অনিয়মের স্বর্গরাজ্যে পরিণত হয়েছে আলোচিত রূপসা ঘাট। টোল আদায়ে অনিয়মের পাশাপাশি ঘাট মাঝিদের সীমাহীন অনিয়ম, অব্যবস্থাপনা ও দুর্ব্যবহারে যাত্রীরা অতিষ্ঠ হয়ে উঠেছে। ঘাটে না আছে যাত্রী বহনে নিয়ম-কানুন। না আছে ভাড়া আদায়ের সীমাবদ্ধতা। অপ্রাপ্তবয়স্ক নতুন নতুন মাঝিদের হাতে প্রকৃত মাঝিরা তাদের ট্রলার ছেড়ে দিয়ে থাকে। এদের মধ্যে বেশিরভাগ রয়েছে মাদকসেবী। অপরদিকে ঘাট মাঝি সংঘের নির্বাচিত কর্মকর্তাদের অনেকেই ঘাটে আসে না। ফলে নেই কোনো তদারকি। নির্বাচনে ১২ জন নির্বাচিত হলেও কার্যনির্বাহী পরিষদের সংখ্যা এখন দাঁড়িয়েছে ২২ জনে। অনির্বাচিত কর্মকর্তারাই মূলত ঘাট নিয়ন্ত্রণ করছে। ফলে এ ঘাটের অনিয়ম দুর্নীতি কোনোভাবেই দূর হচ্ছে না।
দক্ষিণাঞ্চলের ট্রলার পারাপারের সব থেকে ব্যস্ততম এই রূপসাঘাট। প্রতিদিন ৩০ থেকে ৪০ হাজার লোক পারাপার হয়ে থাকে এ ঘাট দিয়ে। দিন আর রাত নেই, বিরামহীনভাবে চলে যাত্রী পারাপার।
যাত্রীদের অভিযোগ, সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের অনুমতি ছাড়াই দিনের বেলায় চার টাকার ভাড়া ৫ টাকা এবং রাত দশটার পর বেশিরভাগ ট্রলার মাঝি দশ টাকা করে নিচ্ছে। যাত্রীবহনে ছোট ট্রলারে ২০জন এবং বড় ট্রলারে ২৫ জন করে যাত্রী নেওয়ার নিয়ম থাকলেও এর কোনো তোয়াক্কা করা হচ্ছে না। প্রতি ট্রলারে ৪০-৫০ জন করে যাত্রী বহন করা হচ্ছে। কখনো কখনো এর চেয়ে বেশি যাত্রী বোঝাই করে ঝুঁকি নিয়ে পারাপার করা হলেও তাদের বিরুদ্ধে কোন ব্যবস্থা গ্রহণ করছেন না মাঝি সংঘের নেতৃবৃন্দ। অভিযোগ রয়েছে মাঝি সংঘের নির্বাচিত দু’একজন কর্মকর্তাকে দিনের বেলা ঘাটে দেখা গেলেও সন্ধ্যার পর ঘাটটি একেবারেই অরক্ষিত হয়ে পড়ে। সন্ধ্যার পর থেকে গভীর রাত পর্যন্ত মাদকসেবী যুবকদের নিয়ন্ত্রণে চলে যায় যাত্রী পারাপার। এদের অনিয়মতান্ত্রিক কর্মকান্ডে ঘাটের নিয়মিত পারাপারের যাত্রীরা অনেকটা অসহায় হয়ে পড়ে।
ঘাটে যাত্রী পারাপারে অনিয়মের কারণে গত বছরের ৯ নভেম্বর রাতে ট্রলার থেকে পড়ে শেখ মহিদুল হক মিঠু নামে এক ব্যক্তি নিখোঁজ হন। ঘটনার তিন দিন পর ১২ নভেম্বর রূপসা রেলব্রিজ সংলগ্ন এলাকা থেকে নৌপুলিশ তার মরদেহ উদ্ধার করে। তারপরও ফেরেনি ঘাটের শৃঙ্খলা।
নিয়মিত ঘাট পারাপার হওয়া রূপসা উপজেলার দেবিপুর গ্রামের সিরাজ জানায়, ঘাটে কোন নিয়মের বালাই নেই। সন্ধ্যার পর যাত্রী পারাপারে অনিয়মের স্বর্গরাজ্যে পরিণত হয়। ৪ টাকার ভাড়া দিনের বেলা ৫টাকা নিলেও রাতে ১০টাকা করে নিয়ে থাকে। আসন্ন ঈদ-উল আযহা উপলক্ষে যাত্রীর সংখ্যা বৃদ্ধি পাওয়ায় অনিয়ম আরও বেড়েছে। এদের বিরুদ্ধে রূপসা উপজেলা প্রশাসন বা বিআইডব্লিউটিএ’র কোন নজরদারী নেই।
এ ব্যাপারে বক্তব্য নেওয়ার জন্য গতকাল শুক্রবার রাত পৌনে আটটায় মাঝি সংঘের সভাপতি হালিম চৌকিদারের ০১৩০৪-৫৬২৯৭১ নম্বর ও সাধারণ সম্পাদক হারেজ হাওলাদারের ০১৯৬৫-৫৩২৫৫১ নম্বর মোবাইলে কল দিলে ফোন বন্ধ পাওয়া গেছে।
ঘাটের অনিয়ম নিয়ে রূপসা উপজেলা নির্বাহী অফিসার সানজিদা রিক্তা বলেন, ‘ঘাটে যাতে কোন প্রকার অনিয়ম না হয় সে ব্যাপারে মনিটরিং করা হবে। এছাড়া মাঝি সংঘের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকসহ কর্মকর্তাদের সাথে আলোচনা করে যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।’
খুলনা গেজেট/এনএম

