বৃহস্পতিবার । ৯ই এপ্রিল, ২০২৬ । ২৬শে চৈত্র, ১৪৩২
রহস্যে ঘেরা শ্রমিকদল নেতা মাসুম হত্যা মামলা

দুই আসামি ছাড়া আর কেউ গ্রেপ্তার হয়নি; পরিবারের মাঝে হতাশা, অজানা আতঙ্ক

নিজস্ব প্রতিবেদক

রহস্য ঘেরা খুলনার আলোচিত রূপসা উপজেলা শ্রমিক দলের সাবেক আহ্বায়ক মাসুম বিল্লাহ হত্যা মামলার তদন্ত কার্যক্রম। দু’সন্ত্রাসী গ্রেপ্তারের মধ্যে সীমাবদ্ধ রয়েছে। আর গতি পায়নি এ মামলাটি। মিশনে অংশ নেওয়া অপর সন্ত্রাসীরা গ্রেপ্তার না হওয়ায় পরিবারের মাঝে মামলার ভবিষ্যত নিয়ে হতাশা ও অজানা আতঙ্ক বিরাজ করছে।

পুলিশ ও একাধিক গোয়েন্দা সংস্থা এবং এলাকাবাসীর দেওয়া তথ্যে জানা গেছে, রূপসায় স্থানীয় একটি পক্ষের সাথে মাসুমের দ্বন্দ্ব ছিল দীর্ঘ দিনের। কয়েকমাস আগে মাসুম বিল্লাহকে উপজেলা শ্রমিকদলের আহ্বায়ক করে কমিটি অনুমোদন দেয় জেলা কমিটি। কিন্তু বাধসাধে স্থানীয় প্রতিপক্ষ। মাসুম বিল্লাহর পক্ষে আনন্দ মিছিল হওয়ার পরপর প্রতিপক্ষ নামে কমিটি বাতিলের দাবিতে মিছিলে। এভাবে চলে প্রতিদিন। অবশেষে কেন্দ্রের নির্দেশে কমিটি বাতিল করা হয়। এসব নানা কারণে মাসুম বিল্লাহকে হত্যার পরিকল্পনা করা হয়। খুলনার একটি বিশেষ বাহিনীর সাথে যোগাযোগ করতে থাকে তারা। বিপুল অঙ্কের টাকার প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয় ওই বাহিনী প্রধানকে। বাহিনীর প্রধান হত্যা মিশন সফল করার জন্য শেখপাড়া এলাকার চিহ্নিত এক সন্ত্রাসীর সহায়তা নেয়। ওই সন্ত্রাসীর সদস্যরা মাসুম হত্যা মিশনে অংশ নেয়। তাদের মধ্যে অশোক ঘোষ মিশন সফল করার জন্য ৫০ হাজার টাকা অগ্রীম নেয়।

একটি সূত্র জানায়, ৪ মার্চ দুপুরে হত্যা মিশনে অংশ নেওয়া অন্যান্য সদস্যরা শেখপাড়ার চিহ্নিত সন্ত্রাসীর কাছ থেকে দিক নির্দেশনা নেয়। হত্যাকাণ্ডের সময় আকরাম নামে এক সন্ত্রাসী ডাকবাংলো মোড়ে বাটার দোকানের সামনে অবস্থান করে। অশোক ঘোষ আকরামের কাছ থেকে পিস্তল নেয় এবং যা দিয়ে সে গুলি চালায়। অপর কিলার সৌরভ মাসুমকে ধাওয়া করে নিয়ে বাটার শোরুমে প্রকাশে শর্টগান দিয়ে গুলি চালায়। এর আগে তাকে ধাওয়া দিয়ে ধারালো অস্ত্র দিয়ে পায়ে কুপিয়ে জখম করে।

সাধারণ মানুষের কাছে খুনিরা অপরিচিত হওয়ায় অনেকেই প্রকাশ্যে ঘুরে বেড়াচ্ছে। তাছাড়া মাসুমের মৃত্যুর পর থেকে শেখপাড়ার ওই চিহ্নিত সন্ত্রাসী পলাতক রয়েছে।

সূত্রটি আরও জানায়, হত্যা মিশন সফল করার জন্য তিনটি গ্রুপ কাজ করে। একটি খুনিদের কাছে মাসুমের গতিবিধির খবরা খবর পৌঁছে দেয়। অপরটি হত্যা মিশনে অংশ নেয় এবং বাকী গ্রুপটি তাদের সেইফ এক্সিট দেয়। শুধুমাত্র হত্যা মিশনেই অংশ নেয় ৮ জন। তাদের মধ্যে অশোক ও জাবেদকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। ঘটনার পরের দিন হত্যাকাণ্ডের বিবরণ জানিয়ে আদালতে জবানবন্দি দেয় অশোক। তবে দু’জন সন্ত্রাসী গ্রেপ্তারের মধ্যে সীমাবদ্ধ রয়েছে তদন্ত কার্যক্রম, কিন্তু গতি পায়নি মামলাটি বলে সূত্রটির দাবি।

নিহত মাসুম বিল্লাহর ছেলে মোঃ আবিদ হোসাইন বলেন, ‘আমার বাবা হত্যাকাণ্ডের ৩৫ দিন পার হয়ে গেল। একজন সন্তান হিসেবে আজ আমাকে এই প্রশ্ন তুলতে হচ্ছে- আমরা কি তবে এক বিচারহীনতার জনপদে বাস করছি? হত্যাকাণ্ডের পরপরই সাধারণ জনতা সাহসের পরিচয় দিয়ে মূল অস্ত্রসহ হত্যাকারীদের একজনকে পাকড়াও করে পুলিশে তুলে দিয়েছিল। সিসিটিভি ফুটেজে খুনি অশোকের তাণ্ডব এবং আমার আব্বুকে হত্যার দৃশ্য দিবালোকের মতো পরিষ্কার। অথচ অত্যন্ত পরিতাপের বিষয়, এই দীর্ঘ সময়েও পুলিশ প্রশাসনের পক্ষ থেকে কার্যকর কোনো অগ্রগতি দৃশ্যমান হয়নি। উল্টো দায়সারাভাবে আটককৃত আসামির একজন সহকারীকে গ্রেপ্তার দেখিয়ে পুলিশ তাদের দায়িত্ব শেষ করতে চাইছে, যা কেবল হাস্যকরই নয় বরং চরম ন্যক্কারজনক।’

তিনি বলেন, ‘খুনিরা প্রকাশ্যে ঘুরে বেড়াবে আর নিহতের পরিবার বিচারের দাবিতে দ্বারে দ্বারে ঘুরবে- এটি কোনো সভ্য সমাজের চিত্র হতে পারে না।’

মামলার তদন্ত কর্মকর্তা এস আই জামাল উদ্দিন বলেন, ‘হত্যাকাণ্ড সম্পর্কে অশোক গুরুত্বপূর্ণ তথ্য দিয়েছে। সেগুলো যাচাই-বাছাই করা হচ্ছে। তাছাড়া হত্যাকাণ্ড সম্পর্কে অনেক তথ্য আমরা পাচ্ছি। সেগুলোও পর্যালোচনা করা হচ্ছে। অংশ নেওয়া অপর সন্ত্রাসীদের গ্রেপ্তারে অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছে।’

 

খুলনা গেজেট/এনএম




আরও সংবাদ

খুলনা গেজেটের app পেতে ক্লিক করুন