মঙ্গলবার । ১৭ই মার্চ, ২০২৬ । ৩রা চৈত্র, ১৪৩২

মার্চে শুরু স্বাধীনতার সংগ্রাম

নিজস্ব প্রতিবেদক

বীর মুক্তিযোদ্ধা কে এম জালাল উদ্দিন। পাকিস্তানিদের নৃশংসতা যখন বেড়ে গেল অর্থাৎ খুলনা নেভাল পোর্ট জেটিতে যেদিন নড়াইল লোহাগড়া থেকে আগত লঞ্চের পুরুষ যাত্রীদের নামিয়ে আমাদের চোখের সামনে গুলি করে হত্যা করে সেইদিন প্রতিজ্ঞা করেন আর নয় অস্ত্র জোগাড় করতে হবে এবং মুক্তিযুদ্ধে অংশগ্রহণ করতে হবে। তার মেজ ভাই পাকিস্তান এয়ার ফোর্সে কর্মরত ছিলেন। ছুটিতে বাড়ি এসে আর যোগদান না করে মুক্তিযুদ্ধে চলে যান। পরবর্তীতে বাড়ি থেকে পালিয়ে খলসের বাজার থেকে বয়রা বর্ডারে (ভারতে) পৌঁছান। পরে বয়রা বর্ডার থেকে বশিরহাট যান।

আজাদের উক্তি ছিল, শিক্ষিতদের নিয়ে মুজিববাহিনী তৈরি হয়েছে, তুমি যেতে ইচ্ছুক কী না? সাত্তার ভাই বশিরহাটের টেট্টা ক্যাম্পে পাঠালেন। কিছুদিন পর ক্যাম্প থেকে দমদম এয়ারপোর্টে পৌঁছান। তখন জানা গেল দেরাদুন মিলিটারি ক্যাম্পে প্রশিক্ষণ দেওয়া হচ্ছে। পরবর্তীতে ইছামতি নদী পার হয়ে সকাল ৭টায় পৌঁছান। সেখান থেকে রাতে শেখ কামরুজ্জামান টুকুর নেতৃত্বে বিভিন্ন অঞ্চলে অপারেশন পরিচালনা করেন। পরে ১৭ ডিসেম্বর খুলনা সার্কিট হাউজে পৌঁছান এবং আনুষ্ঠানিকভাবে যুদ্ধ সমাপ্ত করেন।

শৈশবে তিনি দেয়াড়া প্রাথমিক বিদ্যালয়ে পঞ্চম শ্রেণি পর্যন্ত পড়াশুনা করেন। এ সময় দুর্জনীমহল প্রাথমিক বিদ্যালয় থেকে বৃত্তি পরীক্ষা দেন। পরবর্তীতে বেলফুলিয়া ইসলামিয়া হাইস্কুল থেকে ১৯৬৮ সালে এসএসসি পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হন। তারপর ১৯৭০ সালে খুলনা এমএম সিটি কলেজ থেকে বিএ প্রথম পর্ব শেষ করেন। স্বাধীনতার পর ১৯৭৩ সালে বিএ পাশ করেন। অতঃপর ১৯৭৭ সালের ফেব্রুয়ারির ২২ তারিখে এ্যাসিসটেন্ট ক্যাশিয়ার পদে সোনালী ব্যাংকের ফকিরহাট শাখায় যোগদান করেন। একই বছর সোনালী ব্যাংক জুনিয়র ক্লার্ক হিসেবে নিয়োগ পান।

সর্বশেষ এক্সিকিউটিভ অফিসার হিসেবে ২০১২ সালের জুন মাসে অবসর গ্রহণ করেন। তিনি একজন ভাল ক্রীড়াবিদ ছিলেন। মুক্তিযোদ্ধাদের কল্যাণ ও পুনর্বাসনে দীর্ঘদিন কাজ করেছেন। তিনি সর্বদা কামনা করতেন দেশের উন্নতি হোক, দেশের মানুষ ভাল থাকুক।

 

খুলনা গেজেট/এনএম




আরও সংবাদ

খুলনা গেজেটের app পেতে ক্লিক করুন