যবিপ্রবির গবেষণায় করোনা শনাক্তে সাইবারগ্রিন পদ্ধতি উদ্ভাবন

যশোর প্রতিনিধি

যশোর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (যবিপ্রবি) একদল গবেষক করোনাভাইরাস শনাক্তে সাইবারগ্রিন পদ্ধতি উদ্ভাবন করেছে। এই পদ্ধতিতে করোনা শনাক্ত করতে প্রতি নমুনার জন্য বাংলাদেশি টাকায় মাত্র ১৪০ টাকা খরচ হবে। পরীক্ষায় সময় লাগবে মাত্র ৯০ মিনিট। সোমবার বেলা ১১টায় যবিপ্রবির সম্মেলন কক্ষে সাংবাদিক সম্মেলনে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য ও জিনোম সেন্টারের পরিচালক অণুজীব বিজ্ঞানী অধ্যাপক ড. আনোয়ার হোসেন নতুন এ ঘোষণা দেন।

লিখিত বক্তব্যে তিনি বলেন, পরীক্ষা করে দেখা গেছে সাইবারগ্রিন পদ্ধতিতে করোনা শনাক্তের সেনসিটিভিটি প্রচলিত অন্যান্য কিটের সমপর্যায়ের। এই গবেষণাটি প্রিপ্রিন্ট আকারে ‘medrxiv’ সার্ভারে পাওয়া যাচ্ছে এবং একটি পিয়ার রিভিউড জার্নালে প্রকাশের অপেক্ষায় রয়েছে। তিনি বলেন, সরকারের সহায়তা পেলে আমরা এ গবেষণাকে কাজে লাগিয়ে খুব সহজে এবং কম খরচে করোনা শনাক্তের কাজটি দেশে করতে সক্ষম হবো।

উপাচার্য্য আরো বলেন, পার্শ্ববর্তী দেশ ভারতে সংক্রমণশীল নতুন ধরণ আমাদের মধ্যে এক ধরনের শঙ্কার সৃষ্টি করেছে। ইতমধ্যে এ ভ্যারিয়েন্টের হোল জিনোম সিকোয়েন্সিং এবং স্পাইক প্রোটিনের সিকোয়েন্সিং সম্পন্ন করে জিএসআইডি ডাটাবেজে জমা দেয়া হয়েছে। পাশাপাশি গত মার্চ ও এপ্রিল মাসে এই অঞ্চলে সংক্রমণ সৃষ্টিকারী ১০০টির মতো ভাইরাসের নমুনার স্পাইক প্রোটিন সিকোয়েন্স করা হয়েছে। ভাইরাসগুলোর মধ্যে উচ্চ সংক্রমণ ক্ষমতা সম্পন্ন সাউথ আফ্রিকান ভ্যারিয়েন্টের সংখ্যা সবচেয়ে বেশি। এছাড়া আমরা স্পাইক প্রোটিনে কিছু বিরল মিউটেশন পেয়েছি, যা এই অঞ্চলে এখনো দেখা যায়নি। সেই মিউটেশনগুলোর প্রভাব নিয়ে আমরা কাজ করছি। এ ধরনের মিউটেশনগুলো সংক্রমণ ক্ষমতার উপর কিংবা রোগের ভয়াবহতার উপর কেমন প্রভাব ফেলতে পারে তা নিয়ে গবেষণা চলছে এবং শীঘ্রই সে গবেষণার ফলাফল আমরা প্রকাশের জন্য উন্মুক্ত করবো।

বাংলাদেশের ব্যাংকনোটে করোনা ভাইরাসের আরএনএর উপস্থিতির বিষয়ে এক গবেষণাপত্রের সূত্র ধরে অধ্যাপক ড. আনোয়ার হোসেন বলেন, আমাদের গবেষক দল দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে প্রাপ্ত ব্যাংকনোটে ভাইরাসের আরএনএর উপস্থিতি পেয়েছেন। গবেষক দল ব্যাংকনোটে ৭২ ঘণ্টা পর্যন্ত ভাইরাসের এন-জিনের উপস্থিতি এবং ৮ থেকে ১০ ঘণ্টা পর্যন্ত ওআরএফ জিনের স্থায়িত্ব শনাক্ত করতে পেরেছেন। এই গবেষণাপত্রটি ইতিমধ্যেই একটি জার্নালে প্রকাশিত হয়েছে। তিনি বলেন, নিরাপদ থাকতে বর্তমানে যে টিকা দেয়া হচ্ছে, সেটা নেয়ার পাশাপাশি স্বাস্থ্যবিধি মানতে হবে। বিশেষ করে মাস্ক পরতে হবে। কারণ মাস্ক আমাদের ৯৫ শতাংশ সুরাক্ষা দিতে সক্ষম।

উপাচার্য বলেন, আপনাদের সর্বাত্মক সহযোগিতা ও সমর্থন অব্যাহত থাকলে ভবিষ্যতে বিএসএল-৩ ল্যাবরেটরি স্থাপন করে ভ্যাকসিন তৈরিসহ আরও উচ্চমানের গবেষণা করতে আমাদের গবেষণা দল প্রস্তুত রয়েছে বলেও তিনি জানান। এ মহাদুর্যোগকালে যশোর, মাগুরা, ঝিনাইদহ, নড়াইল, চুয়াডাঙ্গা, মেহেরপুর, সাতক্ষীরা ও বাগেরহাট জেলার করোনা সন্দেহভাজনদের নমুনা শনাক্তের কাজ করে আমরা সাধারণ মানুষের পাশে দাঁড়ানোর চেষ্টা করছি।

সাংবাদিক সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন জিনোম সেন্টারের সহকারী পরিচালক প্রফেসর ড. ইকবাল কবীর জাহিদ, অণুজীব বিজ্ঞান বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. সেলিনা আক্তার, পুষ্টি ও খাদ্য প্রযুক্তি বিভাগের চেয়ারম্যান ড. শিরিন নিগার, বায়ো-মেডিকেল ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের চেয়ারম্যান ড. হাসান আল-ইমরান, অণুজীব বিজ্ঞান বিভাগের সহকারী অধ্যাপক শোভন লাল সরকার, গবেষক তনয় চক্রবর্তী প্রমুখ।

 

খুলনা গেজেট/এনএম




খুলনা গেজেটের app পেতে ক্লিক করুন