স্মৃতিতে চব্বিশের গণঅভ্যুথান

ক্লাস-পরীক্ষা বর্জনসহ ‘বাংলা ব্লকেড’

কাজী মোতাহার রহমান

৭ জুলাই ২০২৪। কোটাবিরোধী আন্দোলনে কোনো যুক্তি নেই বলে মন্তব্য করেন সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। যুব মহিলা লীগের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর অনুষ্ঠানে তিনি এ কথা বলেন। কোটা বাতিলের জন্য আন্দোলন করায় লেখাপড়ার ক্ষতি হচ্ছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, “আমরা কোটা বাতিল করেছিলাম। কিন্তু এতে লাভ কী হলো। অনেক মেয়ে চাকরি থেকে বঞ্চিত হয়েছে। অনেক জেলার মানুষও বঞ্চিত হয়েছে। এরকমই একজন মামলা করেছে।”

এর পরদিন ৮ জুলাই সরকারি চাকরিতে কোটা ব্যবস্থা বাতিল করে ২০১৮ সালের পরিপত্র পুনর্বহালের দাবিতে দু’দিন ধরে সড়ক অবরোধ করে আন্দোলন করেন শিক্ষার্থী ও চাকরি প্রত্যাশীরা।

ক্লাস-পরীক্ষা বর্জনসহ ‘বাংলা ব্লকেড’ কর্মসূচি ঘোষণা : হাইকোর্ট কর্তৃক প্রথম ও দ্বিতীয় শ্রেণির সরকারি চাকরিতে ৩০ শতাংশ মুক্তিযোদ্ধা কোটাসহ ৫৬ শতাংশ কোটা পুনর্বহালের আদেশের বিরুদ্ধে এবং ২০১৮ সালের পরিপত্র পুনর্বহালের দাবিতে ৭ জুলাই ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়সহ দেশের সব বিশ্ববিদ্যালয়ে ক্লাস- পরীক্ষা বর্জন কর্মসূচি ঘোষণা দেয় কোটা সংস্কার আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা।

সারা দেশের সব পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের গুরুত্বপূর্ণ স্থানে ‘বাংলা ব্লকেড’ কর্মসূচি শুরু হবে বলে ৬ জুলাই বিকেল সাড়ে ৫টায় শাহবাগ মোড়ে অবরোধ শেষে এই ঘোষণা দেন কোটা আন্দোলনের অন্যতম সমন্বয়ক নাহিদ ইসলাম।

তিনি বলেন, “আমরা শুধু শাহবাগে বসে থাকব না। আমরা নির্বাহী বিভাগের কাছে জানতে চাই ২০১৮ সালের পরিপত্র কেন বাতিল করা হলো? শিক্ষকদের আন্দোলন কিন্তু বন্ধ হয়ে যাবে, আমাদের আন্দোলন বন্ধ হবে না। এরই মধ্যে সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীরা ক্লাস পরীক্ষা বর্জন করে আমাদের সঙ্গে একাত্মতা ঘোষণা করেছে। আমাদের দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত আমরা ক্লাসে ফিরে যাব না।”

শিববাড়িতে অবরোধ : বিকেল ৪টায় টানা চতুর্থ দিনের মতো বিক্ষোভ মিছিল ও অবস্থান কর্মসূচি পালন করে খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়সহ সরকারি-বেসরকারি বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীরা। বিশ্ববিদ্যালয়ের হাদী চত্বর থেকে খুলনা নগরীর প্রধান প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ করে বৃষ্টির মধ্যে শিববাড়ি মোড়ে অবস্থান কর্মসূচি পালন করে। এ কর্মসূচিতে নগরীর সকল শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীদের যুক্ত হয়।

শিক্ষার্থী সানজিদা আক্তার বলেন, “আমি নারী কিন্তু আমি কোনো কোটা চাই না কারণ আমি নিজের যোগ্যতায় পড়াশোনা করে চাকরি পাওয়ার প্রত্যাশা রাখি। যতদিন পর্যন্ত আমাদের দাবি মেনে নেওয়া না হবে ততদিন পর্যন্ত আমরা আমাদের আন্দোলন চালিয়ে যাব।”

শিক্ষার্থী সাদিয়া ইসলাম বলেন, “আমি মনে করি আমাদের নারী কোটার কোনো প্রয়োজন নেই। আমরা অবিলম্বে হাইকোর্টের রায় বাতিল চাই এবং সরকারি পরিপত্রের পুনঃ জারি চাই।”

কুয়েটের শিক্ষার্থীদের অবস্থান কর্মসূচি : খুলনা প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা সরকারি চাকরিতে কোটা পদ্ধতি সংস্কার ও মেধাভিত্তিক নিয়োগ নিশ্চিতের দাবিতে অবস্থান কর্মসূচি পালন করে। বিশ্ববিদ্যালয়ের “দুর্বার বাংলা” পাদদেশে বেলা সাড়ে ১১টা থেকে সাড়ে ১২টা পর্যন্ত এক ঘণ্টা অবস্থান কর্মসূচি পালিত হয়। অবস্থান কর্মসূচি পালন করে সাধারণ শিক্ষার্থীরা ‘কোটা নয় মেধা’, ‘কোটা মানে ভিক্ষা’, জেগেছে রে, জেগেছে, ছাত্রসমাজ জেগেছে। বিভিন্ন ধরনের স্লোগান দেয়।

অবস্থান কর্মসূচি পালনের পর সাধারণ শিক্ষার্থীদের পক্ষ থেকে সংক্ষিপ্ত প্রেস ব্রিফিংয়ে বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থী জাহিদ বলেন, “কোটাবিরোধী আন্দোলনের কর্মসূচির অংশ হিসেবে আমরা কুয়েটের সাধারণ শিক্ষার্থীরা কোটা সংস্কার আন্দোলনের পক্ষে অবস্থান কর্মসূচি পালন করলাম।”

খুলনায় রাত ৮টার পর দোকান-মার্কেট বন্ধের নির্দেশ : প্রতিদিন রাত ৮টার পর দোকান ও মার্কেট বন্ধের নির্দেশনা দেওয়া হয়। সেই সঙ্গে সপ্তাহে দেড় দিন এসব ব্যবসা প্রতিষ্ঠান বন্ধ রাখতেও বলা হয়। খুলনার কলকারখানা ও প্রতিষ্ঠান পরিদর্শন অধিদপ্তর এক বিজ্ঞপ্তিতে এ নির্দেশনা দেয়।

৮ জুলাই দু’দিন ধরে সড়ক অবরোধ করে আন্দোলন করেন শিক্ষার্থী ও চাকরি প্রত্যাশীরা। ৯ জুলাই সড়ক অবরোধ থাকছে না, ক্লাস-পরীক্ষা বর্জন ও ছাত্র ধর্মঘট চলবে বলে আজকের কর্মসূচি থেকে জানানো হয়। ৮ জুলাই রাত সাড়ে ৮টায় শাহবাগ মোড় থেকে আন্দোলনের পরবর্তী কর্মসূচি ঘোষণা করেন বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের অন্যতম সংগঠক ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী নাহিদ ইসলাম। তিনি বলেন, “৯ জুলাই সারা দেশে, যত শিক্ষার্থী প্রতিনিধি রয়েছে তাদের সাথে গণসংযোগ করব। ১০ জুলাই কঠোর কর্মসূচি দেওয়া হবে।”

তৎকালীন সরকারের আশ্বাস : আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এবং সাবেক সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের বলেন, “আদালতের চূড়ান্ত রায় না হওয়া পর্যন্ত কোটা বাতিলের দাবিতে আন্দোলনকারীদের অপেক্ষা করতে হবে। ৮ জুলাই আওয়ামী লীগ সভাপতির ধানমন্ডির রাজনৈতিক কার্যালয়ে এক প্রেস ব্রিফিংয়ে এ কথা বলেন তিনি।”

তিনি বলেন, “সরকার কোটা বাতিল আন্তরিক বলেই উচ্চ আদালতে আপিল করেছে। আদালতের চূড়ান্ত রায় না হওয়া পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হবে। রাস্তাঘাট বন্ধ করে জনদুর্ভোগ সৃষ্টি করা পরিহার করা উচিত।”

জাতীয় পার্টির অবস্থান : জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান জিএম কাদের বলেন, “সরকারের ওপর আস্থাহীনতার কারণে দেশে কোটা ও পেনশন নিয়ে আন্দোলন হচ্ছে। এ আন্দোলন যৌক্তিক ও সমর্থনযোগ্য। আমাদের দেশের প্রেক্ষাপটে আস্থাহীনতা বিরাজ করছে। সাধারণ মানুষ সরকারের প্রতি আস্থা পাচ্ছে না। সরকার তাদের অনুগতদের চাকরিতে নিয়ে আসছে মুক্তিযোদ্ধা কোটা ব্যবহার করে। আর এ জন্য ছাত্ররা আন্দোলন করছে, সরকার যেন চাপের মুখে সেটি তুলে নেয়। ৮ জুলাই বিকেল ৩টার দিকে রংপুর সার্কিট হাউস প্রাঙ্গণে সাংবাদিকদের তিনি এসব কথা বলেন।”

শিক্ষক-কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের সর্বাত্মক কর্ম বিরতি অব্যাহত : সর্বজনীন পেনশন সংক্রান্ত বৈষম্যমূলক প্রজ্ঞাপন প্রত্যাহার, সুপার গ্রেডে অন্তর্ভুক্তকরণ ও স্বতন্ত্র বেতন স্কেল বাস্তবায়নের দাবিতে খুলনার তিনটি পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ে অচলাবস্থা বিরাজ করে। ৮ জুলাই বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষকদের সর্বাত্মক কর্মবিরতির ষষ্ঠ দিন অতিবাহিত হয়। বাংলাদেশ বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক সমিতি ফেডারেশন ও দেশের সকল পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক সমিতির আহ্বানে দেশব্যাপী কর্মসূচির অংশ হিসেবে বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে শিক্ষক সমিতির আয়োজনে এ কর্মবিরতি অব্যাহত ছিল।

খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়, খুলনা প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় ও খুলনা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ে এসব কর্মসূচি পালিত হয়। এ নিয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ে অচলাবস্থা বিরাজ করে।

সর্বাত্মক কর্মবিরতির কারণে সকল ডিসিপ্লিনের ক্লাস, অনলাইন, সান্ধ্যকালীন ক্লাস, প্রফেশনাল কোর্স ক্লাস, মিডটার্ম, ফাইনাল ও ভর্তি পরীক্ষাসহ সকল ধরনের পরীক্ষা ও দাপ্তরিক কার্যক্রম বন্ধ ছিল। বৈষম্যমূলক ও মর্যাদাহানিকর প্রত্যয় স্কিম থেকে শিক্ষকদের অন্তর্ভুক্ত প্রত্যাহারের, স্বতন্ত্র বেতন স্কেল প্রবর্তন, সুপার গ্রেড এ বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকদের অন্তর্ভুক্তির দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত এ সর্বাত্মক কর্মবিরতি অব্যাহত ছিল।

খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ে সর্বাত্মক কর্মবিরতি চলাকালে দুপুর ১২টা থেকে ১টা পর্যন্ত শিক্ষকরা অবস্থান কর্মসূচি পালন করে। এ উপলক্ষ্যে সভায় শিক্ষক সমিতির সভাপতি প্রফেসর ড. এস এম ফিরোজ সভাপতিত্ব করেন। সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ রকিবুল হাসান সিদ্দিকী সঞ্চালনা করেন। অবস্থান কর্মসূচিতে বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন ডিসিপ্লিনের শিক্ষকরা বক্তৃতা করেন। সর্বজনীন পেনশন বিধিমালা-২০২৩ এর প্রত্যয় স্কিম থেকে খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের সকল পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়কে প্রত্যাহার এবং নিয়োগ, পদোন্নতি ও পদোন্নয়নের ক্ষেত্রে ইউজিসি কর্তৃক সুপারিশকৃত অভিন্ন নীতিমালায় বাংলাদেশ আন্তঃবিশ্ববিদ্যালয় অফিসার্স ফেডারেশনের ১২ দফা অন্তর্ভুক্তির দাবিতে টানা দ্বিতীয় দিন পূর্ণদিবস কর্মবিরতি পালন করে খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা। খুলনা বিশ্ববিদ্যালয় অফিসার্স কল্যাণ পরিষদের উদ্যোগে সকাল ১০টায় পরিষদের সভাপতি উপ-রেজিস্ট্রার দীপক চন্দ্র মণ্ডলের সভাপতিত্বে ও সাধারণ সম্পাদক উপ-রেজিস্ট্রার মোঃ শহিদুল আলম হাওলাদারের সঞ্চালনায় অবস্থান কর্মসূচি পালিত হয়।

অবস্থান কর্মসূচিতে বক্তৃতা করেন প্রধান প্রকৌশলী (ভারপ্রাপ্ত) এস এম মনিরুজ্জামান, উপ-রেজিস্ট্রার মোঃ আলী আকবর, উপপরিচালক এইচ এম শাহরিয়ার কামাল, সহকারী রেজিস্ট্রার আলোকা রানী দাস, সহকারী রেজিস্ট্রার মোঃ ফেরদৌস, সায়েন্টিফিক অফিসার অজি ইসলাম এবং কর্মচারীদের মধ্যে মাকসুদ হাশমত জামান প্রমুখ।

সাচিবুনিয়া মোড়ে অবরোধ : চলমান কোটা বিরোধী আন্দোলনের পঞ্চম দিনের কর্মসূচি হিসেবে ৮ জুলাই খুলনার সাচিবুনিয়া বিশ্বরোড মোড়ে অবরোধ করে খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাধারণ শিক্ষার্থীরা। এর আগে এ বিক্ষোভ মিছিল বেলা সাড়ে ৩টার দিকে ক্যাম্পাসের হাদী চত্বর থেকে নগরীর গল্লামারী মোড় হয়ে সাচিবুনিয়া বিশ্বরোড মোড়ের উদ্দেশ্যে রওনা দেয়। তারা এবার এক দফা এক দাবি নিয়ে সকল গ্রেডে সকল প্রকার অযৌক্তিক ও বৈষম্যমূলক কোটা বাতিল করে সংসদে আইন পাশ করার দাবিতে বিক্ষোভ মিছিল ও অবস্থান কর্মসূচি পালন করে।

প্রথম অনলাইনভিত্তিক প্রতিষ্ঠান ‘থট বিহাইন্ড দ্যা কে ইউ’ : টানা পঞ্চম দিনের কর্মসূচির অংশ হিসেবে খুলনার সাচিবুনিয়া বিশ্বরোড অবরোধ করেন খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা। এসময় খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের জনপ্রিয় অনলাইন প্লাটফর্ম “Thought behind The KU ” এর পক্ষ থেকে আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের মাঝে সুপেয় পানি ব্যবস্থা এবং ঞযড়ঁমযঃ ইবযরহফ কট এর পেজের পক্ষ থেকে আন্দোলনের অবস্থা সরাসরি লাইভের মাধ্যমে জানানো হয়।

এ প্রসঙ্গে টিবিটিকিউ চীফ অপারেটিং ম্যানেজার মাহফুজুর রহমান বলেন, “প্রতিষ্ঠার শুরু থেকেই থট বিহাইন্ড দ্যা কেইউ খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের চিন্তা ভাবনা প্রচার করে আসছে। এছাড়া খুবির শিক্ষার্থীদের যে-কোনো যৌক্তিক দাবি আদায়ে সব সময় পাশে আছে। আজকে আন্দোলনকারীদের পানি পান করানো আমাদের কোটা বিরোধী আন্দোলন সংহতি জানানোরই একটা অংশ।”

এক্সিকিউটিভ ডিরেক্টর দুর্জয় সাহা বলেন, “সারা দেশব্যাপী সময়োপযোগী এই কোটা বিরোধী আন্দোলনে সারাদেশের ন্যায় ক্যাম্পাসের শিক্ষার্থীরাও তাদের আন্দোলন অব্যাহত রেখেছে। তাদের এই যোগ্য দাবি আদায়ে পাশে থাকার চেষ্টা করছে খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের অন্যতম সংগঠন এবং অনলাইনভিত্তিক প্লাটফর্ম Thoughts behind the KU. টিবিটিকিউ খুলনা বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থীদের দ্বারা প্রতিষ্ঠিত ও পরিচালিত প্রথম অনলাইনভিত্তিক সংগঠন।

 

খুলনা গেজেট/এনএম




আরও সংবাদ

খুলনা গেজেটের app পেতে ক্লিক করুন