্ধুদের মাধ্যমে জানতে পারলাম আশিকের ফোনে হোয়াটসঅ্যাপের মাধ্যমে আরেকজনের সঙ্গে কথা বলে। এরপর সে মহেশ্বরপাশা খানা বাড়ি এলাকার হোয়াইট হাউসের সামনে যায়। সেখানে তিনজন যুবকের সঙ্গে কথা বলে রাব্বি। ওই দিন থেকে আমার ভাই নিখোঁজ। পরের দিন দুপুর ২টার দিকে ভাইয়ের মরদেহ কার্তিককুলের খুটির ঘাট এলাকার একটি ঘেরের ভেতর থেকে গুলিবিদ্ধ অবস্থায় পাওয়া যায়।
মিম আরও বলেন, ভাই হত্যাকাণ্ডের এক মাস ১০ দিন অতিবাহিত হয়েছে। থানায় মামলা করার পর থেকে এখন পর্যন্ত কাউকে গ্রেপ্তার করতে পারেনি পুলিশ। হত্যাকাণ্ডের মূল রহস্য বের করতে পারেনি তারা। মামলার ভবিষ্যত নিয়েও তিনি সংশয় প্রকাশ করেছেন। ভাই হত্যার বিচার কোনো দিন হবে না। কারণ আমরা গবির মানুষ। মামলা পরিচালনার সামর্থ নেই। তাই ভাই হত্যার বিচার আল্লাহর কাছে সপে দিলাম।
এদিকে হত্যা মামলার সাবেক তদন্ত কর্মকর্তা ও দৌলতপুর থানার ওসি (তদন্ত) এএফএম জাহিদুল ইসলাম বলেন, উর্র্ধ্বতন কর্মকর্তার নির্দেশে মামলার যাবতীয় নথি থানা ডিবি কার্যালয়ে হস্তান্তর করা হয়েছে।
পুলিশের এক কর্মকর্তা জানান, নিহত রাব্বি এক সময়ে সন্ত্রাসী আরমানের সঙ্গে থাকতো। পরবর্তীতে সে একটি বাহিনীতে যোগ দেয়। পরে আরএকটি বাহিনীর সাথে দ্বন্দ্বে জড়িয়ে পড়ে। ওই দুই বাহিনীর যে কেউ একজন এ হত্যাকাণ্ডটি ঘটাতে পারে। তাদের একজন গ্রেপ্তার হলে এই খুনের বিষয়ে সবকিছু জানা যাবে।
খুলনা গেজেট/এনএম

