বুধবার । ১লা জুলাই, ২০২৬ । ১৭ই আষাঢ়, ১৪৩৩

দৌলতপুরে যুবদল কর্মী রাশু হত্যা মামলার তদন্তে ধীরগতি, বাদী ও তদন্ত কর্মকর্তার ভিন্নমত

নিজস্ব প্রতিবেদক

খুলনার দৌলতপুর কল্পতরু মার্কেটের ব্যবসায়ী ও যুবদল কর্মী রাশিকুল আলম রাশু হত্যা মামলার তদন্ত চলছে ধীর গতিতে। মামলার ভবিষ্যৎ নিয়েও হতাশা দেখা দিয়েছে পরিবারের সদস্যদের মাঝে। গত তিন মাসের অধিক সময় পার হলেও এ মামলায় চারজন সন্দেহভাজন ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। তাদের কাছ থেকে তেমন কোনো তথ্য উদ্ধার করতে পারেনি তারা। তবে তদন্ত কর্মকর্তার বিরুদ্ধে মামলাটি ভিন্ন পথে পরিচালিত করার অভিযোগ করেছেন রাশুর বাবা। হত্যার কারণ নিয়ে মামলার বাদী ও তদন্ত কর্মকর্তা ভিন্নমত প্রকাশ করছেন।

রাশুর বাবা শরীফুল আনাম বলেন, “এসব হত্যা মামলায় এ পর্যন্ত কিছু হয়নি এবং ভবিষ্যতে কিছুই হবে না। আমার ছেলের মৃত্যুর পর কোনো তদন্ত কর্মকর্তা আমার সাথে দেখা করেনি। ঘটনাস্থলের আশপাশের কারও সাথে দেখা বা তাদের কারও কাছ থেকে কোনো বক্তব্য নেয়নি।”

তিনি বলেন, “খুলনা সিটি কর্পোরেশনের ৪ নং ওয়ার্ডের সাবেক কাউন্সিলর ও খুলনা মহানগর স্বেচ্ছাসেবক লীগের সহ-সভাপতি গোলাম রব্বানী টিপুর সাথে রাজনৈতিক দ্বন্দ্ব ছিল। গত ২০২৫ সালের ৯ জানুয়ারি সন্ধ্যায় কক্সবাজার সমুদ্র সৈকতের বালুচরে পর্যটকদের সমুদ্র দর্শনের জন্য বসানো ছাতার নিচে চেয়ারে আড্ডা দিচ্ছিলেন। এ সময় কতিপয় সন্ত্রাসীর গুলিতে তিনি নিহত হন।” এ দ্বন্দ্বের জেরে তার পরিবার বা কোনো সদস্য রাশুকে হত্যা করেছে বলে তিনি দাবি করেন। ইট-বালু ব্যবসার দ্বন্দ্বের জেরে ছেলেকে হত্যা করা হয় বলে দাবি ভিত্তিহীন বলে তিনি মনে করেন।

রাশুর বাবা বলেন, “আমি ও আমার পরিবার বিএনপি রাজনীতির সাথে সম্পৃক্ত থাকায় ছেলেদের বিরুদ্ধে ৯৭টি মামলা রয়েছে। ছেলে হত্যার তদবির কোনো রাজনীতিবিদদের দিয়ে করাইনি।”

মামলার তদন্ত কর্মকর্তা ইন্সপেক্টর অমিত কুমার দাশ বলেন, “বালু ব্যবসা নিয়ে স্থানীয় একটি সন্ত্রাসী বাহিনীর হাতে খুন হন রাশু। হত্যাকাণ্ডের কয়েকদিন আগে খুলনার স্থানীয় এক সন্ত্রাসী বাহিনী রাশুর ব্যবসা দখল নিতে গুলি করে। লক্ষ্যভ্রষ্ট হয়ে গুলিটি তার ম্যানেজারের গায়ে লাগে। সে যাত্রায় তিনি প্রাণে বেঁচে যান। হত্যাকাণ্ডের আগের দিন দু’জন সন্ত্রাসী এসে রাশুর ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে এসে তাকে খুঁজে না পেয়ে বাবার সাথে কথা বলে যায়। এ মামলায় এ পর্যন্ত চারজন সন্দেহভাজন আসামি গ্রেপ্তার হয়েছে। তারা পেশাদার সন্ত্রাসী হওয়ায় কোনো তথ্য বা আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেয়নি। ঘটনার সময়ে ব্যবহৃত মোটরসাইকেল জব্দ ও মালিক মেহেদীকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। এ মামলায় সন্দেহভাজন যে সকল আসামিদের গ্রেপ্তার করা হয়েছে তারা ঘটনার সময় আশেপাশে ছিল বলে অনেকেই জানিয়েছেন।”

তিনি আরও বলেন, “হত্যাকাণ্ডের সময় ১০ জন সন্ত্রাসী ছিল। এদের মধ্যে কেউ তথ্য সংগ্রহ, কেউ রাশুকে শনাক্ত এবং কেউ সেইফ এক্সিট দেওয়ার কাজ করেছে। তাদের সকলকে শনাক্ত করা হয়েছে। এখন শুধু সময়ের অপেক্ষা। এ হত্যাকাণ্ডের সাথে জড়িত সকলকে গ্রেপ্তার করা হবে।”

উল্লেখ্য, চলতি বছরের ১৭ মার্চ বেলা সাড়ে ১১টার দিকে দৌলতপুরে প্রকাশ্যে দুর্বৃত্তের গুলিতে রাশিকুল আনাম রাশু নিহত হয়। সে দৌলতপুর থানা ছাত্রদলের সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক এবং যুবদলের রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত ছিলেন।

 

খুলনা গেজেট/এনএম




আরও সংবাদ

খুলনা গেজেটের app পেতে ক্লিক করুন