প্রযুক্তির মাধ্যমে অপরাধ জগৎ নিয়ন্ত্রণে সেন্টু, ব্যবহার করতো ওয়াকিটকি!

নিজস্ব প্রতিবেদক

জেলা যুবদলের বহিস্কৃত সদস্য নাসির উদ্দিন সেন্টু অপরাধ জগৎ নিয়ন্ত্রণ করতো প্রযুক্তির মাধ্যমে। ব্যবহার করতো উন্নত মানের ওয়াকিটকি। পুলিশ অভিযান শুরুর আগে ওয়াকিটকির মাধ্যমে খবর পেতো। যদিও সেটি ব্যবহারের কোনো অনুমতি ছিল না তার। সাম্প্রতিক সময়ে র‌্যাবের হাতে গ্রেপ্তার হওয়ার পর তার অপকর্মের কীর্তি একের পর এক মানুষের সামনে আসতে থাকে।

মিয়াপাড়া এলাকার স্থানীয়দের অনেকেই বলেন, সেন্টুর চালচলনে বোঝা যেত না সে একজন মাদক কারবারি। তার কাছে খুলনার অনেক বড় রাঘব বোয়ালরা আসতেন। তবে মাঝে মধ্যে কালো রঙের এন্টিনাযুক্ত একটি যন্ত্র ব্যবহার করতে দেখা যেত। তার মাধ্যমে যেন কার সাথে কথা বলতো সেন্টু। তবে শনিবার সকালে র‌্যাবের হাতে গ্রেপ্তার হওয়ার সময় ওই যন্ত্রটি দেখা যায়নি। তাদের একটা প্রশ্ন, টোকাই থেকে কীভাবে সে কোটিপতি হলো। আর কীভাবে বিএনপি’র সহযোগী সংগঠন যুবদলের সদস্য হলেন? দলের সদস্য পদ পেতে যোগ্যতা, নাকি টাকা হলে সম্ভব হয়?

খুলনা থানার অফিসার ইনচার্জ মোঃ শফিকুল ইসলাম বলেন, র‌্যাব কিছু টাকা ও মাদক এবং তিনজন মহিলাসহ সেন্টুকে থানায় সোপর্দ করে। আর কোনো কিছু দেয়নি। তিনি আরও বলেন, ওয়াকিটকি ডিভাইস ব্যবহার করতে সরকারের অনুমোদন লাগে। কিন্তু সেই অনুমোদন বাইরের কেউ পাবেন না। আমাদের ওয়াকিটকির ফ্রিকুয়েন্সি’র সাথে বাইরের ডিভাইসের ফ্রিকোয়েন্সির কোনো মিল থাকবে না। ওয়াকিটকি সম¦লিত সেন্টুর যে ছবি পাওয়া গেছে আমাদের যন্ত্রের সাথে সেটির কোনো মিল নেই। ব্যবহারের অনুমোদন না থাকলে প্রচলিত আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে। র‌্যাব আমাদের কাছে কোনো ওয়াকিটকি সেট দেয়নি। আর ওই যন্ত্র ব্যবহারের মাধ্যমে সে যদি কোনো অপরাধ করে থাকে, সেই আইনের ধারা অনুযায়ী বিচার হবে।

উল্লেখ্য, গত শনিবার সকাল পৌনে ৯টার দিকে নগরীর মিয়াপাড়া এলাকা থেকে বিএনপি’র সাবেক নেতা রিয়াজের বাড়ির চারতলার নিচতলা থেকে যুবদলের বহিস্কৃত সদস্য নাসির উদ্দিন সেন্টুকে গ্রেপ্তার করে র‌্যাব। এ সময় তার কাছ থেকে তিন হাজার ৯৫৮ পিস ইয়াবা উদ্ধার করা হয়। সেন্টু গ্রেপ্তারের পর থেকে তার সহযোগীদের অনেকেই গা ঢাকা দিয়েছে।

 

খুলনা গেজেট/এনএম




আরও সংবাদ

খুলনা গেজেটের app পেতে ক্লিক করুন