শিক্ষার আলো বনাম ভাগ্যের পরিহাস: ভারতের চার মুসলিম বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠাতা

মোহাম্মদ সাদউদ্দিন

একটি প্রচলিত ধারণা রয়েছে যে, ভারতীয় মুসলিমরা কেবল মাদ্রাসাই তৈরি করেন। কিন্তু এই ধারণাকে ভুল প্রমাণ করে ভারতীয় মুসলিমদের উচ্চশিক্ষা ও ইঞ্জিনিয়ারিং কলেজ গড়ার এক জ্বলন্ত উদাহরণ সৃষ্টি করেছেন আজম খান, মাহবুবুল হক, জাভেদ আহমেদ এবং হাজি মোহাম্মদ ইকবাল।

ভারতে এমন চারজন মুসলিম ব্যক্তিত্ব রয়েছেন, যারা যুবসমাজের উজ্জ্বল ভবিষ্যৎ এবং উচ্চশিক্ষার প্রসারে নিজেদের সম্পূর্ণ উজাড় করে দিয়েছেন, গড়ে তুলেছেন বিশাল সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান। অথচ আজ ভাগ্যের নির্মম পরিহাসে তাদের কেউ জেলে বন্দি, আবার কেউবা জামিনে মুক্ত।

নিচে তাদের সংক্ষিপ্ত পরিচয় তুলে ধরা হলো:

আজম খান
২০০৬ সালে উত্তর প্রদেশের রামপুর জেলায় তিনি প্রতিষ্ঠা করেন ‘মাওলানা মুহাম্মদ আলী জোহর বিশ্ববিদ্যালয়’। হাজারো শিক্ষার্থীর ভবিষ্যৎ গড়ার কারিগর এই মানুষটি আজ নিজেই জেলের চার দেওয়ালে বন্দি।

মাহবুবুল হক
২০১১ সালে মেঘালয়ের রিবই জেলায় তিনি ‘ইউনিভার্সিটি অফ সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি মেঘালয়া’ (USTM)-এর ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেন। বর্তমানে এই বিশ্ববিদ্যালয়টি ভারতের অন্যতম সেরা শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের একটি। শিক্ষাক্ষেত্রে এত বড় অবদানের পরও বর্তমানে তিনি জামিনে মুক্ত আছেন।

জাভেদ আহমদ সিদ্দিকী
১৯৯৭ সালে হরিয়ানার ফরিদাবাদ জেলায় তিনি গড়ে তোলেন ‘আল-ফালাহ বিশ্ববিদ্যালয়’। যুগের পর যুগ শিক্ষার আলো ছড়ানো এই গুণী মানুষটি আজ কারাগারের অন্ধকারে দিন কাটাচ্ছেন।

হাজি মোহাম্মদ ইকবাল
২০১১ সালে উত্তর প্রদেশের সাহারানপুর জেলায় তিনি ‘গ্লোকাল বিশ্ববিদ্যালয়’ প্রতিষ্ঠা করেন। হাজারো তরুণ-তরুণীর উচ্চশিক্ষার স্বপ্নপূরণকারী এই মানুষটি বর্তমানে জামিনে আছেন, অথবা আইনি জটিলতার কারণে পলাতক।

যে হাতগুলো তরুণদের হাতে কলম আর খাতা তুলে দেওয়ার জন্য বিশ্ববিদ্যালয় তৈরি করেছিল, আজ সেই হাতগুলোই আইনি বেড়াজালে বন্দি।

মুসলিম মনীষীদের শিক্ষাক্ষেত্রে অবদান শুধু বর্তমান যুগেই সীমাবদ্ধ নয়, এর ইতিহাস বেশ প্রাচীন:

হাজী মুহাম্মদ মহসীন: তিনি কেবল শিক্ষাফান্ডই গড়েননি, বরং সাধারণ মানুষের জন্য ‘মহসীন কলেজ’, ‘হুগলী সরকারি মাদ্রাসা’ এবং ‘হুগলী ইমামবাড়া হাসপাতাল’ প্রতিষ্ঠা করেছিলেন। রাজা রামমোহন রায়ের সমাজ সংস্কার আন্দোলনের প্রায় ৪০ বছর আগেই তিনি এসব মহৎ কাজ সম্পন্ন করেন।

স্যার সৈয়দ আহমদ খান: ভারতের স্বাধীনতার বহু আগে তিনি ‘আলিগড় মুসলিম বিশ্ববিদ্যালয়’ গড়ে তোলেন। এই মহান কাজে তৎকালীন মুসলিম নেতৃবৃন্দ ও সাধারণ কৃষক সমাজ তাকে অকপটে সহযোগিতা করেছিলেন।

নবাব আব্দুল লতিফ: বাঙালি মুসলিম নবজাগরণের অন্যতম এই অগ্রনায়কের হাত ধরেই কলকাতার হিন্দু কলেজ নতুন রূপ পায়, যা পরবর্তীতে ‘প্রেসিডেন্সি কলেজ’ এবং বর্তমানে ‘প্রেসিডেন্সি বিশ্ববিদ্যালয়’ নামে পরিচিত।

ওয়ারেন হেস্টিংস ও আলিয়া বিশ্ববিদ্যালয়: ১৭৮০ সালে লর্ড ওয়ারেন হেস্টিংসের আমলে প্রতিষ্ঠিত ‘কলকাতা মাদ্রাসা’ আজ আধুনিক ‘আলিয়া বিশ্ববিদ্যালয়’-এ রূপান্তরিত হয়েছে।

নবাব সলিমুল্লাহ: আধুনিক ঢাকাগড়ার এই রূপকারের দেওয়া দানকৃত জায়গার ওপরেই ১৯২০-২১ সালে প্রতিষ্ঠিত হয় ঐতিহ্যবাহী ‘ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়’। এমনকি বর্তমান ঢাকা মেডিকেল কলেজ এবং বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয় (বুয়েট)-ও তার দেওয়া জমির ওপরেই নির্মিত।

খুলনা গেজেট/এএজে




আরও সংবাদ

খুলনা গেজেটের app পেতে ক্লিক করুন