ঋতুচক্রে শরৎকাল বইছে ও দাবদাহ আছে সাথে ডেঙ্গু। পথচারীরা তৃষ্ণা মেটাতে ফুটপাতে আখের রস বিক্রেতার কাছে হাজির হয়। রসের সাথে বরফ থাকায় পথচারীর আগ্রহ বাড়ে। চিকিৎসকের পরামর্শে ডেঙ্গু রোগীর পথ্য হিসেবে ও আখের রসের চাহিদা বেড়েছে। নগরীর এ চাহিদা মেটাতে নড়াইল ও বরিশাল থেকে আখের জোগান আসছে। আখের রসের দাম ও চাহিদা দুটোই বেড়েছে।
আবহাওয়া অধিদপ্তরের সূত্র বলেছে, “এ মাসে ২-৩ দিন দাবদাহ বয়ে যেতে পারে। গড়ে ৩৭ ডিগ্রি সেলসিয়াস। জুন মাসে ও একই তাপমাত্রা ছিল। তাপমাত্রার বাড়ার কারণে এবং ডেঙ্গুর কারণে আখের রসের চাহিদা বেড়েছে। ডাবের দাম বেশি হওয়ায় চিকিৎসকের পরামর্শে তরল জাতীয় খাবার হিসেবে আখের রসের চাহিদা বেড়েছে। অক্টোবর-নভেম্বরে ও এ চাহিদা থাকবে।”
শিশু হাসপাতালের সামনে আখের রস বিক্রেতা জুবায়ের সরদার। ৪ বছর ধরে তিনি এ পেশায়। থাকেন পশ্চিম টুটপাড়ায়। শুক্রবার ছাড়া সপ্তাহের অন্যান্য দিনে সকাল ৯টা থেকে রাত ১০ টা অবধি ফুটপাতেই তার বিকিকিনি। মেশিন দিয়ে আখের রস বের করে বরফ দিয়ে শীতল করে ক্রেতার হাতে তুলে দেন। ছোট সাইজের একগ্লাস রস ১০ টাকা, মাঝারি সাইজের ২০ টাকা এবং বড় সাইজের গ্লাস ভরতি রসের দাম ৩০ টাকা। শিশু হাসপাতালের ডেঙ্গু রোগী ও দাবদাহে ক্লান্ত পথচারীর তৃষ্ণা মেটে এতে। প্রতিদিন গড়ে ১৮শ টাকার বাণিজ্য তার।
আখের রসে রয়েছে প্রাকৃতিক শর্করা, ভিটামিন ও খনিজ পদার্থের সমৃদ্ধ উৎস। এতে থাকে প্রাকৃতিক গ্লুকোজ ও সুক্রোজ যা দ্রুত শক্তি জোগায়। আয়রন, ক্যালসিয়াম, পটাশিয়াম ও ম্যাগনেসিয়াম শরীরের প্রয়োজনীয় খনিজ উপাদান। অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট যা কোষকে ক্ষতির হাত থেকে রক্ষা করে। ভিটামিন বি ও সি রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়াতে সহায়ক।
নগরীর কালিঘাট এলাকার ‘মা বাণিজ্য ভাণ্ডার’ এর মালিক মিজানুর রহমান জানান, তার প্রতিষ্ঠানে সপ্তাহে ২ থেকে ৩ বার গড়ে ৩/৪ হাজার পিস আখ আসে। নগরীতে এসব আখ আসে মূলত বরিশাল থেকে।
নগরীর কদমতলা এলাকার কিছু আরতে নড়াইল থেকে ও আখ আসে বলে এ প্রতিবেদককে জানান। তার প্রতিষ্ঠান থেকে প্রতিদিন প্রায় ১ হাজার আখ নগরীর অভ্যন্তরীণ খুচরা বাজার গুলোতে আসে। এসব আখের পাইকারি দাম প্রতি ১শ পিস ২ হাজার ৫শ থেকে ৩ হাজার ৫শ টাকা।
উল্লেখ্য, মিজানুর রহমান গত ৪ দিন ধরে ডেঙ্গু আক্রান্ত। তিনি নিজেও প্রতিদিন আখের রস পান করেন।

