চৌগাছায় জোর করে স্কুল ম্যানেজিং কমিটির প্রার্থীতা প্রত্যাহার করানোর অভিযোগ

চৌগাছা প্রতিনিধি

যশোরের চৌগাছার স্বরুপদাহ মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের ব্যবস্থাপনা কমিটির নির্বাচনে বিপুল হোসেন নামে এক অভিভাবক সদস্য প্রার্থীর স্বাক্ষর জাল করে প্রার্থীতা বাতিল করা হয়েছে বলে তিনি অভিযোগ করেছেন। এ বিষয়ে তিনি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তার নিকট লিখিত অভিযোগ করেছেন।

লিখিত অভিযোগে বিপুল হোসেন বলেন, আমি স্বরুপদাহ মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের ব্যবস্থাপনা কমিটি গঠনের লক্ষে অভিভাবক সদস্য নির্বাচনে একজন প্রার্থী হিসেবে মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছিলাম। মঙ্গলবার (২২মার্চ) বিকেলে মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসের মাধ্যমে জানতে পারলাম কে বা কারা আমার স্বাক্ষর জাল করে মনোনয়নের প্রত্যাহারপত্র জমা দিয়েছে। আমি আমার মনোনয়নপত্র প্রত্যাহার করতে সম্মত নই। অতএব প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণে মর্জি হয়।

এদিকে বিদ্যালটির বর্তমান এডহক কমিটির সভাপতি বীর মুক্তিযোদ্ধা আব্দুস সালাম উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা বরাবর অপর একটি লিখিত অভিযোগে ভয়ভীতি দেখিয়ে মনোনয়নপত্র প্রত্যাহার পত্রে জোর পূর্বক স্বাক্ষর গ্রহণের অভিযোগ করে নির্বাচন বাতিলের আবেদন করেছেন। অভিযোগ দেয়ার সময় তার সাথে ২৫/৩০ জন মুক্তিযোদ্ধা উপস্থিত ছিলেন।

লিখিত অভিযোগে তিনি বলেন, আমি বীর মুক্তিযোদ্ধা আব্দুস সালাম স্বরুপদাহ মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের এডহক কমিটির সভাপতি। বিদ্যালয়ের নিয়মিত কমিটি গঠনের লক্ষ্যে ঘোষিত তফশিল অনুসারে আমার নেতৃত্বে গত ২০ মার্চ ৬জন প্রার্থীর মনোনয়নপত্র দাখিল করি। ২১ মার্চ মনোনয়নপত্রগুলি বৈধ বলে বিবেচিত হয়। পরে ২১ মার্চ গভীর রাতে স্বরুপদাহ গ্রামের সানোয়ার হোসেন বকুল ও মাহবুবুল আলম রিংকুর নেতৃত্বে আমার প্যানেলের প্রার্থী মোঃ হাবিবুর রহমানের বাড়িতে গিয়ে জোরপূর্বক প্রত্যাহার পত্রে স্বাক্ষর করতে বাধ্য করে।

২২ মার্চ ওই দু’জনের নেতৃত্বে আমার প্যানেলের প্রার্থী তরিকুল ইসলামের কর্মক্ষেত্র তানজিলা ব্রিকসএ প্রবেশ করে জোরপূর্বক প্রত্যাহার পত্রে স্বাক্ষর করতে বাধ্য করে। এরপরই ওই গ্রুপটি আমর প্যানেলের প্রার্থী হুমায়ন কবির উজ্জলকে রাস্তা থেকে তুলে নিয়ে কপোতাক্ষ ব্রিজের পাশে টিপুর সারের দোকানে দীর্ঘক্ষণ আটকে রেখে জোরপূর্বক স্বাক্ষর করতে বাধ্য করে। এছাড়া তারা আমার প্রার্থীদের বাড়িবাড়ি গিয়ে হুমকি দিচ্ছে। এমতাবস্থায় দুপক্ষের মধ্যে তুমুল উত্তেজনা বিরাজ করছে। যে কোন মুহুর্তে বড় ধরণের মারামারি অথবা খুন জখমের শঙ্কা রয়েছে। বড় ধরণের দুর্ঘটনা এড়াতে আপাতত ঘোষিত নির্বাচন বাতিল করার জন্য আপনাকে বিশেষভাবে অনুরোধ করছি।

তবে মাহবুবুল আলম রিংকু এবং সানোয়ার হোসেন বকুল উভয়েই জোরপূর্বক এবং স্বাক্ষর জাল করে প্রার্থীতা প্রত্যাহার করানোর বিষয়টি অস্বীকার করে বলেন, প্রার্থীরা নিজেরা প্রত্যাহারপত্রে স্বাক্ষর করেছেন।

এবিষয়ে স্বরুপদাহ ইউপি চেয়ারম্যান নূরুল কদর বলেন, জোর করে বা স্বাক্ষর জালিয়াতি করে প্রার্থীতা প্রত্যাহার করানোর বিষয়টি তদন্ত করে ব্যবস্থা নেয়া হোক। দুর্ঘটনা রোধে প্রয়োজনে নির্বাচন বাতিল করা হোক।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ইরুফা সুলতানা অভিযোগ দুটি পাওয়ার বিষয় নিশ্চিত করে বলেন, উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তাকে বিষয়টি তদন্ত করে ব্যবস্থা নিতে নির্দেশ দেয়া হয়েছে।

উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা আবুল কালাম মোঃ রফিকুজ্জামান বলেন, অভিযোগ পেয়েছি। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার নির্দেশে বিষয়টি তদন্ত করে দেখা হচ্ছে। অভিযোগের সত্যতা পেলে ব্যবস্থা নেয়া হবে।




খুলনা গেজেটের app পেতে ক্লিক করুন