আজ ২৬ মার্চ। ৫৬তম মহান স্বাধীনতা ও জাতীয় দিবস। ১৯৭১ সালের এদিন তৎকালীন মেজর জিয়াউর রহমান (পরবর্তীকালে বাংলাদেশের রাষ্ট্রপতি) প্রথম বার নিজেই চট্টগ্রামের কালুরঘাট বেতার কেন্দ্র থেকে বাংলাদেশের স্বাধীনতার ঘোষণা দেন। পরদিন ২৭ মার্চ তিনি আবারো স্বাধীনতার ঘোষণা দেন। পরে ৯ মাসের রক্তক্ষয়ী যুদ্ধের মধ্য দিয়ে বাংলাদেশের স্বাধীনতা অর্জিত হয়। স্বাধীনতা ঘোষণার এই মাহেন্দ্রক্ষণের আগ মুহূর্তে; ২৫ মার্চ কালরাতে পাকিস্তানি সামরিক বাহিনী বাঙালির ওপর অতর্কিত গণহত্যা অভিযান ‘অপারেশন সার্চলাইট’ শুরু করে। পাকিস্তানি সেনাবাহিনীর সেই অভিযানে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়, রাজারবাগ পুলিশ লাইনস, রমনা কালীমন্দিরসহ বিভিন্ন এলাকায় গণহত্যা চালায়। শুধু ঢাকায়ই ওই রাতে অন্তত ৭ হাজার বাঙালিকে হত্যা করা হয়।
দিবসটি উপলক্ষে রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান পৃথক পৃথক বাণী দিয়েছেন। বাণীতে রাষ্ট্রপতি বাংলাদেশ বিনির্মাণে দেশবাসীকে সম্মিলিতভাবে কাজ করার আহ্বান জানিয়েছেন এবং প্রধানমন্ত্রী দিবসটিকে জাতীয় জীবনের এক গৌরবময় ও ঐতিহাসিক দিন হিসেবে উল্লেখ করেছেন।
দিবসটি যথাযোগ্য ভাবগাম্ভির্যের মধ্য দিয়ে উদযাপনের লক্ষ্যে খুলনা জেলা প্রশাসনসহ বিভিন্ন সংগঠন ও প্রতিষ্ঠান নানা কর্মসূচির আয়োজন করেছে।
খুলনা জেলা প্রশাসন : দিবসটি উপলক্ষে খুলনা জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে আজ বৃহস্পতিবার সূর্যোদয়ের সাথে সাথে গল্লামারী শহিদ স্মৃতিসৌধে পুষ্পমাল্য অর্পণ করা হবে। প্রত্যুষে খুলনা মেট্রোপলিটন পুলিশ লাইনে একত্রিশবার তোপধ্বনির মাধ্যমে দিবসের শুভ সূচনা করা হবে।
এছাড়া সূর্যোদয়ের সাথে সাথে সকল সরকারি, আধাসরকারি, স্বায়ত্তশাসিত, বেসরকারি ভবন ও প্রতিষ্ঠানে জাতীয় পতাকা উত্তোলন করা হবে। সকাল সাড়ে আটটায় খুলনা জেলা স্টেডিয়ামে বিভাগীয় কমিশনার আনুষ্ঠানিকভাবে জাতীয় পতাকা উত্তোলন করবেন। একই স্থানে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীদের সমাবেশ, কুচকাওয়াজ ও ডিসপ্লে অনুষ্ঠিত হবে। বেলা সাড়ে ১১টায় খুলনা জেলা শিল্পকলা একাডেমি অডিটোরিয়ামে বীর মুক্তিযোদ্ধা ও শহিদ পরিবারের সদস্যদের সংবর্ধনা অনুষ্ঠিত হবে। সকাল নয়টায় খুলনা সিটি কর্পোরেশন মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক রচনা ও চিত্রাঙ্কন প্রতিযোগিতার আয়োজন করবে। সকাল নয়টা থেকে সূর্যাস্ত পর্যন্ত বিআইডব্লিউটিএ রকেট ঘাটে নৌ-বাহিনীর জাহাজ জনসাধারণের দর্শনের জন্য উন্মুক্ত রাখা হবে।
খুলনা সিটি কর্পোরেশন : দিবসের প্রত্যুষে কেসিসি প্রশাসক নজরুল ইসলাম মঞ্জু’র নেতৃত্বে গল্লামারী স্মৃতিসৌধে মহান মুক্তিযুদ্ধে বীর শহিদদের প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন; সূর্যোদয়ের সাথে সাথে নগর ভবন, খালিশপুর শাখা অফিস, নগর স্বাস্থ্য ভবন ও ওয়ার্ড অফিসসহ কেসিসি’র গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা এবং কেসিসি পরিচালিত সকল শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে জাতীয় পতাকা উত্তোলন; নগর ভবন, নগরীর সড়ক দ্বীপ ও ৩টি প্রবেশ দ্বার কাগজের পতাকা দ্বারা সজ্জিতকরণ। এছাড়া সকাল ৮টা থেকে রাত ৮টা পর্যন্ত নগরীর ওয়ান্ডারল্যান্ড শিশু পার্ক ও লিনিয়ার পার্কে শিশুদের বিনামূল্যে প্রবেশের ব্যবস্থা রাখা হবে।
সকাল ৯টায় নগর ভবনে শিশুদের চিত্রাঙ্কন ও রচনা প্রতিযোগিতা এবং বেলা ১১টায় আলোচনা সভা ও পুরস্কার বিতরণ অনুষ্ঠিত হবে। বিকেল ৪টায় জেলা স্টেডিয়ামে খুলনা সিটি কর্পোরেশন একাদশ ও জেলা প্রশাসন একাদশের মধ্যে প্রীতি ফুটবল প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত হবে। কেসিসি প্রশাসক নজরুল ইসলাম মঞ্জু প্রধান অতিথি হিসেবে বিজয়ীদের মাঝে পুরস্কার বিতরণ করবেন।
খুলনা বিশ্ববিদ্যালয় : সকাল ৭টায় খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ে প্রশাসনিক ভবনের সম্মুখে জাতীয় পতাকা উত্তোলন, সকাল ৭টা ১৫ মিনিটে র্যালিসহকারে বিশ্ববিদ্যালয়ের শহিদ মিনারে শ্রদ্ধাঞ্জলি অর্পণ, বাদ জোহর বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় জামে মসজিদে দোয়া মাহফিল এবং বিশ্ববিদ্যালয় মন্দিরে প্রার্থনা আয়োজন।
বিএনপি : খুলনা মহানগর জেলা বিএনপি’র উদ্যোগে সূর্যোদয়ের সঙ্গে সঙ্গে সকল দলীয় কার্যালয়ে জাতীয় ও দলীয় পতাকা উত্তোলন, সকাল ৬টা ৩০ মিনিটে গল্লামারি স্মৃতিসৌধে শহিদদের প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন এবং বিকেল ৩টায় খুলনা জেলা আইনজীবী মিলনায়তনে আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হবে।
খুলনা প্রেসক্লাব : সূর্যোদয়ের সাথে সাথে গল্লামারী স্মৃতিসৌধে পুষ্পমাল্য অর্পণ এবং দুপুর ১২টায় ক্লাবের হুমায়ূন কবীর বালু মিলনায়তনে দিবসের তাৎপর্য তুলে ধরে আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হবে।
এমইউজে খুলনা : সূর্যোদয়ের সাথে সাথে গল্লামারী স্মৃতিসৌধে পুষ্পমাল্য অর্পণ এবং বেলা ১১টায় খুলনা প্রেসক্লাবস্থ ইউনিয়ন কার্যালয়ে দিবসের তাৎপর্য তুলে ধরে আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হবে।

