বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবিরের কেন্দ্রীয় সভাপতি নূরুল ইসলাম সাদ্দাম বলেছেন, ইসলামের আদর্শ ও শিক্ষা অনুসরণের মাধ্যমে একটি কল্যাণমূলক সমাজ ও রাষ্ট্র বিনির্মাণ করাই ছাত্রশিবিরের মূল লক্ষ্য। ক্যাম্পাসে গেস্টরুম সংস্কৃতি ও মাদক নির্মূল করে সাধারণ শিক্ষার্থীদের জন্য নিরাপদ ও শিক্ষাবান্ধব পরিবেশ নিশ্চিত করতে সংগঠনটি বদ্ধপরিকর।
শনিবার (৩০ মে) দুপুরে শহরের মোজাফফর গার্ডেন অ্যান্ড রিসোর্টে সাতক্ষীরা শহর ছাত্রশিবির আয়োজিত ঈদ পুনর্মিলনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
তিনি বলেন, ছাত্রশিবির বিশ্বের অন্যতম বৃহৎ ছাত্রসংগঠন এবং এটি একটি মেধাবী, আদর্শিক ও নৈতিকতাসম্পন্ন ছাত্রসংগঠন। মেধার চর্চা ও মেধাবী শিক্ষার্থী গড়ে তোলাই সংগঠনটির অন্যতম উদ্দেশ্য।
নূরুল ইসলাম সাদ্দাম বলেন, দেশের বিভিন্ন ক্যাম্পাসে সব শিক্ষার্থীর জন্য আবাসন নিশ্চিত করতে ছাত্রশিবির আন্দোলন করছে। এ সময় তিনি অভিযোগ করেন, কিছু ছাত্রসংগঠন শিক্ষার্থীদের স্বার্থের পরিবর্তে অন্য কর্মকাণ্ডে ব্যস্ত থাকায় সাধারণ শিক্ষার্থীরা তাদের থেকে মুখ ফিরিয়ে নিচ্ছে।
সরকারের অব্যবস্থাপনা ও দুর্বল ব্যবস্থাপনার কারণে জনগণের জীবন দুর্বিষহ হয়ে উঠেছে বলে অভিযোগ করেন শিবির সভাপতি। তিনি বলেন, ঈদযাত্রায় মানুষ চরম ভোগান্তির শিকার হয়েছে এবং সড়ক দুর্ঘটনায় বহু প্রাণহানি ঘটেছে।
বিএনপির প্রতি ইঙ্গিত করে তিনি বলেন, “যারা এতদিন মাজলুম ছিল, তারা এখন জুলুম শুরু করেছে। মাজলুম যখন জালেম হয়, তখন হিতাহিত জ্ঞান হারিয়ে ফেলে।”
তিনি আরও বলেন, কোরবানির প্রকৃত শিক্ষা গ্রহণ করে সমাজে ত্যাগ, ন্যায়বিচার ও মানবিক মূল্যবোধ প্রতিষ্ঠায় ছাত্রশিবিরের নেতাকর্মীদের এগিয়ে আসতে হবে।
অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন সাতক্ষীরা শহর ছাত্রশিবিরের সভাপতি মেহেদী হাসান। শহর শাখার সেক্রেটারি নুরুন নবীর সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন সাতক্ষীরা-১ আসনের সংসদ সদস্য মুহা. ইজ্জত উল্লাহ, সাতক্ষীরা-২ আসনের সংসদ সদস্য মুহাদ্দিস আব্দুল খালেক, সাতক্ষীরা-৪ আসনের সংসদ সদস্য গাজী নজরুল ইসলাম, জেলা জামায়াতের আমির উপাধ্যক্ষ শহিদুল ইসলাম মুকুল, নায়েবে আমির শেখ নূরুল হুদা, জেলা সেক্রেটারি মাওলানা আজিজুর রহমান, সহকারী সেক্রেটারি মো. ওবায়দুল্লাহ এবং সাবেক শিবির সভাপতি মো. ওমর ফারুক।
‘সম্প্রীতির টানে, শিকড়ের পানে’ স্লোগানে আয়োজিত এ অনুষ্ঠানে ছাত্রশিবিরের বর্তমান ও সাবেক সভাপতি, সেক্রেটারিসহ কয়েকশ নেতাকর্মী ও সদস্য উপস্থিত ছিলেন।
খুলনা গেজেট/এএজে

