বঙ্গবঙ্গ আন্দোলনে (১৯০৫-১৯১১) বাঙালির অভুতপূর্ব জয়ে বৃটিশবিরোধী আন্দোলন এক ধাপ এগিয়ে যায়। কংগ্রেস, ফরোয়ার্ড ব্লক, মুসলিম লীগ, কমিউনিষ্ট পার্টির পাশাপাশি স্বরাজ পার্টিও স্বদেশি আন্দোলনে সক্রিয় ছিল। বৃটিশবিরোধী আন্দোলনের পক্ষে জনমত সৃষ্টিতে সেদিনে গণমাধ্যম দৃষ্টান্ত স্থাপন করে। কাজী নজরুল ইসলাম (১৯১৭-১৯২০) সৈনিক জীবনের সমাপ্তি টেনে সাংবাদিকতার সাথে সম্পৃক্ত হন। তার সম্পাদনায় ১৯২০ সালে নবযুগ, ১৯২২ সালে তার সম্পদনায় ধুমকেতু পত্রিকা আলোড়ন সৃষ্টি করে।
১৯২৫ সালের ২৫ জুন তার সম্পদনায় প্রকাশিত হয় ‘লাঙল’ নামক পত্রিকা। এটি ছিল কৃষক ও শ্রমিকের দল স্বরাজ পার্টির মুখপাত্র। লাঙলে প্রকাশিত প্রতিবেদন, প্রবন্ধ ও কবিতার যে গতি, তেজ ও জাতীয় চেতনার প্রকাশ বিশেষত ভারতের স্বাধীনতার আকাঙ্খা বিপ্লব ও বিদ্র্র্রোহের বার্তা হয়ে আসে। এ পত্রিকার প্রধান চারিত্রিক বৈশিষ্ট ছিল বৃটিশবিরোধী ভারতীয় জাতীয়তাবাদী চেতনার প্রকাশ। বিশেষত: মানবতা, মুক্তি ও অধিকার সম্পর্কে মানুষকে সচেতন করে তোলার ক্ষেত্রে লাঙল ছিল এক অন্যন্য মাধ্যম।
পত্রিকার প্রথম সংখ্যাটি প্রকাশিত হয় কাজী নজরুলের ‘সাম্যবাদী’ নামক কবিতা। স্বাধীনতা অর্জনের কৌশল হিসেবে সমাজতান্ত্রিক শ্রেণি চেতনাকে এ পত্রিকা গুরুত্ব দিত। বিদ্রোহী কবির কারণে তার চিন্তা ও সৃজন কর্মে বৈপ্লবিক চেতনার প্রকাশ সুস্পষ্ট। এ পত্রিকার মাধ্যমে তিনি শ্রমিক শ্রেণির মুক্তির লক্ষে সমাজতন্ত্রের পক্ষে জনমত সৃষ্টির চেষ্টা করেন। প্রসঙ্গ নিয়ে বৃটিশ জামানায় কমিউনিষ্ট পার্টির সম্পাদক মুজাফ্ফর আহমেদ মন্তব্য করতেন এ পত্রিকা পাঠকের জন্য নয় কমিউনিষ্ট আন্দোলনের কর্মী তৈরির এক মুখপাত্র।
স্বল্প সময়ের সাপ্তাহিক লাঙল বিশ্বের নানা প্রান্তের মেহনতি মানুষের মুক্তি সংগ্রামের গতি প্রকৃতি তুলে ধরেন।
সমাজতান্ত্রিক ভাবধারায় অনুপ্রাণিত নজরুলের মনোভঙ্গির প্রতিফলন ঘটে, লাঙল সেই সময়ে ভারতীয় সমাজের চাহিদাকে চিহ্নিত করে গণমানুষের কন্ঠস্বরে পরিণত হয়। এ সাপ্তাহিকের আকার ছিল ১২ দশমিক ৫ ইঞ্চি বাই ৯ ইঞ্চি। মূল্য এক আনা। ১৬ টি সংখ্যা প্রকাশিত হয়। সর্বশেষ সংখ্যা প্রকাশ পায় ১৯২৬ সালের ১৫ এপ্রিল (তথ্য সূত্র : ভারত বিচিত্রা, ডিসেম্বর ২০২৫)।
খুলনা গেজেট/এনএম

