মামলা করেও প্রতিকার মিলছে না

কেপিসিএলের বিদ্যুৎকেন্দ্র বিক্রি হওয়ায় কর্মহীন শতাধিক কর্মকর্তা-কর্মচারী

নিজস্ব প্রতিবেদক

খুলনার কেপিসিএল বিদ্যুৎকেন্দ্রটির বিরুদ্ধে পাওনা টাকা আদায়ের জন্য চাকরিচ্যুত কর্মচারীরা কোম্পানির বিরুদ্ধে শ্রম আদালতে মামলা দায়ের করেও প্রতিকার পাচ্ছেনা। ফলে এসব চাকরিচ্যুত কর্মচারীরা অর্থনৈতিক সংকটসহ চরম হতাশায় ভুগছে।

জানা গেছে, ২০২২ সালে খুলনার কাশিপুর-দৌলতপুর এলাকায় অবস্থিত ১১০ মেগাওয়াট ক্ষমতার বার্জভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্রটি বন্ধ করে বিদেশি একটি কোম্পানির কাছে বিক্রি করা হয়। এরপর ২০২৪ সালে ১১৫ মেগাওয়াট ক্ষমতার এইচএফও চালিত কেপিসিএল ইউনিট-২ এবং যশোরের নওয়াপাড়ায় অবস্থিত ৪০ মেগাওয়াট ক্ষমতার এইচএফও বিদ্যুৎকেন্দ্রটির কার্যক্রমও সম্পূর্ণভাবে বন্ধ ঘোষণা করা হয়। পরবর্তীতে বিদ্যুৎকেন্দ্র দুটি বিদেশি কোম্পানির কাছে বিক্রি করে দেওয়া হয়েছে বলে সংশ্লিষ্টরা দাবি করেন।

বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলো বিক্রি হয়ে যাওয়ার ফলে সেখানকার কর্মরত কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বড় একটি অংশ কর্মহীন হয়ে পড়েছে। চাকরিচ্যুত কর্মচারীদের দাবি, দীর্ঘদিন কোম্পানিতে চাকরি করার পর প্রতিষ্ঠানটির বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলো বিক্রি করে দেওয়ায় তারা চাকরি হারিয়েছেন।

পাওনা টাকা আদায়ের জন্য চাকরিচ্যুত কর্মচারীদের ২৭ জন কোম্পানির বিরুদ্ধে শ্রম আদালতে মামলা দায়ের করেছেন। মামলা নং শ্রম-৬৮/২০২৫।

চাকরিচ্যুত কর্মচারীদের অভিযোগ, হঠাৎ করে বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলোর কার্যক্রম বন্ধ এবং বিক্রি করে দেওয়ার কারণে অনেক কর্মচারী বর্তমানে পরিবার-পরিজন নিয়ে আর্থিক সংকটে দিন কাটাচ্ছেন। তাদের দাবি, চাকরির মেয়াদ অনুযায়ী প্রাপ্য বেতন-ভাতা, ক্ষতিপূরণসহ অন্যান্য আইনানুগ পাওনা দ্রুত পরিশোধ করা হয়নি।

এ বিষয়ে কেপিসিএল এর অপারেশন মেইনটেনেন্সের দায়িত্বে থাকা মি. মাশিউল ইসলাম বলেন, কোম্পানি সবারই টাকা পরিশোধ করেছে। তবে যারা টাকা পাইনি তারা হেড অফিসে ফিন্যান্স শাখায় যোগাযোগ করতে পারেন।

হেড অফিসের চিফ ফিন্যান্স অফিসার মামুন সারোয়ার বলেন, মামলা সম্পর্কে তিনি কিছু জানেন না। শ্রমিকদের এবং অফিসারদের সবারই পাওনা বুঝিয়ে দিয়েছে কোম্পানি। এখন কেউ যদি পাওনা থাকে আমাদের হেড অফিসে অভিযোগ করলে তাকে তার ন্যায্য পাওনা ফিরিয়ে দেয়া হবে।

 

খুলনা গেজেট/এনএম




আরও সংবাদ

খুলনা গেজেটের app পেতে ক্লিক করুন