বটিয়াঘাটা উপজেলার বারোআড়িয়া থেকে সুন্দরমহল সড়ক মাত্র ৫ কিলোমিটার পথ। অথচ এই স্বল্প দূরত্বে যাত্রী প্রতি ভাড়া আদায় করা হচ্ছে ২৫ থেকে ৩০ টাকা। নির্ধারিত ভাড়ার তোয়াক্কা না করে অতিরিক্ত টাকা আদায়ের অভিযোগে প্রতিদিনই যাত্রীদের সঙ্গে ভ্যান, নসিমন ও ইজিবাইক চালকদের বাগ্বিতণ্ডা সৃষ্টি হচ্ছে। কখনো কখনো পরিস্থিতি হাতাহাতির পর্যায়েও গড়াচ্ছে বলে জানিয়েছেন স্থানীয়রা।
স্থানীয়রা জানায়, একসময় এই সড়কে ভাড়া ছিল মাত্র ১০ টাকা। রাস্তার বেহাল অবস্থার কারণে তা বাড়িয়ে ১৫ টাকা করা হয়। কিন্তু সম্প্রতি সড়কের সংস্কার কাজ শেষ হলেও ভাড়া আর কমেনি। বরং বর্তমানে ৫ কিলোমিটার রাস্তায় জন প্রতি আদায় করা হচ্ছে ২৫ থেকে ৩০ টাকা। শুধু তাই নয়, বারোআড়িয়া কলেজ মোড় থেকে সুন্দরমহল বাজার কিংবা বারোআড়িয়া বাজার পর্যন্ত আগে যেখানে ভাড়া ছিল ৫ টাকা, এখন সেখানে নেওয়া হচ্ছে ২০ টাকা। মাঝপথে ওঠানামা করলে গুনতে হচ্ছে দ্বিগুণ ভাড়া। এতে ক্ষোভে ফুঁসছেন সাধারণ যাত্রীরা।
একাধিক যাত্রী অভিযোগ করে বলেন, ‘ভাড়া নিয়ে কথা বললেই চালকরা ক্ষিপ্ত হয়ে ওঠেন। কখনো অপমানজনক আচরণ করেন। কখনো পরিস্থিতি মারমুখী হয়ে যায়। আমরা যেন জিম্মি হয়ে পড়েছি তাদের নিকট।’
এলাকাবাসীর দাবি, সড়কে কোনো সরকারি ভাড়া তালিকা বা সিডিউল নেই। ফলে চালকরা নিজেদের ইচ্ছামতো ভাড়া নির্ধারণ করছেন। তাদের ভাষায়, এ যেন চাঁদাবাজির স্বর্গরাজ্য। প্রশাসনের নজরদারি না থাকায় সাধারণ মানুষ প্রতিনিয়ত ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন।
শম্ভুনগর এলাকার এক স্কুল শিক্ষক জব্বার বিশ্বাস বলেন, ‘এদের সীমাহীন অত্যাচারে সাধারণ যাত্রী অতিষ্ট। পথের তুলনায় দ্বিগুণ ভাড়া নিচ্ছে তারা।’
৫ নং ওয়ার্ড বিএনপির সাবেক সভাপতি আবু বক্কর গাজী বলেন, ‘ভাড়া আগের চেয়ে দ্বিগুণ নিচ্ছে। তারপরও আমি তাদেরকে কম নিতে বলেছি। কিন্তু তারা আমার কথা শুনছে না। ভাড়া বেশি নেওয়ার কারণে তাদেরকে আমরা ডেকেছি। বৃহস্পতিবার তাদের সাথে ভাড়ার বিষয় নিয়ে আলোচনা হবে।’
তবে ভ্যান চালকরা জানিয়েছে, রাস্তার অবস্থা খারাপ থাকার কারণে ভাড়া বাড়ানো হয়েছিল, কিন্তু পরে আর সেট কমানো হয়নি, সেইভাবে চলছে।
এ বিষয়ে সচেতন মহল দ্রুত প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন। তাদের দাবি, আইন-শৃঙ্খলা রক্ষার্থে সরকারি সিডিউল অনুযায়ী ভাড়া নির্ধারণ ও তা কঠোরভাবে বাস্তবায়ন করতে হবে। অন্যথায় পরিস্থিতি আরও অস্থির হয়ে উঠতে পারে।
খুলনা গেজেট/এনএম

