জীবন বীণা বাজনা থেমে যাবে
হয়তোবা কোনো এক দীঘল জ্যোৎস্না রাতে
বসন্তের মৃদ্যু কোমল সকালে কিংবা
খরতাপ গ্রীষ্মের নিদাঘ দুপুরে
এই চরাচরে মুহূর্তে রটে যাবে সে আর নেই
কতিপয় স্বজন, পরিজন, প্রিয়জন
মুহূর্তে থমকে যাবে
কত রূপে, কত ভাবে, মৃত্যুর খবর বিশ্লেষণ হবে
শৈশব কৈশোর যৌবন তিনকালের ইতিকথা
কেউ কেউ আমার মরদেহের সামনে বয়ান করবে
আমি শুনবো, আমার সামনেই
এসব ঘটনা কাটাছেঁড়া করে তুলে ধরা হবে!
প্রাণহীন মৃতদেহ নীরব নিথর নিস্তব্ধ চারদিক
বৃক্ষরাজী পুষ্পকুঞ্জ টলটলে সরোবর
সব ঠিকঠাক থাকবে, ভোরের সূর্য উদয় হবে
আপন মেজাজে, আলো দেবে, তাপ দেবে
জোয়ার ভাটা সকাল সন্ধ্যা অমানিশি পূর্ণিমা
সকল জাগতিক লীলা কিছুই বন্ধ হবে না
শুধুই আমার জীবনের রথ থেমে যাবে
কয়েকদিন না যেতেই স্মৃতিভ্রষ্ট হবে সবাই
শোকের নদীতে চড়া পড়বে একই নিয়মে
উদয়াস্ত জোয়ার ভাটা পৌষ- ফাগুন আসবে
এই মর্ত্যলোকে আমার নাম ঠিকানা নিশ্চিহ্ন হবে
‘আমি’ বলে কেউ দাবিনামা পেশ করবে না
জীবন বীণা নিভে গেলে সবকিছুই কালের খাতায়
লেখা হবে। নতুন কলরব পৃথিবীর
নতুন মানুষেরা গান গাইবে।
খুলনা গেজেট/এনএম

