আসন্ন ঈদুল আজহাকে কেন্দ্র করে কয়রায় অস্থায়ী পশুর হাট ইজারা নিয়ে অনিয়ম ও স্বচ্ছতার অভাবের অভিযোগ উঠেছে। উপজেলা প্রশাসনের অনুমোদন রয়েছে তিনটি হাটের, তবে বাস্তবে পাঁচটি স্থানে পশুর হাট বসানো হচ্ছে।
অভিযোগ রয়েছে, স্থানীয় প্রশাসনের নীরবতার সুযোগে একটি মহল অনুমোদন ছাড়াই পশুর হাট পরিচালনা করছে। একই সঙ্গে অনুমোদিত হাটগুলোর ইজারা মূল্যও অস্বাভাবিকভাবে কম নির্ধারণ করা হয়েছে বলে দাবি স্থানীয় সচেতনদের।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কার্যালয় ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, “কয়রা উপজেলার বাগালী ইউনিয়নের বামিয়া জিআই ক্লাব মাঠ অস্থায়ী পশুর হাট হিসেবে ১২ হাজার ১০০ টাকায় ইজারা দেওয়া হয়েছে ক্লাবের সভাপতি জিয়াউর রহমানের নামে। ভ্যাট-ট্যাক্সসহ এর মোট মূল্য দাঁড়িয়েছে ১৫ হাজার ১২৫ টাকা। গেল শুক্রবার সেখানে হাট বসেছে, আগামী মঙ্গলবারও বসবে।
এলাকাবাসীর ভাষ্য, এটি কয়রার অন্যতম বড় পশুর হাট। প্রতি বছর এখান থেকে তিন-চার লাখ টাকার খাজনা আদায় হয়।
এ ছাড়া মহারাজপুর ইউনিয়ন পরিষদের পেছনের বালুর মাঠ ১০ হাজার টাকায় হাফিজুর রহমান নামের এক ব্যক্তির কাছে ইজারা দেওয়া হয়েছে। নতুন এ হাটে সোমবার ও বুধবার পশু বেচাকেনার প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে। অন্যদিকে আমাদী ইউনিয়নের আমাদী হাট ১০ হাজার টাকায় ইজারা পেয়েছেন শেখ মোঃ মিজানুর রহমান। সেখানে শুক্রবার ও মঙ্গলবার হাট বসানোর প্রচারণা চালানো হয়।
তবে অনুমোদিত এই তিন হাটের বাইরে বাগালী ইউনিয়নের ইসলামপুর এলাকায় ইতোমধ্যে পশুর হাট বসেছে। গত ২৩ মে সেখানে হাট অনুষ্ঠিত হয় এবং আগামী ২৭ মে আবারও হাট বসানোর ঘোষণা দেওয়া হয়েছে। স্থানীয়রা জানান, গত বছরও ইসলামপুরে জমজমাট পশুর হাট বসেছিল। একইভাবে কয়রা সদরের দেওলিয়া বাজার সংলগ্ন একটি বিলেও পশুর হাট বসানো হয়েছে। গতকাল রবিবার বিকেলে সেখানে গিয়ে ক্রেতা-বিক্রেতাদের ভিড় দেখা যায়। পশুর স্বাস্থ্য পরীক্ষার জন্য সেখানে উপজেলা প্রাণিসম্পদ দপ্তরের কর্মকর্তাদেরও দেখা মেলে।
বামিয়া জিআই ক্লাব মাঠের হাটের ইজারাদার জিয়াউর রহমান বলেছেন, “সরকারি নিয়ম মেনে রাজস্ব জমা দিয়েই আমরা হাটের অনুমোদন নিয়েছি। কিন্তু পাশেই অনুমোদন ছাড়া হাট বসানো এবং একই দিনে পার্শ্ববর্তী ইউনিয়নে হাট হওয়ায় আমরা ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছি।”
তার ভাষ্য, “ হাটের লাভ সম্পূর্ণ ক্লাবের ফান্ডে জমা করা হয়। গত বছর এই হাট থেকে ৩ লাখ টাকার বেশি খাজনা আদায় হয়েছিল। এবারও ভালো বেচাকেনার আশা করছি। তবে ইজারা পেতে ও আনুষঙ্গিক ব্যয় মিলে প্রায় ২ লাখ টাকা খরচ পড়ে যাচ্ছে।
বাগালী ইউনিয়নের ইসলামপুর পশুর হাটের সঙ্গে জড়িত স্থানীয় সোহরাব হোসেন বলেন, “আমরা নিয়ম মেনেই আবেদন করেছি। তবে প্রশাসনের অনুমোদন পেতে দেরি হচ্ছে। ডিসি অফিসে বিষয়টি প্রক্রিয়াধীন আছে। মৌখিক অনুমতি নিয়ে একদিন হাট বসানো হয়েছিল।”
কয়রা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোঃ আব্দুল্লাহ আল বাকী বলেন, “নিয়ম মেনে তিনটি অস্থায়ী পশুর হাটের অনুমোদন দেওয়া হয়েছে এবং সরকারি রাজস্ব আদায় করে কোষাগারে জমা করা হয়েছে। অনুমোদনের বাইরে কেউ হাট বসালে বা অনিয়ম করলে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
খুলনা গেজেট/এনএম

