বৃহস্পতিবার । ১৬ই এপ্রিল, ২০২৬ । ৩রা বৈশাখ, ১৪৩৩

বাংলা নববর্ষের দিন তারিখ নিয়ে বিভক্তির অবসান হোক

কামরুল ইসলাম

মুঘল আমলের আগে ভারত উপমহাদেশে কৃষকরা ফসল ফলাতেন ঠিকই, কিন্তু কর (খাজনা) দিতে হতো ইসলামী চান্দ্র বছর অনুযায়ী। এই চান্দ্র বছর (হিজরি) সূর্যের সাথে মেলে না, তাই ফসল তোলার সময় আর কর দেওয়ার সময় মিলতো না। ফলে কৃষকরা বিপাকে পড়তেন। এই সমস্যার সমাধান করতে এগিয়ে আসেন মুঘল সম্রাট আকবর।

সম্রাট আকবরের নতুন চিন্তা :
১৫৮৪ সালের দিকে আকবর একটি নতুন পদ্ধতি চালু করেন, যা পরে বাংলা সন নামে পরিচিত হয়। তিনি কী করলেন? সূর্যভিত্তিক ( Solar) হিসাব ব্যবহার করলেন যাতে ফসল তোলার সময়ের সাথে বছর মিলে যায়, কৃষকদের জন্য কর দেওয়া সহজ হয়ে যায়। এই নতুন সনকে অনেক সময় ‘ফসলি সন’ও বলা হতো।
কৃষকের জীবনে পরিবর্তন : নতুন বাংলা সন চালু হওয়ার পর বৈশাখ মাসে নতুন বছর শুরু হলো। ফসল ঘরে তোলার পর কর দেওয়া সহজ হলো। ধীরে ধীরে এটি শুধু অর্থনৈতিক নয়, সাংস্কৃতিক সন হয়ে উঠলো।
নববর্ষ উৎসবে রূপান্তর : সময়ের সাথে সাথে বাংলা সন শুধু হিসাবের বিষয় থাকলো না। এটি আনন্দ-উৎসবে পরিণত হলো। হালখাতা খোলা শুরু হলো মেলা, গান, উৎসব শুরু হলো গ্রামবাংলায় এটি বড় আনন্দের দিন হয়ে উঠলো আজ আমরা যাকে ‘পহেলা বৈশাখ’ হিসেবে উদযাপন করি, তার শিকড় এখানেই।
দুই বাংলার ভিন্ন পথ : সময় গড়াতে গড়াতে বাংলা সন দুইভাবে চলতে শুরু করে।
বাংলাদেশে : বাংলা সনকে আধুনিক করার জন্য বাংলা একাডেমি ১৯৬৬ সালে ক্যালেন্ডার সহজ করে নির্দিষ্ট দিনে (১৪ এপ্রিল) নববর্ষ স্থির করা হয়।
পশ্চিমবঙ্গে : পুরনো জ্যোতির্বিজ্ঞানভিত্তিক পদ্ধতি বজায় থাকে সূর্যের অবস্থান অনুযায়ী তারিখ নির্ধারণ হয়। শেষ কথা (সহজভাবে) বাংলা সনের জন্ম কৃষকের সুবিধার জন্য রূপান্তর সাংস্কৃতিক উৎসবে পার্থক্য হিসাবের পদ্ধতিতে। তাই বাংলাদেশ ও পশ্চিমবঙ্গ দুটোই একই শিকড়ের অংশ, শুধু পথটা একটু আলাদা।
এখন প্রশ্ন আসে- বাংলাদেশের সকল নাগরিক কী করবে? অবশ্যই সকল নাগরিককে এদেশের নিয়ম অনুসরণ করতে হবে। নইলে রাষ্ট্রকে অবমাননা করা হবে। কিন্তু, এই দেশে বসবাস করে কিছু নাগরিক ভারতের পশ্চিমবঙ্গের সাথে মিল রেখে বাংলা নববর্ষ পালন করছে, যা কোনমতেই গ্রহনযোগ্য নয়।




আরও সংবাদ

খুলনা গেজেটের app পেতে ক্লিক করুন