বৃহস্পতিবার । ১৯শে মার্চ, ২০২৬ । ৫ই চৈত্র, ১৪৩২

ঈদকে সামনে রেখে মাঠে বিএনপির কাউন্সিলর প্রার্থীরা, ১২ ওয়ার্ডে প্রার্থী চূড়ান্ত জামায়াতের কেসিসি নির্বাচন

নিজস্ব প্রতিবেদক

ঈদকে সামনে রেখে তৎপর হয়ে উঠেছে খুলনা সিটি করপোরেশনের (কেসিসি) কাউন্সিলর প্রার্থীরা। ঈদ শুভেচ্ছা জানিয়ে লাগানো তোরণ, পোস্টার ও ফেস্টুন ঝুলছে নগরীর ওলিগলিতে। প্রচারে থাকাথপ্রার্থীদের মধ্যে বেশিরভাগই বিএনপির ওয়ার্ড পর্যায়ের নেতা। ওয়ার্ডগুলোতে দলটির একাধিক নেতা প্রার্থী হিসেব ‘দোয়া’ চাইছেন। এক্ষেত্রে ব্যতিক্রম জামায়াত। আগে থেকে ১২টি ওয়ার্ডে প্রার্থী চূড়ান্ত করেছে তারা। এসব ওয়ার্ডে তাদের একজন করে নেতা প্রচার চালাচ্ছেন। ওয়ার্ডগুলোতেথবরখাস্ত থাকা বর্তমান অনেক কাউন্সিলর আবারও প্রার্থী হবেন। তবে তাদের কাউকেই প্রচারে দেখা যায়নি।

খুলনার সিনিয়র জেলা নির্বাচন কর্মকর্তা সোহেল সামাদ জানান, ২০২৮ সালের ১০ অক্টোবর বরখাস্ত থাকা কেসিসির বর্তমান পরিষদের মেয়াদ শেষ হবে। বিদ্যমান স্থানীয় সরকার (সিটি করপোরেশন) আইন অনুযায়ী, নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে মেয়াদ শেষ হওয়ার ৬ মাসের মধ্যে, অর্থ্যাৎ ২০২৮ সালের মাঝামাঝি।

প্রার্থীদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, কেসিসির মেয়র ও কাউন্সিলর বরখাস্ত থাকায় সেবা কার্যক্রম ব্যাহত হচ্ছে। দ্রুতই নির্বাচন হবে-এমন ধারণা থেকেই তারা প্রচারে নেমেছেন। দুই বছর পর নির্বাচন হলেও মাঠ প্রস্তুত করছেন এখন থেকেই।

নগরীর ২০নং ওয়ার্ড ঘুরে বিভিন্ন বৈদ্যুতিক খুঁটিতে প্রার্থীদের ঈদ শুভেচ্ছা ফেস্টুন ঝুলতে দেখা গেছে। তাদেরই একজন ওয়ার্ড বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক মহিউদ্দিন টারজন। তিনি বলেন, ‘আগামী নির্বাচনে কাউন্সিলর প্রার্থী হবো, এজন্য ওয়ার্ডবাসীকে ঈদ শুভেচ্ছা জানালাম।’

তিনি বলেন, ‘দল থেকে কোনো নির্দেশনা পাইনি। তবে বিগত দিনে আমিই সবচেয়ে বেশি মামলা, জেল জুলুমের শিকার হয়েছি। আশা করি দল বিষয়টি বিবেচনায় নিবে।’

ওই ওয়ার্ডের জামায়াতের প্রার্থী মনজুরুল কাদির বলেন, ‘দীর্ঘদিন ধরেই এলাকায় মানুষের জন্য কাজ করে আসছি, মানুষের পাশে আছি। দলীয় সিদ্ধান্তে এবার কাউন্সিলর প্রার্থী হয়েছি, মাঠ গোছাচ্ছি।’

নগরীর ২৭নং ওয়ার্ডের বিভিন্ন প্রবেশপথে তোরণ নির্মাণ করেছেন সাবেক ছাত্রদল নেতা খায়রুজ্জামান সজিব। তিনি বলেন, বিপদে-আপদে এলাকাবাসীর পাশে ছিলাম। তাদের অনুরোধে কাউন্সিলর প্রার্থী হতে কাজ শুরু করেছি।

বরখাস্ত থাকা কাউন্সিলররাও নীরবে কাজ করছেন। ২৩নং ওয়ার্ডের বরখাস্ত থাকা কাউন্সিলর ইমাম হাসান চৌধুরী ময়না বলেন, ‘অবশ্যই প্রার্থী হবো। ২০ বছরের ওপরে মানুষের জন্য কাজ করছি। এখন আর ফেস্টুন ঝুলিয়ে শুভেচ্ছা জানানোর প্রয়োজন পড়ে না।’

খুলনা মহানগর বিএনপির সভাপতি শফিকুল আলম মনা বলেন, ‘কেন্দ্র থেকে নির্বাচনের বিষয়ে কোন নির্দেশনা পাইনি। নেতারা যার যার মত করে প্রচারণা চালাচ্ছেন। দল থেকে নির্দেশনা না আসলে তো নেতাদের সঙ্গে কথা বলতে পারি না।’ নগরীতে তার শুভেচ্ছা পোস্টার প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘আমি নিজেও মেয়র প্রার্থী হবো। দুইবছর পর ভোট হলেও আগে থেকে মাঠ তৈরি করছি।’

॥ ওয়ার্ড পর্যায়ে একক প্রার্থী জামায়াতের ॥

কেসিসি নির্বাচন উপলক্ষে আগে থেকে প্রস্তুতি শুরু করেছে জামায়াত। ইতোমধ্যে ভোটের মাধ্যমে ১২টি ওয়ার্ডে প্রার্থী চূড়ান্ত করেছে দলটি। বর্তমানে তারা প্রচারে রয়েছেন। তারা হলেন ১নং ওয়ার্ডে আজিজুর রহমান স্বপন, দুইতে হুমায়ুন কবির, তিনে ডা. গোলাম কিবরিয়া, ৬নং ওয়ার্ডে মোশাররফ আনসারী, ৯নং ওয়ার্ডে কাজী বায়োজিদ হোসেন, ১২ নং ওয়ার্ডে মাস্টার শফিকুল আলম, ১৩নং ওয়ার্ডে মোঃ নাসিম, ১৫নং ওয়ার্ডে সাজ্জাদ হোসেন, ১৮নং ওয়ার্ডে মশিউর রহমান রমজান, ২০নং ওয়ার্ডে মঞ্জুর কাদির পাটোয়ারি, ২৪নং ওয়ার্ডের শফিকুল ইসলাম লিটন এবং ২৫নং ওয়ার্ডে জাহিদুর রহমান নাঈম।

খুলনা মহানগর জামায়াতের আমির মাহফুজুর রহমান বলেন, নগরীর ৩১টি ওয়ার্ডেই আমরা একক প্রার্থী দিব। ইতিমধ্যে নিজস্ব ফোরামে ১২টি ওয়ার্ডের প্রার্থী চূড়ান্ত হয়েছে। খুব শীঘ্রই বাকি ওয়ার্ডে প্রার্থী চূড়ান্ত করা হবে। মেয়র প্রার্থী চূড়ান্ত করতে তৃণমূল থেকে মতামত সংগ্রহ করা হয়েছে। কেন্দ্র থেকে মেয়র প্রার্থী ঘোষণা করা হবে।

প্রসঙ্গত, ২০২৩ সালের ১২ জুন কেসিসির সর্বশেষ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। অভ্যুত্থানে আওয়ামী লীগ সরকারের পতন হলে ২০২৪ সালের ১৯ আগস্ট কেসিসির মেয়র তালুকদার আব্দুল খালেককে এবং ২৬ সেপ্টেম্বর কেসিসির সাধারণ ও সংরক্ষিত আসনের সব কাউন্সিলরকে বরখাস্ত করে সরকার। গত ২২ ফেব্রুয়ারি খুলনা মহানগর বিএনপির সাবেক সভাপতি নজরুল ইসলাম মঞ্জুকে কেসিসির প্রশাসক হিসেবে নিয়োগ দেয় সরকার। কাউন্সিলরদের পদগুলো এখনও শূন্য রয়েছে।

 

খুলনা গেজেট/এনএম




খুলনা গেজেটের app পেতে ক্লিক করুন