সোমবার । ২৫শে মে, ২০২৬ । ১১ই জ্যৈষ্ঠ, ১৪৩৩

সড়কের মাঝে বৈদ্যুতিক খুঁটি রেখে পিচ ঢালাই!

নিজস্ব প্রতিবেদক, কয়রা

পল্লি অবকাঠামো উন্নয়ন প্রকল্পের আওতায় প্রায় সাড়ে ৪ কোটি টাকা ব্যয়ে কয়রা উপজেলার মহারাজপুর ইউনিয়নের গ্র্যাজুয়েট হাইস্কুল-হায়াতখালী বাজার সড়ক, নির্মাণাধীন ৩ কিলোমিটার সড়কের উপর ২০টি বৈদ্যুতিক খুঁটি অপসারণ না করেই কার্পেটিং করা হয়েছে।

সড়কের উপর বৈদ্যুতিক খুঁটি রেখে এভাবে নির্মাণকাজ করায় স্থানীয়দের মধ্যে ক্ষোভ ও উদ্বেগ বিরাজ করছে। যেকোনো সময় বড় ধরনের দুর্ঘটনা ঘটতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন পথচারী ও এলাকাবাসী।

স্থানীয়দের অভিযোগ, সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের নজরদারির অভাব ও ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের গাফিলতির কারণেই এমন ঝুঁকিপূর্ণভাবে সড়ক নির্মাণ করা হয়েছে। বিদ্যুৎ অফিস বলছেন তাদেরকে অবহিত না করে বৈদ্যুতিক খুঁটি রেখে সড়কে কার্পেটিং করেছেন।

উপজেলা প্রকৌশল অধিদপ্তর সূত্রে জানা যায়, গ্র্যাজুয়েট হাইস্কুল-হায়াতখালি বাজার সড়কের সাড়ে ৩ কিলোমিটার উন্নয়ন কাজের জন্য ৪ কোটি ৪২ লাখ ৭৭ হাজার ২২৯ টাকা ব্যয় নির্ধারণ করা কাজের দায়িত্ব পায় মেসার্স এস,আর ট্রেডার্স। ২০২৪ সালের এপ্রিল মাসে কাজটি শেষ করার কথা থাকলেও দুই দফা মেয়াদ বৃদ্ধি করলেও শেষ করতে পারিনি ঠিকাদার প্রতিষ্ঠান।

উপজেলার মহারজপুর ইউনিয়নের হায়াতখালি বাজার হতে মঠবাড়ি মধ্য পাড়া দিয়ে গ্র্যাজুয়েট মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের অভিমুখে গেলে দেখা যায়, কয়েক দিন আগে সড়কের উপর পিচ ঢালাই হয়েছে। তবে এই সড়কের উপর থাকা ২০টি বৈদ্যুতিক খুঁটি রেখে সড়কের কার্পেটিং করা হয়। এসব বৈদ্যুতিক খুঁটি এলাকার বাসাবাড়ির সাথে সংযুক্ত রয়েছে।
স্থানীয় বাসিন্দা মুকুল গাজী বলেন, “জনগুরুত্বপূর্ণ সড়কটির উপর বৈদ্যুতিক খুঁটি রেখে পিচ ঢালাই করে অপরিকল্পিত ভাবে রাস্তা তৈরি করা হয়েছে।”

মহারাজপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আব্দুল্লাহ আল মাহামুদ বলেন, “সমন্বয়হীনতার অভাবে এমন হয়েছে। বৈদ্যুতিক খুঁটি স্থানান্তর না করলে পথচারীদের ভোগান্তি হবে, বাড়বে দুর্ঘটনা।”

এস আর ট্রেডার্সের মালিক মোঃ শহিদুল ইসলাম বলেন, “বৈদ্যুতিক খুঁটি অপসারণের কোনো বরাদ্দ না থাকায় রাস্তার উপর বৈদ্যুতিক খুঁটি রেখে সড়কের কাজ সম্পন্ন করতে হচ্ছে। বৈদ্যুতিক খুঁটি রেখে সড়কে কাজ করতে আমাদেরও ঝামেলা হচ্ছে।”

পল্লি বিদ্যুৎ সমিতির কয়রা জোনাল অফিসের ডিজিএম মাহাফুজুর রহমান বলেন, “নির্মাণাধীন কোনো সড়কের উপর বৈদ্যুতিক খুঁটি থাকলে ঠিকাদার প্রতিষ্ঠান অথবা এলজিডি থেকে বৈদ্যুতিক খুঁটি স্থানান্তরের জন্য একটা আবেদন করলে আবেদনের প্রেক্ষিতে বৈদ্যুতিক খুঁটি স্থানান্তরের খরচের টাকার পরিমাণ ঠিকাদার প্রতিষ্ঠানকে জানানো হয়। পরবর্তীতে ঠিকাদার প্রতিষ্ঠান টাকা জমা দিলে আমরা বৈদ্যুতিক খুঁটি সরিয়ে দেই।” তার দাবি এটা ঠিকাদার প্রতিষ্ঠানের গাফিলতি। হয়ত বৈদ্যুতিক খুঁটি অপসারণ করতে যে টাকা খরচ হবে সেটা খরচ করতে চাইছে না। এজন্য তারা আমাদের অবহিত না করে কাজ চালিয়ে যাচ্ছে।

উপজেলা প্রকৌশলী শাহীন শোয়েব বলেন, “রাস্তাটি বরাদ্দের সময় বৈদ্যুতিক খুঁটি অপসারণের কোনো বরাদ্দ না থাকায় আমরা বৈদ্যুতিক খুঁটি রেখে সড়কের কাজ চলমান রেখেছি। পরবর্তীতে বরাদ্দ পেলে বৈদ্যুতিক খুঁটি অপসারণ করা হবে।”

 

খুলনা গেজেট/এনএম




আরও সংবাদ

খুলনা গেজেটের app পেতে ক্লিক করুন