নিরপরাধ শিক্ষার্থীদের হয়রানী না করার আহ্বান

বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থীকে পিটিয়ে হত্যা ঘটনায় দোষীদের শাস্তি দাবিতে খুবিতে বিক্ষোভ

খুবি প্রতিনিধি

খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের (খুবি) খানজাহান আলী হলের বিপরীতে মসজিদ গলিতে আজমল হোসেনের মৃত্যুর ঘটনায় সুষ্ঠু তদন্ত, প্রকৃত দোষীদের শনাক্ত এবং সর্বোচ্চ শাস্তির দাবি জানিয়েছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের সাধারণ শিক্ষার্থীরা। গত শনিবার বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে আয়োজিত এক প্রতিবাদ সমাবেশে এসব দাবি জানান তারা।

সমাবেশে বক্তারা বলেন, ঘটনার সঙ্গে খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের কোনো শিক্ষার্থী জড়িত থাকলে তার পরিচয়, পদমর্যাদা বা ব্যাচ বিবেচনা না করে নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত দোষীদের শনাক্ত করতে হবে। একই সঙ্গে তাদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান তারা।

সমাবেশে চতুর্থ বর্ষের শিক্ষার্থী জাহিদ বলেন, এই ন্যক্কারজনক ঘটনার সঙ্গে যে কোনো সিনিয়র-জুনিয়র বা ব্যাচমেট যুক্ত থাকুক না কেন, তাদের কঠোর ও সর্বোচ্চ শাস্তি কামনা করছি। একই সঙ্গে ঘটনাটি যেন কোনোভাবেই ধামাচাপা না পড়ে, সে বিষয়ে সবাইকে সতর্ক থাকার আহ্বান জানান তিনি।

চতুর্থ বর্ষের আরেক শিক্ষার্থী তানভির বলেন, খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা সবসময় ন্যায়বিচারের পক্ষে। এ ঘটনায় জড়িতদের শাস্তির দাবিতে শিক্ষার্থীরা অনড় থাকবেন বলেও জানান তিনি।

চতুর্থ বর্ষের শিক্ষার্থী নির্ঝর বলেন, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকৃত অপরাধীদের আড়াল করে নিরপরাধ শিক্ষার্থীদের ফাঁসানোর চেষ্টা করা হচ্ছে- এমন আলোচনা তারা দেখতে পেয়েছেন। তদন্তের নামে কোনো নিরপরাধ শিক্ষার্থী যাতে হয়রানির শিকার না হন, সে বিষয়ে প্রশাসনের প্রতি আহ্বান জানান তিনি।

সমাবেশে অন্যান্যের মধ্যে বক্তৃতা করেন বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রবিষয়ক পরিচালক অধ্যাপক ড. মো. সালাউদ্দিন। তিনি বলেন, বিচারবহির্ভূতভাবে একজন মানুষকে হত্যা কোনোভাবেই সমর্থনযোগ্য নয়।

তিনি বলেন, ঘটনার পর থেকেই খুলনা বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন পুলিশ প্রশাসন ও সংশ্লিষ্ট অন্যান্য কর্মকর্তাদের সঙ্গে সমন্বয় করে কাজ করছে। তদন্তের প্রয়োজনে পুলিশ প্রশাসন বা অন্য কোনো কর্তৃপক্ষের সহযোগিতা প্রয়োজন হলে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন ও বিশ্ববিদ্যালয় পরিবারের প্রত্যেক সদস্য সহযোগিতা করতে প্রস্তুত বলেও জানান তিনি।

অধ্যাপক ড. মোঃ সালাউদ্দিন বলেন, যে ভবনে ঘটনাটি ঘটেছে সেখানে বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী ও চাকরিজীবীরা বসবাস করতেন। তাই তদন্তের স্বার্থে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার পাশাপাশি ঘটনার সঙ্গে জড়িত নন- এমন ব্যক্তিরা যেন হয়রানির শিকার না হন, সেটিও নিশ্চিত করতে হবে।

তিনি আরও বলেন, তদন্ত দ্রুত শেষ করে ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের শনাক্ত করে শাস্তির আওতায় আনতে হবে। একই সঙ্গে বিচারপ্রক্রিয়া যেন অযথা দীর্ঘায়িত না হয়, সে বিষয়েও গুরুত্ব দেন তিনি।

প্রসঙ্গত, গত ১৮ সেপ্টেম্বর রাতে খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের খানজাহান আলী হলের বিপরীতে মসজিদ গলির একটি ভবনে আজমল হোসেনের মৃত্যুর ঘটনা ঘটে। তাকে চুরির সন্দেহে মারধরের পর ভবনের চতুর্থ তলা থেকে ফেলে দেওয়া হয়েছে-এমন অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় ইতোমধ্যে খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের চারজন শিক্ষার্থীর বিরুদ্ধে মামলা হয়েছে। তাদের মধ্যে এফএমআরটি ডিসিপ্লিনের ১৭ ও ১৯ ব্যাচের রবিন ও মবিন, গণিত ডিসিপ্লিনের ১৯ ব্যাচের সাগর এবং এগ্রোটেকনোলজি ডিসিপ্লিনের ২৬ ব্যাচের শিক্ষার্থী ওবায়দুল। এছাড়াও ২০ থেকে ২৫ জনকে অজ্ঞাতনামা আসামি করা হয়েছে।




আরও সংবাদ

খুলনা গেজেটের app পেতে ক্লিক করুন