যশোরে ফেনসিডিলের মামলায় ঝিনাইদহের কালীগঞ্জের পিকআপ চালক মুক্তার হোসেনকে যাবজ্জীবন সশ্রম কারাদণ্ড ও অর্থদণ্ডের আদেশ দিয়েছেন আদালত। একই সঙ্গে ফেনসিডিল বহনের কাজে ব্যবহৃত পিকআপটি রাষ্ট্রের অনুকূলে বাজেয়াপ্ত করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। বৃহস্পতিবার (৯ জুলাই) যশোরের বিশেষ জজ (জেলা ও দায়রা জজ) এস. এম. নূরুল ইসলাম এ রায় ঘোষণা করেন।
সাজাপ্রাপ্ত মুক্তার হোসেন ঝিনাইদহ সদর উপজেলার নাটাবাড়িয়া গ্রামের একিম আলী মণ্ডলের ছেলে। তিনি কালীগঞ্জ উপজেলার তেলকুপি গ্রামের রেজাউল শেখের ঘরজামাই হিসেবে বসবাস করতেন।
বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন সংশ্লিষ্ট আদালতের এপিপি আনিসুর রহমান পলাশ।
মামলা সূত্রে জানা যায়, ২০১৭ সালের ১২ ডিসেম্বর গভীর রাতে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে বেনাপোলের রঘুনাথপুর ক্যাম্পের বিজিবি সদস্যরা নারায়ণপুর ত্রিপুরাপাড়া ব্রিজ এলাকায় অভিযান চালান। এ সময় এক টন ধারণক্ষমতাসম্পন্ন একটি কাভার্ড পিকআপের গতিরোধ করে তল্লাশি চালানো হয়। তল্লাশিকালে গাড়ির ভেতরে বিশেষ কায়দায় তৈরি করা গোপন চেম্বার থেকে ৯১০ বোতল ভারতীয় ফেনসিডিল উদ্ধার করা হয়। এ সময় ফেনসিডিল বহনে ব্যবহৃত পিকআপটি জব্দ করা হয় এবং চালক মুক্তার হোসেনকে আটক করা হয়। এ ঘটনায় পরদিন বিজিবির হাবিলদার মামুনুর রশিদ বাদী হয়ে মুক্তার হোসেনের বিরুদ্ধে বেনাপোল পোর্ট থানায় মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে মামলা দায়ের করেন।
মামলার তদন্ত শেষে বেনাপোল পোর্ট থানার পরিদর্শক ফিরোজ উদ্দিন মুক্তার হোসেনকে অভিযুক্ত করে আদালতে অভিযোগপত্র (চার্জশিট) দাখিল করেন।
মামলার দীর্ঘ সাক্ষ্যগ্রহণ শেষে আদালত আসামি মুক্তার হোসেনের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ সন্দেহাতীতভাবে প্রমাণিত হওয়ায় তাকে যাবজ্জীবন সশ্রম কারাদণ্ড, পাঁচ হাজার টাকা অর্থদণ্ড এবং অনাদায়ে আরও ছয় মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ডের আদেশ দেন। একই সঙ্গে ফেনসিডিল বহনে ব্যবহৃত পিকআপটি রাষ্ট্রের অনুকূলে বাজেয়াপ্ত করার নির্দেশ দেওয়া হয়। সাজাপ্রাপ্ত মুক্তার হোসেন বর্তমানে কারাগারে আটক রয়েছেন।
খুলনা গেজেট/এএজে

