কবিতা ও সংগীত, উভয়ই চারুকলার অন্তর্ভুক্ত। কবিতা আবৃত্তি করা হয় আনন্দ লাভের জন্য, আর সংগীত গাওয়া হয় সুর-তাল-লয় দিয়ে সেটাও আনন্দ লাভের জন্য। একজন সুদক্ষ আবৃত্তিকার হৃদয় উজাড় করে আবৃত্তি করে থাকে এবং একজন একনিষ্ঠ গায়ক-শিল্পী হৃদয় নিঙড়ে কণ্ঠ হতে সুর ঝরিয়ে থাকে। কবিতা পাঠ করা হয় গভীর জ্ঞান, প্রজ্ঞা ও দর্শন শিক্ষা লাভের জন্য, জীবনের উৎকর্ষ সাধনের জন্য, সর্বোপরি মন ও অন্তরকে সর্বাঙ্গীনভাবে সুন্দর করার জন্য। কবিতা তিন লাইনের হাইকু হতে শুরু করে হাজার হাজার লাইন সম্বলিত মহাকাব্য রচিত হয়। কিন্তু সংগীত অর্থাৎ গান, গজল ইত্যাদি সাধারণত বিশ লাইনের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকে। আবার অনেক সুন্দর ছন্দময় কবিতাকে সুর দিয়ে গাওয়া হয়ে থাকে। সে যাই হোক, কবিতা ও সংগীত-এর স্বভাবের মধ্যে বৈশিষ্ট্যগতভাবে রয়েছে মিলের আধিক্য; পার্থক্য বলতে কবিতা হাজার বিষয়বস্তু নিয়ে ভাষা ও শব্দের অনুষঙ্গে, সেখানে গান বা গজল সুর প্রধান, তবে উভয়ই মূল্যবান শিল্প সম্ভার, যা সংস্কৃতি ও ঐতিহ্যকে গভীরভাবে প্রভাবিত করে।
একটি কবিতা হয়ত কয়েকবার পড়া হয়, কিন্তু একটি গান বা গজল বহুবার শোনা হয়, কারণ তার মধ্যে রয়েছে সুর-তাল-লয়-রাগরাগিনী অর্থাৎ শোনার প্রচুর উপকরণ। ছন্দ ও অলংকারে বিভূষিত কবিতার ভাষাকে প-িতেরা বিশ্লেষণ করে বিভিন্ন অর্থ খুঁজে বের করেন, কিন্তু সংগীতের শুধু সুর শোনেন, ভাষার ব্যবচ্ছেদ করেন না। কবিতার পঙ্ক্তি বা স্তবক ছোট বড় হতে পারে কিন্তু একটি গানে সাধারণত চারটি ভাগ থাকে-আস্থায়ী, অন্তরা, সঞ্চারী ও আভোগ। কবিতার প্রাণ যেমন এর জ্ঞানগর্ভ অর্থ, সংগীতের প্রাণ এর মাধুর্যময় সুর। কবিতা সাধারণত কান দিয়ে শুনি ও এর অর্থ অর্জিত জ্ঞান ও মেধা দিয়ে অনুধাবন করি, কিন্তু সংগীতকে অন্তর দিয়ে উপলব্ধি করি, তবে উভয়ই মনে আবেদন সৃষ্টি করে থাকে।
বাংলাদেশের জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম বাংলা সংগীত জগতের রাজা, মনোমুগ্ধকর ভাষা ব্যবহারের ক্ষেত্রে এক অতি উন্নতমানের শিল্পী, তাই তার সংগীতের ভাষার উপর কিছু আলোকপাত করার চেষ্টা করছি। এ প্রসঙ্গে এটাও মনে রাখা প্রয়োজন যে একটা কবিতা যেমন মহৎ হতে পারে, তেমনি একটি গানও মহৎ হতে পারে যদিও মৌলিক সৌন্দর্য ও অর্থ উভয়ের মধ্যে নিহিত থাকে। সাহিত্য ও সংগীত রচনার ক্ষেত্রে কবি নজরুলের মেধা বহুধর্মী। সাহিত্যের এমন কোনো দিক বা বলয় নেই যেখানে নজরুলের কলমের ছোঁয়া পড়েনি।
যদিও মূলত তিনি বিপ্লবী কবি হিসেবে আখ্যায়িত, তার অনেক কবিতা, গান ও গজল শান্ত তরঙ্গের মতো প্রবাহিত। নজরুলের ভাষায় :
‘হে মোর রাণী! তোমার কাছে হার মানি আজ শেষে,
আমার বিজয় কেতন লুটায় তোমার চরণ তলে এসে।’
যে কবির বিপ্লবী ঝান্ডা ’দ্যুলোক ভূলোক গোলক ভেদিয়া’ উড্ডীয়মান, তা শেষ পর্যন্ত প্রেম-ভালোবাসার কাছে হার মেনে তার চরণে লুটিয়ে পড়ে। সেদিক থেকে নজরুলের প্রেমের গানগুলো বাংলা ভাষার রতœ-আকর। নজরুলের অতি সুচেনা একটি গানকে বিশ্লেষণ করলে বোঝা যায় যে গানের সুর শুধু মন ও হৃদয়কে গভীরভাবে আকৃষ্ট করে না, এর চমৎকার আলংকারিক ভাষা এক অপূর্ব দ্যোতনা সৃষ্টি করে।
‘মোর প্রিয়া হবে, এস রাণী, / দিব খোঁপায় তারার ফুল।
কর্ণে দুলাব তৃতীয়া তিথির/ চৈতী চাঁদের দুল।
গলায় তোমার পরাব বালিকা/ হংস-সারির দুলানো মালিকা
বিজলি-জরীন ফিতায় বাঁধিব / মেঘ-রং এলোচুল।
জ্যোৎস্নার সাথে চন্দন দিয়ে/ মাখাব তোমার গায়,
রামধনু হ’তে লাল রং ছানি’ / আল্তা পরাব পায়।
আমার গানের সাত সুর দিয়া/ তোমার বাসর রচিব প্রিয়া,
তোমারে ঘিরিয়া গাহিবে আমার/ কবিতার বুলবুল। ’
এ গানটি যদি কবিতার মতো বিশ্লেষণ করলে দেখা যায় যে কোনো একটি উৎকৃষ্টমানের কবিতার চেয়ে এর রচনা শৈলী অত্যন্ত মনোমুগ্ধকর। কবি অপার্থিব বিশাল নিসর্গের রঙিন ভা-ার হতে পছন্দসই বাছাইকৃত সুন্দর সুন্দর উপকরণ নিয়ে কবির প্রিয়াকে সাজিয়েছেন। কাজেকাজেই গানটি বাক্যালংকারে টলটল করছে; তার উপর চিত্ররূপকল্পে (ওসবমবৎু) ভরপুর। উদাহরণ স্বরূপ ’তারার ফুল’, ’চৈতী চাঁদের দুল’, ’হংস-সারির দুলানো মালিকা’, ’বিজলি-জরীন ফিতায়’, ’মেঘ-রং এলোচুল’, ’কবিতার বুলবুল’, – এসব উৎপ্রেক্ষাসম্বলিত (গবঃধঢ়যড়ৎ) গানটি কাব্যিক শিল্প মাধুর্যের প্রতীক। গানটির মধ্যে রয়েছে ভাষা, অর্থ ও শিল্প নৈপুণ্যের এক অপূর্ব সমন্বয়; নিকট ও দূরত্বের, পার্থিব ও অপার্থিবের এক মিলন বৈচিত্র্য।
কবির অন্য একটি গান এভাবে শুরু হয় ’মোর গানের কথা যেন আলোকলতা/ যেন স্বর্ণলতা’; এখানে কবি আলোকলতা ও স্বর্ণলতার সঙ্গে তার গানের তুলনা করে এক উপমা সৃষ্টি করেছেন। নজরুলের গানে উপমা ছাড়া বাক্যালংকার ব্যক্তিত্ব আরোপ (চবৎংড়হরভরপধঃরড়হ)এর প্রচুর ব্যবহার দেখা যায়, যেমন ‘তোমায় দেখে শিউরে ওঠে কাজলা দিঘির কালো জল’, ‘আমলকি-বন ঝিমায় ব্যথায়’, ‘মলয়ে শুনেছি তোমার গলার সুরের রিনিঝিনি’, ইত্যাদি। সংগীত রচনায় সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য যে কাব্য কৌশল নজরুল প্রয়োগ করেছেন তা হলো চরণের মধ্যে শব্দ বিন্যাসের ‘বিপরীততা’ যাকে ইরেজিতে বলে (ওহাবৎংরড়হ ড়ভ ঙৎফবৎ)। নিচের গানের লাইনগুলো বিশ্লেষণ করলে তা অতি সহজেই বোঝা যাবে।
১. বাগিচায় বুলবলি তুই ফুল শাখাতে দিসনে আজি দোল,
২. এতজল ও কাজল চোখে পাষাণী আনলে বলো কে?
৩. হারানো হিয়ার নিকুঞ্জ পথে কুড়াই ঝরাফুল একেলা আমি,
উপরের গানের কলিগুলোতে ভাষা ও ব্যাকরণের শব্দ বিন্যাস রীতি বিপরীততা লক্ষণীয়। এই বিপরীততা প্রয়োগ করে সুন্দর বিষয়বস্তু ও যথাযথ শব্দ ব্যবহারের মাধ্যমে অর্থ ঠিক রেখে চরণ রচনা করা একজন সুদক্ষ শিল্পীর কাজ। গানের কলিতে এই বিপরীততা সৃষ্টিতে অপূর্ব সুরের মূর্ছনা সৃষ্টি হয়েছে।
প্রথম গানটি সম্পূর্ণরূপে নিসর্গআশ্রিত; এই গানের মধ্যে প্রকৃতির বিভিন্ন উপাদানের মধ্যে চেতনাময় প্রাণ সৃষ্টি করা হয়েছে। গানটিতে জীব বলতে বুলবুলি, মৌমাছি আর কবি, আর ‘ফুল কলিদের ঘুম’, ‘রিক্ত শাখা’, ‘ফুল কুমারির ঘোমটা’, ‘কুড়িদের ওষ্ঠে হাসি’ ইত্যাদি প্রকৃতির অংশকে মানবীয়রূপে ফুটিয়ে তোলা হয়েছে যা ভাষার ক্ষেত্রে অত্যন্ত বৈচিত্র্যময়। দ্বিতীয় গানটি এক অনবদ্য শৈল্পিক সৃষ্টি। গানটিতে অনুপ্রাস (অংংড়হধহপব) যথা জল, কাজল, টলমল জল, পৈঁচি-বৈঁচি, সেধে সেধে, এবং আদ্যানুপ্রাস (অষষরঃবৎধঃরড়হ) যথা, সাত সাগর, মোতির মালা, কাঁদিয়া কুটিলে, জড়ালো জুঁই, মুকুলী মন ইত্যাদি কাব্যালঙ্কারে পরিপূর্ণ। গানটি ’র’, ’ক’ ও ’ল’ ধ্বনিসম্বলিত এবং এর রাগ মান্দ-কাও য়ালি। অন্য একটি গান যা বাগেশ্রী-পিলু-কাহারবা মিশ্রিত রাগিণীতে গাওয়া হয়ে থাকে, ফলে গানটির ভাষা ও সুরভঙ্গি অত্যন্ত জটিল। অনুপ্রাস গানটির মধ্যে এক অপূর্ব বাঙময়তা ও সুরের মাধুর্য সৃষ্টি করেছে যথা ‘চেয়ো না সুনয়না আর চেয়োনা’, ‘চাওনি-বাঁকা সুর্মা-আঁকা’ ‘হরিণ কাঁদে সলিল-ফাঁদে’, ‘ভ্রুরুর ধনু ফুল-অতনু’, ‘পড়লো ধরা পীযুষ-ভরা’, ‘দিবস রাতি মোমের বাতি’, তাই কি জ¦লি পড়ছো গলি’, ‘কথার কাঁটায় সুর বিঁধে হায়’, ‘যায় রে মালা আয় নিরালা’। এ ভাবে দেখা যায় গানটির প্রতি চরণের মধ্যস্থলে অনুপ্রাসের এত ছড়াছড়ি যা বাংলা সাহিত্যের কোন কবিতায় ও গানে আছে বলে মনে হয় না। এই অলংকার অনুপ্রাসটি এই গান ও এর সুরের প্রাণ। গানটিতে শব্দ ব্যবহারের এক জাদুকরী শক্তি নির্দ্বিধায় কাজ করে গেছে। নিচের বেহাগ-দাদরা রাগের গানটি বিরোধাভাস র্(অহঃরঃযবংরং) কাব্যালংকারে ভরপুর।
‘কেন দিলে এ কাঁটা যদি গো কুসুম দিলে
ফুটিত না কি কমল ও কাঁটা না বিঁধিলে ॥
কেন এ আঁখি-কূলে বিধুর অশ্রুদুলে,
কেন দিলে এ হৃদি যদি না হৃদয় মিলে ॥
শীতল মেঘ-নীরে ডাকিয়া চাতকীরে
নীর ঢালিতে শিরে বাজ কেন হানিলে ॥
যদি ফুটালে মুকুল কেন শুকাইলে ফুল,
কেন কলঙ্ক-টিপে চাঁদের ভুরু ভাঙিলে ॥’
গানটি বিরোধাভাসের এক অনন্য প্রতীক বললেও ভুল হবে না। যেমন গানটির দোলানো ছন্দ, তেমনি বিরোধাভাস, অনুপ্রাস ও আদ্যানুপ্রাস গানটিকে মোহময় করে তুলেছে। ভাষায় শব্দ ব্যবহারে এমন সৌন্দর্যময় কৌশল সত্যই নজরুলই জানতেন।
নজরুল বেশ কিছু বড় বড় গান রচনা করেছেন যেমন গারা-ভৈরবী-কাহারবা রাগিণীতে গাওয়া ‘কার নিকুঞ্জে রাত কাটিয়ে আসলে প্রাতে পুষ্প চোর’ একটি উল্লেখযোগ্য গান। গানটি রূপচিত্রকল্পময়। গানটি পড়লে মনে হয় প্রকৃতির সাথে কবির যেন এক গভীর অটুট আত্মিক বন্ধন রয়েছে । আর একটি বড় গান এ ভাবে শুরু হয়েছে: ‘করুণ কেন অরুণ আঁখি, দাও গো সাকি দাও শারাব’। এই প্রেমের গানটিতে একটি চরণে হঠাৎ সমাজ দর্শন ফুটে উঠেছে যখন কবির জিজ্ঞাস্য?- ‘হারাম কি এই রঙিন পানি, আর হালাল এই জল চোখের’।
সাত স্তবকের শেষ স্তবকে কবি কল্পনার এমন এক উচ্চ স্তরে পৌঁছিয়েছেন যা ভাবতে অবাক লাগে ও বিস্ময়ে হতে হয় অভিভূত:
‘দেখরে কবি প্রিয়ার ছবি
এই শরাবের আর্শিতে,
লাল গ্লাসের কাচ-মহলার
পার হতে তার শোন জওয়াব।’
কোনো কোনো গান সুর ও অর্থ দুটোতেই ভারাক্রান্ত, যেমন -‘মুসাফির মোছরে আঁখি জল’ গানটির সঞ্চরি-তে কবি বাঙালি জাতির এক ব্যর্থতা তুলে ধরেছেন। কবি বলেন এ দেশবাসী নিরাশার মধ্যে জীবনের দিনগুলো অতিবাহিত করে এবং ফুল ঝরানোর পরিবর্তে তারা শুধু ভুল ঝরিয়ে যায়:
‘বর্ষায় ফুটল না বকুল
পউষে ফুটবে কি সে ফুল,
এ দেশে ঝরে শুধু ভুল
নরাশার কানন ভরিয়া ॥’
এ ছাড়া কবির বিপ্লবী গান রয়েছে অনেক; সেই সাথে রয়েছে শ্যামা সংগীত ও ইসলামি গজল। কবির বিপ্ল¬বী ধারার গানগুলির ভাষা ও সুরের এমন আকর্ষণীয় শক্তি যে এক মুহূর্ত একটি অলস চিত্তকে কঠিন সংগ্রামী করে তুলতে পারে । এ সব সংগীতের প্রভাবে কোন পিছু টান নেই, আছে অগ্রযাত্রার বিজয়ের জয়গান। কবির ইসলামি গজলগুলি পড়লে মনে হয় কবি ইসলামের তৌহিদের শরাব পান করে যেন এক সুফি সাধক রূপে আবির্ভূত। কী এক ঐশ্বর্যময় ইসলামি চেতনা গজলগুলোতে অপরূপভাবে ফুটে উঠেছে :
‘তোরা দেখে যা আমেনা মায়ের কোলে
মধু পূর্ণিমারই সেথা চাঁদ দোলে।
যেন উষার কোলে রাঙা রবি দোলে ॥’
হামদ্-না’ত এই গজলগুলো ইসলামি জ্ঞানে ভরপুর। তাই গজল শোনার সাথে সাথে অর্থ বুঝে পাঠ করা উচিত। নজরুলের গান ও কবিতায় আরবি, ফার্সী ও উর্দু শব্দের অসংখ্য ব্যবহার লক্ষণীয়। কবি বাংলার সাথে এ সব শব্দ এমনভাবে ব্যবহার করেছেন এবং সেই সাথে তা এমন গভীর অর্থবহ হয়ে উঠেছে যে কোনো চরণ থেকে এই ভিন্ন ভাষার একটি শব্দ বাদ গেলেই ঐ চরণ বা স্তবকের ছন্দ, অর্থ ও মাধুর্য ভেঙে পড়বে। যেমন:
‘আল্গা করো গো খোঁপার বাঁধন
দীল্ ওহি মেরা ফঁস্ গয়ি।
বিনোদ বেণীর জরীন ফিতায়
আন্ধা এশক মেরা কস্ গয়ি ॥’
এভাবে নজরুল সংগীতের রচনা শৈলী পর্যালোচনা করলে দেখা যায় যে নজরুলের বহু গান ও গজল অতি উচ্চমানের সাহিত্যের পর্যায়ভুক্ত। নজরুলের সঙ্গীতে যেমন সুর তরঙ্গ ঝংকারিত, তেমনি রসবোধ সঞ্চারিত দোলানো ছন্দের সমাহার চোখে পড়ে, এবং সেই সাথে হৃদ্-জাগরণী প্রভাব হয় অনুভূত। সংগীতের মধ্যে বিধৃত এসব উপাদান এক চমৎকার আলংকারিক ভাষায় রূপ চিত্রকল্পে ফুটে উঠেছে। তাই সংগীতের সুর শোনার সাথে সাথে এর কাব্যিক মাধুর্য উপভোগ করা একান্ত প্রয়োজন। নজরুল নিজেই বলেছেন, লোকে আমাকে কবি বলে জানে, কিন্তু আমি যে শিল্পের জন্য জীবনপাত করেছি তা আমার সংগীত। তাই নজরুলের গান শুধু গানই নয়, উচ্চমানের সাহিত্যের ভাবধারায় ভরপুর। নজরুলের গান কবিতার পাশাপাশি পাঠ্য তালিকাভুক্ত করা উচিত যাতে নজরুল সংগীতের অভাবনীয় অন্তরঙ্গ সৌন্দর্য উপভোগ করার উপায় সৃষ্টি হতে পারে, যে সৌন্দর্যের মধ্যে রয়েছে অপার বৈচিত্র্য। সাহিত্যের এই সন্ধান নিঃসন্দেহে এক নব আবিষ্কার, নজরুলের কলম দ্বারা সৃষ্ট এক নব সংগীত-নিসর্গ।
প্রবন্ধকার একজন কবি, রুবাইকার, গবেষক, অনুবাদক ও শিক্ষাবিদ।

