খুলনার শিববাড়ি মোড়ে দৃষ্টিনন্দন বহুমাত্রিক আধুনিক জিয়া হল নির্মাণ, গল্লামারী ব্রিজের কাজ দ্রুত সম্পন্ন করা, শিপইয়ার্ড সড়ক ও সোনাডাঙ্গা বাইপাস সড়ক টেকসই ও মানসম্মতভাবে নির্মাণের দাবিতে মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়েছে। শনিবার (২৫ জুলাই) বেলা ১১টা থেকে ১২টা পর্যন্ত নগরীর শিববাড়ি চত্বরে ‘বৃহত্তর খুলনা উন্নয়ন সংগ্রাম সমন্বয় কমিটি’র উদ্যোগে এই কর্মসূচি পালিত হয়।
মানববন্ধনে বক্তারা ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, খুলনার যেদিকে তাকাই, শুধু ‘নাই’ আর ‘নাই’। বিভাগীয় শহর হিসেবে খুলনা দীর্ঘদিন ধরেই বঞ্চনার শিকার। আন্দোলন-সংগ্রাম ছাড়া খুলনার কোনো দাবি আজ পর্যন্ত বাস্তবায়ন হয়নি। তাই খুলনাবাসীকে দলমত নির্বিশেষে ঐক্যবদ্ধভাবে আন্দোলনের মাধ্যমেই সব উন্নয়নের দাবি আদায় করতে হবে।
বক্তারা আরও বলেন, দীর্ঘদিন ধরে জিয়া হল ভেঙে ফেলে রাখা হয়েছে। অবিলম্বে আধুনিক নকশা প্রণয়নের মাধ্যমে এই বহুমাত্রিক হলের নির্মাণকাজ শুরু করা খুলনাবাসীর প্রাণের দাবি। এক সময়ের সমৃদ্ধ খুলনা নগরী আজ মৃত নগরীতে পরিণত হয়েছে। খুলনার বন্ধ শিল্প-কলকারখানা অবিলম্বে চালু করে স্থানীয় অর্থনীতিকে সচল ও গতিশীল করতে হবে।
উত্থাপিত অন্যান্য দাবিসমূহ:
১.খুলনা বিমানবন্দর অবিলম্বে নির্মাণ
২.পাইপলাইনের মাধ্যমে খুলনায় গ্যাস সরবরাহ নিশ্চিতকরণ
৩.মোংলা বন্দরের সক্ষমতা বৃদ্ধি ও আকরাম পয়েন্টে গভীর সমুদ্রবন্দর স্থাপন
৪.অর্থনৈতিক জোনের (ইকোনমিক জোন) স্থান দ্রুত নির্ধারণ
৫.খুলনায় মেরিন একাডেমি ও নবথিয়েটার নির্মাণ
৬.রেলওয়ের অব্যবহৃত ২৭৩ একর জায়গা পরিকল্পিত উন্নয়নের আওতায় আনা
৭.রূপসা রিভার ভিউ পার্ক নির্মাণ ও খুলনা শহরের পরিধি বৃদ্ধি
৮.খুলনার টেক্সটাইল মিলের অব্যবহৃত জায়গা ব্যবহারযোগ্য করে গড়ে তোলা।
নেতৃবৃন্দ হুশিয়ারি উচ্চারণ করে বলেন, আমরা দীর্ঘদিন ধরে বঞ্চিত হয়ে আসছি, আর বঞ্চিত হতে চাই না। আমরা এই বঞ্চনার অবসান চাই। অন্যথায় খুলনার আপামর জনসাধারণকে সাথে নিয়ে আরও বৃহত্তর আন্দোলন গড়ে তোলা হবে।
সংগঠনের সভাপতি শেখ আশরাফ উজ জামানের সভাপতিত্বে ও মহাসচিব অ্যাডভোকেট শেখ হাফিজুর রহমান হাফিজের পরিচালনায় মানববন্ধনে বক্তব্য রাখেন- খুলনা-২ আসনের সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট শেখ জাহাঙ্গীর হোসাইন হেলাল, খুলনা উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (কেডিএ) চেয়ারম্যান অ্যাডভোকেট এস এম শফিকুল আলম মনা, খুলনা সিটি কর্পোরেশনের (কেসিসি) প্রশাসক নজরুল ইসলাম মঞ্জু, জামায়াতে ইসলামীর খুলনা মহানগর শাখার আমির অধ্যাপক মো. মাহফুজুর রহমান, বিএনপি নেতা সেকেন্দার জাফরুল্লাহ খান সাচ্চু ও এস এম আসাদুজ্জামান মুরাদ, উন্নয়ন কমিটির সিনিয়র সহ-সভাপতি মো. নিজামউর রহমান লালু, সহ-সভাপতি মিনা আজিজুর রহমান, সাংবাদিক অধ্যাপক মো. আবুল বাসার ও মো. খলিলুর রহমান, ইসলামী আন্দোলন খুলনা মহানগরের সহ-সভাপতি শেখ নাসির উদ্দিন, গণঅধিকার পরিষদের নেতা এইচ এম তাজুল ইসলাম, মো. ইমন শেখ ও রাকিব হাসান, সিপিবি নেতা মিজানুর রহমান বাবু, বিশিষ্ট নারী নেত্রী অধ্যক্ষ রেহানা আক্তার, সাবেক কাউন্সিলর মামনুরা জাকির খুকুমনি, আনজিরা খাতুন, আফরোজা জামান এবং অ্যাডভোকেট শামিমা সুলতানা শিলু, নাগরিক ফোরামের মহাসচিব এস এম ইকবাল হাসান তুহিন, খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক শেখ সারাফাত আলী দুলু ও অফিসার্স কল্যাণ সমিতির সাধারণ সম্পাদক শেখ মোহাম্মদ আলী, কেডিএস-এর সভাপতি আব্দুস সালাম আকন শিমুল ও সাধারণ সম্পাদক মো. সবুর মোড়ল, ‘আমরা বৃহত্তর খুলনাবাসী’র সাধারণ সম্পাদক শেখ ওমর ফারুক কচি, খুলনাস্থ বৃহত্তর চট্টগ্রাম সমিতির আহ্বায়ক আল জামাল ভূঁইয়া, খুলনা মেট্রোপলিটন সাংবাদিক ইউনিয়নের (এমইউজে) সভাপতি মো. রাশেদুল ইসলাম, উন্নয়ন কমিটির যুগ্ম মহাসচিব মো. মনিরুজ্জামান রহিম, সরদার রবিউল ইসলাম রবি, এনামুল হাসান ডায়মন্ড, শেখ গোলাম সরোয়ার ও এস এম আক্তার উদ্দিন পান্নু।
এছাড়াও উন্নয়ন কমিটির নেতা প্রকৌশলী সরদার রফিকুল আলম, বিশ্বাস জাফর আহমেদ, এস এম মুর্শিদুর রহমান লিটন, শেখ আরিফ নেওয়াজ, প্রকৌশলী সেলিমুল আজাদ, ইলিয়াস মোল্লা, অধ্যক্ষ আবুল কালাম আজাদ, এস এম মোর্শেদ উদ্দিন, ইদ্রিস আলী খান, অ্যাডভোকেট এস এম মারুফ আহমেদ, সৈয়দ নওসাদুজ্জামান পল্টু, অধ্যাপক এম এ মান্নান বাবলু, শামসুজ্জামান সঞ্চল, সুজন-এর সাধারণ সম্পাদক এস কে এম তাসাদুজ্জামান, খুলনা মহানগর ছাত্রশিবিরের সভাপতি রাকিব হাসান, জামায়াত নেতা মো. জাহিদুর রহমান নাইম, মসিউর রহমান রমজান, ড. তাহিরুল আহসান ত্বহা, ডা. আবুল সাহেদ, রবিউল ইসলাম, জাফরি নেওয়াজ চন্দন, বিএল কলেজের সাবেক ভিপি অ্যাডভোকেট শেখ জাকিরুল ইসলাম, খুলনা উন্নয়ন ফোরামের মহাসচিব আসিফ ইকবাল, শহীদ জিয়া স্মৃতি সংসদ খুলনা মহানগরের সদস্য সচিব মল্লিক জাহিদুল ইসলাম, মো. আজিমউর রহমান মুরাদ, মো. আসমত হোসেন, মইনুল ইসলাম হিরন, সুজনা জলি, জান্নাতুল ফেরদাউস নাফিসা, এন এম সোহেল ইসলাম, রাকিবুল ইসলাম, নুরুল ইমাম খান মিটু, আলমগীর হোসেন ও হাফিজুর রহমান হান্নান, আতিয়ার রহমানসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক, সামাজিক ও পেশাজীবী সংগঠনের নেতৃবৃন্দ ও সর্বস্তরের জনগণ মানববন্ধনে অংশ নেন।
খুলনা গেজেট/এএজে

