জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় স্কুলগামী শিক্ষার্থীদের যাতায়াতে বড় পরিবর্তনের পথে হাঁটছে সরকার। ব্যক্তিগত গাড়ির ওপর নির্ভরতা কমিয়ে শিক্ষার্থীদের জন্য ইলেকট্রিক বাস চালুর নীতিগত সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। গত ৩ এপ্রিল মন্ত্রিসভার বৈঠকে এ বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়।
মন্ত্রিপরিষদ সচিব ড. নাসিমুল গনি জানান, শিক্ষার্থীদের পরিবহনে পরিবেশবান্ধব ও সাশ্রয়ী ব্যবস্থা হিসেবে ধাপে ধাপে ইলেকট্রিক বাস চালু করা হবে। যেসব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান এই উদ্যোগে অংশ নেবে, তাদের জন্য শুল্ক ছাড়ে বাস আমদানির সুযোগ রাখা হবে, যাতে প্রতিষ্ঠানগুলো সহজেই এই ব্যবস্থায় যুক্ত হতে পারে।
এদিকে গতকাল মঙ্গলবার বৈদ্যুতিক স্কুল বাস আমদানিতে শুল্ক শূন্য করার ঘোষণা করেছেন জাতীয় রাজস্ব বোর্ড চেয়ারম্যান আবদুর রহমান খান। এই অবস্থায় খুলনায় গণপরিবহন সংকটে বিকল্প সমাধান হতে পারে সরকারের নতুন ইলেকট্রিক বাস।
খুলনার পরিবহন খাতের ব্যবসায়ীরা জানান, নব্বইয়ের দশকে রূপসা থেকে ফুলতলা ও রূপসা থেকে শাহপুর পর্যন্ত অর্ধশতাধিক গণপরিবহন চলাচল করতো। যোগাযোগ ও পরিবহন অনুন্নত থাকায় এই বাসই ছিল মানুষের অন্যতম ভরসাস্থল। তখন বিত্তবানরা বেবী ট্যাক্সিতে চলাচল করতো। এরপর থ্রি-হুইলার, সিএনজি চালিত যানবাহনের আধিক্য বাড়তে থাকায় এবং পরিবহনগুলোর বেহাল দশার কারণে লোকসানের মুখে পড়তে থাকে এই খাত। আর্থিক ক্ষতির মুখে ২০০৫ সাল থেকে নগর পরিবহন বন্ধ শুরু হয়। একপর্যায়ে একেবারেই বন্ধ হয়ে যায় গণপরিবহন। বাধ্য হয়ে মানুষ অতিরিক্ত ভাড়ার থ্রিহুইলার, সিএনজি ও ইজিবাইকে চলতে বাধ্য হয়।
সংকট নিরসনে ২০১৬ সালের ১১ জুন পাঁচটি দোতলা বাস (ডাবল ডেকার) চালু করলেও থ্রি-হুইলার ও বেবী ট্যাক্সি ইউনিয়নের অসাধু নেতাদের বাঁধায় অল্পদিনে বন্ধ হয়ে যায় রাষ্ট্রীয় পরিবহন ‘বিআরটিসি’র এ সার্ভিসটি।
নগরবাসীর দাবির প্রেক্ষিতে ২০১৯ সালে খুলনা মোটর বাস মালিক সমিতির উদ্যোগে ৪টি গণপরিবহন চালু হয়। কিন্তু ইজিবাইক, মাহেন্দ্রা ও সিএনজির নেতাদের অনৈতিক দাবির মুখে সেগুলো ফের বন্ধ হয়ে যায়। এরপর ২০২২ সালের আগস্টে ৬টি বাস রাস্তায় নামানো হলেও দু’ মাসের মধ্যে আবারও মুখ থুবড়ে পড়ে।
বর্তমান শহরের একপাশ থেকে অন্যপাশে যাতায়াতের জন্য কোনো গণপরিবহন নেই। জ্বালানি তেল সংকটের অজুহাতে আরেক দফা ভাড়া বাড়িয়েছে থ্রি-হুইলার চালক ও সিএনজি মালিকরা। এ অবস্থায় সরকারের নতুন উদ্যোগ ইলেকট্রিক বাস নিয়ে আলোচনা শুরু হয়েছে।
এ ব্যাপারে বৃহত্তর খুলনা উন্নয়ন সংগ্রাম সমন্বয় কমিটির সভাপতি শেখ আশরাফ উজ জামান বলেন, গণপরিবহন সংকটে সরকার ইলেকট্রিক বাস চালুর চিন্তা ইতিবাচক পদক্ষেপ। তবে শুধু ঢাকায় চালু না করে এটি খুলনাসহ বিভাগীয় শহরেও পরীক্ষামূলকভাবে চালু করতে পারে। সরকার পরীক্ষামূলকভাবে চালুর পর ইতিবাচক ফল পেলে বেসরকারি খাতের ব্যবসায়ী এবং স্কুল-কলেজগুলো নিজস্ব উদ্যোগে এই বাস চালু করতে পারে। এক্ষেত্রে সবার আগে সরকারকেই এগিয়ে আসতে হবে।
খুলনা সচেতন নাগরিক কমিটির সাবেক সভাপতি অ্যাডভোকেট কুদরত ই খুদা বলেন, যুগের সঙ্গে তাল মিলিয়ে বিশ্বের বিভিন্ন দেশের মতো গণপরিবহন খাতে বৈদ্যুতিক যানবাহন চালু-সময়োপযোগী পদক্ষেপ। শুধু ঢাকায় চালু না করে এটি খুলনাসহ বিভাগীয় শহরেও চালু করা প্রয়োজন।
খুলনা গেজেট/এনএম

