বুধবার । ১৮ই মার্চ, ২০২৬ । ৪ঠা চৈত্র, ১৪৩২

খুলনা বিভাগীয় বক্ষব্যাধি হাসপাতালে রোগীর তুলনায় নার্সের সংখ্যা তিনগুণ

নিজস্ব প্রতিবেদক

নগরীর খানজাহান আলী থানার মীরেরডাঙ্গায় অবস্থিত খুলনা বিভাগীয় বক্ষব্যাধি হাসপাতালে অধিকাংশ সময় ভর্তি রোগীর চেয়ে কর্তব্যরত নার্সের সংখ্যা বেশি। রোগীর চাপ কম এবং বাড়তি ঝামেলা না থাকায় নার্সদের পছন্দ তালিকায় থাকে এ হাসপাতালটি। বদলির ঝামেলা এড়িয়ে বছরের পর বছর তারা একই হাসপাতালে দায়িত্ব পালন করছেন। বর্তমানে হাসপাতালটিতে ভর্তিকৃত রোগীর সংখ্যা ২৬ জন। নার্স রয়েছেন ৯৩ জন।

অভিযোগ রয়েছে, রোগীর চাপ কম থাকায় কর্তব্যরত নার্সরা অলস সময় কাটান। মোবাইল ফোন অথবা সহকর্মীদের সাথে গল্প গুজব করে নির্ধারিত সময় পার করেন। তবে হাসপাতালের দায়িত্বপ্রাপ্ত নার্স প্রধান বা মেট্রোন উপরোক্ত অভিযোগ অস্বীকার করেছেন।

হাসপাতালে সূত্রে জানা যায়, ৯৩ জন নার্সের পোস্টিং থাকলেও বর্তমানে কর্মরত রয়েছেন ৮৪ জন। এর মধ্যে ছুটিতে রয়েছেন ১৭ জন, বিএসসি নার্সিং ইন প্রশিক্ষণে রয়েছেন ৯ জন, মাতৃত্বকালীন ছুটিতে একজন, সংঘনিরোধ ছুটিতে ২ জন, অর্জিত ছুটিতে তিনজন, একজন সংক্রামক ব্যাধি হাসপাতালে কর্তব্যরত, একজন খুলনা নার্সিং কলেজে শিক্ষক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন, শ্রান্তি বিনোদনে ৭ জন এবং নৈমিত্তিক ছুটিতে রয়েছেন ৮ জন। তিন শিফটে নার্সদের ডিউটি ভাগ করা হয়। প্রথম শিফট সকাল ৮টা থেকে বেলা ২টা পর্যন্ত। দ্বিতীয় শিফট বেলা ২টা থেকে রাত ৮টা পর্যন্ত এবং তৃতীয় শিফট রাত ৮টা থেকে সকাল ৮টা পর্যন্ত।

অভিযোগ অস্বীকার করে হাসপাতালের ভারপ্রাপ্ত উপসেবা তত্ত্বাবধায়ক ফরিদা ইয়াসমিন বলেন, রোগীদের নিয়মিত সেবার পাশাপাশি কর্তব্যরত নার্সদের ইসিজি, এমডিআর, ওটি, কম্পিউটারের কাজ, রোগীদের রিপোর্ট তৈরিসহ অনেকগুলো কাজ করতে হয়। চারটি জরুরি ওয়ার্ডে ৮/১০ জন নার্সকে ডিউটি পালন করতে হয়। সকাল এবং বিকেলে দুই শিফটে জরুরি বিভাগেও নার্সদের দায়িত্ব পালন করতে হয়। এছাড়া হাসপাতালটিতে চিকিৎসক সংকট এবং সার্বক্ষণিক চিকিৎসক না থাকায় ভর্তিকৃত রোগীদের যাবতীয় দেখভালের দায়িত্ব নার্সদের পালন করতে হয়। সুতরাং অলস বসে থাকা, গল্পগুজব কিংবা মোবাইল দেখে সময় কাটানোর কোনো সুযোগ নেই।

তিনি বলেন, ‘সরকারি বিভিন্ন হাসপাতালে নার্সদের প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা রয়েছে। কিন্তু বক্ষব্যাধি হাসপাতালে সীমিত আকারে প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা রয়েছে। নিয়মিত প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা থাকলে নার্সদের দক্ষতা বৃদ্ধি পায়। হাসপাতালে সেবা তত্ত্বাবধায়কের কোন পদ নেই। উপসেবা তত্ত্বাবধায়কের পদটি দীর্ঘদিন যাবৎ শূন্য। একজন সিনিয়র নার্স সুপারভাইজার তত্ত্বাবধায়কের দায়িত্ব পালন করছেন। দীর্ঘদিন যাবৎ হাসপাতালের আবাসিক ভবনগুলো পরিত্যক্ত থাকায় দূর-দুরন্ত থেকে কষ্ট করে নার্সদেরকে সময় মত ডিউটিতে আসতে হয়।’

 

খুলনা গেজেট/এনএম




আরও সংবাদ

খুলনা গেজেটের app পেতে ক্লিক করুন