শনিবার । ১৬ই মে, ২০২৬ । ২রা জ্যৈষ্ঠ, ১৪৩৩
কৃষি ব্যাংকের পে-অর্ডার গায়েব

নড়াইলে ৮৭ লাখ টাকা আত্মসাতের ঘটনায় কর্মকর্তার বিরুদ্ধে মামলা

নিজস্ব প্রতিবেদক, নড়াইল

নড়াইলের কালিয়ায় কৃষি ব্যাংকের এক কর্মকর্তার বিরুদ্ধে পে-অর্ডার চুরি, জালিয়াতি ও প্রতারণার মাধ্যমে ৮৭ লাখ ৬৩ হাজার টাকা আত্মসাতের চেষ্টার অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় ব্যাংক কর্তৃপক্ষ বাদী হয়ে থানায় মামলা দায়ের করেছে।

গতকাল শুক্রবার দুপুরে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন কালিয়া থানার অফিসার ইনচার্জ মোঃ ইদ্রিস আলী। এর আগে বুধবার রাতে কালিয়া শাখার ব্যবস্থাপক শুভাশীষ মণ্ডল বাদী হয়ে মামলাটি করেন।

মামলার আসামি মোঃ এনামুল কবির ওরফে ইমন যশোরের বাঘারপাড়া উপজেলার বন্দবিলা গ্রামের বাসিন্দা। তিনি বর্তমানে নড়াইলের লোহাগড়া উপজেলার কুন্দশী মালোপাড়া এলাকায় শ্বশুরবাড়িতে বসবাস করছেন।

অভিযোগ ওঠার পর তাকে সাময়িক বরখাস্ত করে কৃষি ব্যাংকের সাতক্ষীরা মুখ্য আঞ্চলিক কার্যালয়ে সংযুক্ত করা হয়েছে।

মামলার এজাহার সূত্রে জানা গেছে, এনামুল কবির চলতি বছরের ১০ মার্চ থেকে ৩০ মার্চ পর্যন্ত কালিয়া কৃষি ব্যাংকে দ্বিতীয় কর্মকর্তা হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। তার জিম্মায় নন-এমআইসিআর পে-অর্ডারসহ গুরুত্বপূর্ণ নিরাপত্তা দস্তাবেজ সংরক্ষিত ছিল।

অভিযোগ অনুযায়ী, গত ১৫ মার্চ সকাল সাড়ে ৮টার দিকে অফিস শুরুর আগেই শাখায় প্রবেশ করে তিনি একটি নন-এমআইসিআর পে-অর্ডারের পাতা (নম্বর-০৭২৬৯৯৯) সরিয়ে ফেলেন। পরে শাখার সিসিটিভি ফুটেজ পর্যালোচনায় বিষয়টি ধরা পড়ে বলে দাবি করা হয়েছে।

এজাহারে আরও বলা হয়, ওই পে-অর্ডারটি শাখার বাইরে নিয়ে একটি জালিয়াত চক্রের কাছে দেওয়া হয়। পরে সেটিতে শ্যামলী শাখার নাম, কর্মকর্তাদের স্বাক্ষর ও সিল জাল করে বিআইডব্লিউটিসি সিকিউরিটি ডিপোজিট হিসেবে জমা দেওয়া হয়।

পরবর্তীতে পে-অর্ডারটি নগদায়নের জন্য বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের ঢাকার স্থানীয় মুখ্য কার্যালয়ে পাঠানো হলে সন্দেহের সৃষ্টি হয়। পরে প্রধান কার্যালয় থেকে কালিয়া শাখার কাছে ব্যাখ্যা চাওয়া হলে পুরো ঘটনাটি সামনে আসে।

ব্যাংক কর্তৃপক্ষের দাবি, শুরুতে এনামুল অভিযোগ অস্বীকার করলেও পরে তথ্যপ্রমাণ ও সিসিটিভি ফুটেজ বিশ্লেষণের পর নিজের সংশ্লিষ্টতার কথা স্বীকার করেন। যদিও পরবর্তীতে জালিয়াত চক্রের অন্য সদস্যদের বিষয়ে কোনো তথ্য দেননি বলে অভিযোগ করা হয়েছে।

তবে অভিযুক্ত এনামুল কবির সব অভিযোগ নাকচ করে বলেন, ‘দস্তাবেজ আমার জিম্মায় ছিল, সেটি হারিয়ে গেছে। আমি কোনো জালিয়াতির সঙ্গে জড়িত নই।’

এ বিষয়ে কালিয়া থানার অফিসার ইনচার্জ মোঃ ইদ্রিস আলী বলেন, ‘ঘটনার তদন্ত চলছে। তদন্তে দোষ প্রমাণিত হলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’

 

খুলনা গেজেট/এনএম




আরও সংবাদ

খুলনা গেজেটের app পেতে ক্লিক করুন