বুধবার । ৬ই মে, ২০২৬ । ২৩শে বৈশাখ, ১৪৩৩
বরাদ্দ নেই, বাড়ি-ঘর বাঁচাতে স্বেচ্ছাশ্রমে বাঁধ মেরামতের কাজ শুরু

ডুমুরিয়ায় নদীভাঙন কবলিত বাঁশতলা লতাবুনিয়াবাসীর আতঙ্ক দীর্ঘস্থায়ী!

ডুমুরিয়া প্রতিনিধি

ডুমুরিয়ায় দ্বীপ-বেষ্টিতে বাঁশতলা-লতাবুনিয়া গ্রামের রক্ষাবাঁধ অবশেষে মেরামতের কাজ শুরু হয়েছে। বরাদ্দ নেই, বাড়িঘর বাঁচাতে উপজেলা প্রশাসনের দিকে তাকিয়ে বাঁধ মেরামতের কাজ শুরু করেছেন গ্রামবাসী। গত এক সপ্তাহ যাবৎ চলমান রয়েছে একাজ।

জানা গেছে, উপজেলার সাহস ইউনিয়নে তেলিগাতি ও ভদ্রা নদীর মোহনায় জেগে ওঠা জনপদের নাম বাঁশতলা ও লতাবুনিয়া গ্রাম। প্রতি বছর বর্ষা মৌসুম এলেই নদী ভাঙনের দুর্ভোগ পোহাতে হয় এ অঞ্চলের মানুষের। চারপাশ দিয়ে নদী হওয়ায় মূল ভূখণ্ড থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে আছে গ্রাম দুইটি। ২০২১ সালে গ্রাম রক্ষাবাঁধ ভেঙে গোটা অঞ্চল প্লাবিত হয়ে ব্যাপক ক্ষয়-ক্ষতি হয়। সেই সময় প্রায় ১শ’ বিঘা সম্পত্তি নদীগর্ভে বিলীন হয়ে যায়। এছাড়া ফসলি জমি ও মাছের ঘের তলিয়ে প্রায় ৫ কোটি টাকার ক্ষতি হয়। গ্রাম রক্ষাবাঁধ অত্যন্ত দুর্বল হওয়ায় বর্ষা মৌসুম এলেই খানিকটা আতঙ্কে দিন কাটে এলাকাবাসীর। কখন না আবার ভেঙে যায়! অনেকে গ্রাম ছেড়ে অন্যত্র চলে গেছেন। রক্ষাবাঁধটির প্রায় ৮ কিলোমিটার পর্যন্ত বেহাল অবস্থায় রয়েছে। যে বাঁধটি মেরামতের কাজ করছে গ্রামের মানুষ।

লতাবুনিয়া গ্রামের নিখিল চন্দ্র, দীনবন্ধু ও রামপ্রসাদ রায় জানান, ‘নদীভাঙন কবলিত লতাবুনিয়া-বাঁশতলা গ্রামের মানুষের মনে আতঙ্ক ও অনিশ্চয়তা দীর্ঘস্থায়ী। নদীগর্ভে আবাদি জমিসহ ভিটেমাটি হারিয়ে অনেকে নিঃস্ব হয়ে গেছেন। মাথা গোঁজার ঠাঁই না পেয়ে অনেকে অন্যত্র চলে যেতে বাধ্য হয়েছেন। ভাঙনের ফলে কৃষি জমি বা আয়ের উৎস হারিয়ে চরম অর্থনৈতিক সংকটে আছে গ্রামের অধিকাংশ মানুষ। নদী ভাঙনকূলের মানুষের এ আতঙ্ক থেকে মুক্তি পেতে সরকারি ও স্থানীয় পর্যায়ে টেকসই বেড়িবাঁধ নির্মাণ করার বিকল্প নেই। গত সপ্তাহে উপজেলা নির্বাহী অফিসার সবিতা সরকার, উপজেলা প্রকৌশলী মোঃ দারুলহুদা ও ইউপি চেয়ারম্যান মোল্যা মাহাবুবুর রহমান গ্রাম দু’টি পরিদর্শন করেন। বাঁধ মেরামতে কর্তৃপক্ষে আশ্বস্ত পেয়ে গ্রামের মানুষ বাঁধ মেরামতের কাজ শুরু করেন।

উপজেলা প্রকৌশলী মোহাম্মদ দারুল হুদা জানান, ‘২০২১ সালে বাঁধ ভেঙে যাওয়ার পর তখন টেকসই ক্ষুদ্রাকার পানিসম্পদ উন্নয়ন প্রকল্পের আওতায় প্রায় ৯৪ লাখ টাকা বরাদ্দে ৭.৭ কিলোমিটার ক্ষতিগ্রস্ত বাঁধটি মেরামত করে এলজিইডি। সম্প্রতি বিভিন্নস্থানে বাঁধটি অনেক দুর্বল হয়ে গেছে। প্রায় ৭০০ মিটার অনেক ঝুঁকি আছে। সেখানে দ্রুত বাঁধ মেরামতের প্রয়োজন। টেকসইভাবে বাঁধ মেরামতের জন্য বরাদ্দ চাওয়া হয়েছে।’

তিনি বলেন, ‘আশু বাঁধের ঝুঁকিপূর্ণ কিছু জায়গায় মেরামতের কাজ শুরু করা হয়েছে। উপজেলার বিভিন্ন উন্নয়ন খাত থেকে সমন্বয় করা হবে। পরবর্তীতে বরাদ্দ এলে টেকসইভাবে বাঁধের মেরামত কাজ শুরু হবে।’

 

খুলনা গেজেট/এনএম




আরও সংবাদ

খুলনা গেজেটের app পেতে ক্লিক করুন