স্মৃতিতে চব্বিশের গণঅভ্যুত্থান

উত্তাল রাজপথে বি. কে. ইউনিয়ন ইনস্টিটিউশনের শিক্ষার্থীরা

কাজী মোতাহার রহমান

ব্রিটিশ বিরোধী আন্দোলনে বি কে ইউনিয়ন ইনস্টিটিউশনের ছাত্রদের উল্লেখযোগ্য ভূমিকা ছিল। তারা অসহযোগ আন্দোলন, আইন অমান্য আন্দোলন ও ভারত ছাড় আন্দোলনে সক্রিয় অংশ নেয়। এ প্রতিষ্ঠানে ব্রিটিশ জমানায় বাম ধারায় বিশ্বাসী ছাত্র ফেডারেশনের তৎপরতা ছিল। ১৯৪২ সালের ৮ আগস্ট নিখিল ভারত কংগ্রেস কমিটির মুম্বাই অধিবেশনে ভারত ছাড় আন্দোলনের সিদ্ধান্ত হয়। এ আন্দোলনে দৌলতপুর থানার সেনহাটি, চন্দনীমহল, রূপসা থানার আজগড়া, মডেল মাধ্যমিক বিদ্যালয় ও বি কে ইউনিয়ন ইনস্টিটিউশনের শিক্ষার্থীরা অংশ নেয়। জাতীয় নেতৃবৃন্দের মুক্তি ও ‘ভারত ছাড়’ আন্দোলন সফল করতে এ প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীরা ১২ আগস্ট ছাত্র ধর্মঘটে অংশ নেয়। শিক্ষার্থীরা শহরে এক মিছিল বের করে।

১৪ আগস্ট একই দাবিতে তারা শহরে বিক্ষোভ মিছিলে অংশ নেয়। এ আন্দোলনের সমর্থনে ১৫ আগস্ট কংগ্রেস নেতা ও খুলনা মিউনিসিপ্যালিটির কমিশনার দেব রঞ্জন সেন পদ থেকে (কমিশনার) পদত্যাগ করেন। ১৮ আগস্ট কংগ্রেসের ডাকা খুলনা শহরে হরতাল সফল করতে শিক্ষার্থীরা রাজপথে নামে। ভারতের স্বাধীনতা আন্দোলনে শিক্ষার্থীরা সাহসী ভূমিকা রাখে। ১৯৪৭ সালের পাকিস্তানের স্বাধীনতার পর বায়ান্ন সালের ভাষা আন্দোলনেও এ প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীরা অন্যান্যের সাথে রাজপথে নামে। উল্লেখযোগ্য ভূমিকা ছিল এ বিদ্যাপীঠের অষ্টম শ্রেণির ছাত্র মোঃ এনায়েত আলি (পরবর্তীতে পৌরসভার চেয়ারম্যান ও সংসদ সদস্য) ও সাহিত্যিক দোলখোলার রুহুল আমিন সিদ্দীকি।

৬৯’র গণঅভ্যুত্থানে প্রতিষ্ঠানের প্রাক্তন শিক্ষার্থীদের ভূমিকা ছিল দৃশ্যমান। এ সময়ের উল্লেখযোগ্যরা হচ্ছেন ছাত্র ইউনিয়নের মোঃ লিয়াকত আলী, ছাত্রলীগের হুমায়ুন কবীর বালু ও এনএসএফ’র আশরাফ উল হক। পরবর্তীতে তারা সংবাদপত্রের সাথে সম্পৃক্ত হয়। পূর্বসূরিদের পদাঙ্ক অনুসরণ করে ২০২৪ সালের জুলাই-আগস্ট মাসের কোটাবিরোধী আন্দোলনে সকল শ্রেণির ছাত্ররা স্বতঃস্ফূর্তভাবে অংশ নেয়।

আন্দোলনের স্মৃতিচারণ করতে গিয়ে নবম শ্রেণির শিক্ষার্থী মোঃ শিহাবুল ইসলাম বলেন, ১৮ জুলাই পুলিশের গাড়ি থেকে নিক্ষিপ্ত গরম পানি উপেক্ষা করে ছাত্র আন্দোলনে অংশ নেই। শিববাড়ি পর্যন্ত যেতে মোড়ে-মোড়ে পুলিশের বাঁধার সম্মুখীন হই। এ আন্দোলনের এক পর্যায়ে শিববাড়ি থেকে ময়লাপোতা আসার পথে পুলিশের টিয়ারশেল ও রাবার বুলেটে আহত হই। এ প্রতিষ্ঠানের আরও কয়েকজন গুলিবিদ্ধ হয়। স্মৃতিচারণের এক পর্যায়ে উল্লেখ করেন তার দুই সহোদর বুয়েট এর ফয়সাল আহমেদ ইমন ও খুবির রাহানুর রহমান, বঙ্গবন্ধু কলেজের মাধুর্যো বিশ^াস এবং জিলা স্কুলের ফাহিম ফয়সাল আন্দোলনে অংশ নেন। ১৮ জুলাই থেকে ৫ আগস্ট পর্যন্ত শিববাড়ি, জিরো পয়েন্ট ও খুবি প্রাঙ্গণের বিভিন্ন কর্মসূচিতে তিনি অংশ নেন। ৫ ও ৬ আগস্টের বিজয় মিছিল ছিল তার জীবনের সবচেয়ে স্মরণীয়।

 

খুলনা গেজেট/এনএম




আরও সংবাদ

খুলনা গেজেটের app পেতে ক্লিক করুন