সাড়ে তিন কোটি টাকা হাতিয়ে নিয়েছে প্রতারক চক্র, আসামির স্বীকারোক্তি

প্লাটিনাম জুট মিলের পুরাতন যন্ত্রাংশ কিনতে গিয়ে প্রতারণার শিকার ব্যবসায়ী

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্লাটিনাম জুট মিলের পুরাতন যন্ত্রাংশ ক্রয় করতে গিয়ে প্রতারণার শিকার হয়েছেন খুলনার ব্যবসায়ী জিএম আজিজুর রহমান। সংঘবদ্ধ প্রতারক চক্র এআই প্রযুক্তি ব্যবহার করে জাতীয় সংসদের হুইপের কন্ঠস্বর নকল করে ওই ব্যবসায়ীর নিকট থেকে সাড়ে তিন কোটি টাকা হাতিয়ে নেয়। থানায় মামলা হলে প্রশাসন নড়েচড়ে বসে। এ ঘটনায় পুলিশ এ পর্যন্ত চারজনকে আটক করেছে। সোমবার এ মামলায় আটক আসামি এজাজ আহমেদ রাজা আদালতে ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছে। পরে গোয়েন্দা পুলিশের হাতে আটক তিনজনকে খুলনা জেলা কারাগারে প্রেরণ করা হয়। তবে সাড়ে তিন কোটি টাকার মধ্যে পুলিশ এ পর্যন্ত ১২ লাখ টাকা উদ্ধার করেছে।

এজাহার সূত্রে জানা গেছে, ব্যবসায়ী জিএম আজিজুর রহমান পশ্চিম টুটপাড়ার জিএম এলাহি বকস এর ছেলে। ব্যবসায়ীর বড় ভাই জিএম মফিজুর রহমান টিকু আমেরিকা প্রবাসী।

এজাহারে বাদী উল্লেখ করেন, তার বড় ভাইকে খুলনা মহানগর ছাত্র দলের সাবেক সভাপতি আরিফ জানায়, জাতীয় সংসদের হুইপ বকুল ভাই আপনার সাথে কথা বলতে চাচ্ছে। তার বড় ভাইকে +১(৯২৯)২২৩-৩৪২৭ নম্বরটি বকুল সাহেবের নম্বর বলে প্রদান করা হয়। সে মোতাবেক ওই নম্বরে হোয়াইটঅ্যাপে কল দিলে বিপরীত দিক থেকে কথা বলা ব্যক্তি নিজেকে হুইপ বকুল বলে পরিচয় দেন।

২৯ জুলাই রাত ২টা ৩৮ মিনিটে তিনি খুলনা সদর থানার পশ্চিম টুটপাড়ার বাসায় অবস্থান করার সময় বড় ভাই তাকে হুইপ বকুলের সাথে গ্রুপ কলে যুক্ত করেন। উক্ত গ্রুপ কলে প্লাটিনাম জুট মিলের পুরাতন যন্ত্রাংশ ক্রয়-বিক্রয় সংক্রান্ত বিষয়ে আলোচনা হয়।

আলোচনার এক পর্যায়ে হুইপ বকুল বলে পরিচয়দানকারী ব্যক্তি মালামাল ক্রয়ের পূর্বে অগ্রিম পেমেন্ট ক্লিয়ার করতে বলেন। এছাড়া তার কাছে জানতে চাওয়া হয় সকালে পেমেন্ট করতে পারবেন কিনা। তিনি সকালে পেমেন্ট করতে পারবেন বলে জানালে বলা হয় সকালে একজন লোক তার সাথে দেখা করবে।

২৯ জুলাই বিকেল সোয়া ৩টা থেকে সাড়ে ৪টায় মাহাবুবুর রহমান মামুনের আসার কথা থাকলেও সে না এসে এজাজ আহমেদ রাজাসহ আরও এক ব্যক্তিকে তার অফিসে পাঠান।

সেখানে প্লাটিনাম জুট মিলের পুরাতন যন্ত্রাংশ ক্রয়ের পেমেন্ট বাবদ এজাজ আহম্মেদ রাজাকে ২ কেটি টাকা প্রদান করা হয়। পরবর্তীতে আবারও ওই নম্বরের কথা হয়। তখন ওই ব্যবসায়ীকে বলা হয় হার্ডবোর্ড মিল নিতে পারবে কি না। তখন ব্যবসায়ী তাকে জানায় এ মুহূর্তে এত টাকা জোগাড় করতে পারবেন না তিনি। তাছাড়া মিলটা আগে দেখা লাগবে বলে তিনি ওই ব্যক্তিকে জানান। এক পর্যায়ে আইনজীবী মোহাম্মদ আলী বাবু ওই ব্যবসায়ীকে৩০ জুলাই ভোর রাতে হোয়াটসঅ্যাপে (০১৭১১-৫৮৬৮৭০) একটি মেসেজে জানান বকুল ভাই তার সাথে জুট মিলে যেতে বলেছেন। এরই ধারাবাহিকতায় ওইদিন দুপুর ১২টার দিকে তার সাথে জুট মিলে যান ওই ব্যবসায়ী। সেখানকার যন্ত্রাংশ পচ্ছন্দ হওয়ায় এজাজ আহমেদ রাজ ও তার সাথে থাকা ব্যক্তিদের দেড় কোটি টাকা ওইদিন দুপুরে প্রদান করেন ব্যবসায়ী। পরবর্তীতে তাদের সাথে যোগাযোগ করা হলে হুইপ বকুল পরিচয়দানকারী ব্যক্তি আজ বা কাল দেখা করবে বলে তাকে জানাতে থাকে।

পরবর্তীতে ১ সেপ্টেম্বর বিএনপি’র প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে জাতীয় সংসদের হুইপ খুলনায় আসলে তার সাথে সরাসারি সাক্ষাত করেন ব্যবসায়ী। তাকে বিষয়টি জানানো হলে তিনি বলেন, এ সম্পর্কে তিনি কিছুই অবগত নয়। পরবর্তীতে তিনি বুঝতে পারেন প্রতারণার শিকার হয়েছেন। এ ঘটনায় তিনি ১৮ সেপ্টেম্বর বাদী হয়ে খুলনা থানায় সাইবার সুরক্ষা আইনে মামলা দায়ের করে। থানায় মামলার পর মহানগর গোয়েন্দা শাখায় হস্তান্তর করা হয়।

মামলার তদন্ত কর্মকর্তা গোয়েন্দা পুলিশের এসআই সাইদুর রহমান বলেন, এ পর্যন্ত মামলার প্রধান আসামি এজাজ আহমেদ রাজাসহ ৪ জন আসামিকে আটক করা হয়েছে। রবিবার রাতে বয়রা রায়েরমহল এলাকা থেকে জাকিয়া সুলতানা নামের এক নারীকে আটক করা হয়। এ সময় তার কাছ থেকে ১২ লাখ টাকা উদ্ধার করা হয়। আটক হওয়া ব্যক্তিরা গুরুত্বপূর্ণ তথ্য দিয়েছে।

কেএমপি’র গোয়েন্দা শাখার উপ-পুলিশ কমিশনার মোহাম্মদ আহাদুজ্জামান মিয়া বলেন, মামলাটি খুবই স্পর্শকাতর। তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত বিস্তারিত বলা যাচ্ছেনা। তদন্ত শেষে প্রেস ব্রিফিং করে সব জানানো হবে।

 

খুলনা গেজেট/এনএম




আরও সংবাদ

খুলনা গেজেটের app পেতে ক্লিক করুন