মহান আল্লাহর সন্তুষ্টি ও নৈকট্য লাভের আশায় আগামী ২৮ মে (বৃহস্পতিবার) খুলনাসহ সারা দেশে উদযাপিত হবে পবিত্র ঈদুল আযহা। আত্মশুদ্ধি, ত্যাগ ও পরোপকারের মহিমায় ভাস্বর ইসলামের অন্যতম বৃহৎ এই ধর্মীয় উৎসবকে ঘিরে ইতিমধ্যে দেশজুড়ে শুরু হয়েছে ব্যাপক প্রস্তুতি।
মহান আল্লাহ্ নবী হযরত ইব্রাহিম (আঃ) এর ঈমানের পরীক্ষার উদ্দেশ্যে তার একমাত্র সন্তান শিশু হযরত ইসমাইলকে (আঃ) কোরবানি করার নির্দেশ দিয়েছিলেন। নবী ইব্রাহিম (আঃ) সেই পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হওয়ার স্মরণে এই দিনটি সামার্থ্যবান মুসলিমরা মহান স্রষ্টার নৈকট্য লাভের উদ্দেশ্যে হালাল পশু কোরবানি করে থাকেন।
ঈদুল আযহার প্রকৃত তাৎপর্য কেবল পশু কুরবানির মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়; বরং এর মূল শিক্ষা হলো মনের ভেতরের পশুবৃত্তি, অহংকার ও স্বার্থপরতাকে বিসর্জন দেওয়া। এই পবিত্র দিনে কুরবানির মাংসের একটি বড় অংশ গরিব, দুস্থ ও প্রতিবেশীদের মাঝে বিলিয়ে দেওয়ার মাধ্যমে সমাজে সাম্য ও সহমর্মিতার এক অনন্য নজির স্থাপিত হয়।
পবিত্র এই উৎসব যেন শান্তিপূর্ণ, নিরাপদ ও উৎসবমুখর পরিবেশে উদযাপিত হতে পারে, সেজন্য আইনশৃঙ্খলা রক্ষা, মহাসড়কে যাতায়াত ব্যবস্থা নির্বিঘ্ন রাখা এবং ঈদের দিন দ্রুত কোরবানির বর্জ্য অপসারণের জন্য প্রশাসনের পক্ষ থেকে বিশেষ প্রস্তুতি গ্রহণ করা হয়েছে। ঈদকে কেন্দ্র করে খুলনাসহ সারা দেশের কোরবানীর পশুর হাটগুলো জমে উঠেছে। খামারি ও বিক্রেতারা তাদের লালন-পালন করা গবাদিপশু নিয়ে হাটে আসছেন, আর ক্রেতারাও পছন্দের পশু কিনতে দরদাম যাচাই করছেন ও কিনছেন। একই সাথে নাড়ির টানে কর্মস্থল ছেড়ে গ্রামের বাড়িতে প্রিয়জনদের সাথে ঈদ উদযাপন করতে ছুটছে ঘরমুখো মানুষ।
এদিকে ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনের (ডিএসসিসি)-র ব্যবস্থাপনায় পবিত্র ঈদ-উল-আযহা-২০২৬ উপলক্ষে রাজধানীর জাতীয় ঈদগাহ ময়দানে প্রধান ঈদের জামাত অনুষ্ঠিত হবে। রাষ্ট্রপতি মোঃ সাহাবুদ্দিন এবং প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানসহ মন্ত্রী পরিষদের সদস্য, বিচারপতি, রাষ্ট্রের গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিবর্গ ও বিদেশী কূটনীতিকরা জাতীয় ঈদগাহ ময়দানের এই প্রধান জামাতে অংশ নেবেন বলে আশা প্রকাশ করেছেন ডিএসসিসি প্রশাসক বীর মুক্তিযোদ্ধা মোঃ আবদুস সালাম।
খুলনায় পবিত্র ঈদ-উল আযহার প্রধান জামাত সকাল সাতটায় খুলনা সার্কিট হাউজ ময়দানে অনুষ্ঠিত হবে। এখানে মহিলাদের জন্য পর্দা সহকারে ঈদের জামাতের আয়োজন করা হবে। বিকল্প ভেন্যু (আবহাওয়া প্রতিকূল হলে) খুলনা টাউন জামে মসজিদে প্রথম জামাত সকাল সাতটায়, দ্বিতীয় জামাত সকাল আটটায় এবং তৃতীয় জামাত সকাল নয়টায় অনুষ্ঠিত হবে। সকাল সাড়ে সাতটায় খুলনা আলিয়া মাদ্রাসা সংলগ্ন মডেল মসজিদে ঈদের জামাত অনুষ্ঠিত হবে।
খুলনা সিটি কর্পোরেশন পরিচালিত বায়তুন নূর জামে মসজিদ কমপ্লেক্স-এ পবিত্র ঈদ-উল-আজহার দু’টি জামায়াত অনুষ্ঠিত হবে। প্রথম জামায়াত অনুষ্ঠিত হবে সকাল সাড়ে ৭টায় এবং দ্বিতীয় জামায়াত সকাল সাড়ে ৮টায়। প্রথম জামায়াতে ইমামতি করবেন মসজিদের খতিব মুফতি ইমরান উল্লাহ এবং দ্বিতীয় জামায়াতে ইমামতি করবেন মসজিদের ইমাম হাফেজ জাকির হোসেন।
এছাড়া কেসিসির ব্যবস্থাপনায় ও ওয়ার্ডের দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তাদের তত্ত্বাবধানে নগরীর প্রতিটি ওয়ার্ডে পৃথক ঈদের জামাত অনুষ্ঠিত হবে। অন্যান্য মসজিদ ও ঈদগাহসমূহে পরিচালনা কমিটি জামাতের সময় নির্ধারণ করবে। প্রধান জামাতে আসা মুসল্লিদের গাড়ি পার্কিংয়ের জন্য খুলনা জেলা স্টেডিয়াম সংলগ্ন আউটার স্টেডিয়াম সংরক্ষিত থাকবে। এছাড়া মুসল্লিদের ওজুর জন্য পর্যাপ্ত পানির ব্যবস্থা রাখা হবে।
এছাড়া সকাল ৭টায় খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় জামে মসজিদে পবিত্র ঈদুল আযহার জামাত অনুষ্ঠিত হবে। খুলনা প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় জামে মসজিদে সকাল ৭টায় ঈদের জামাত অনুষ্ঠিত হবে।
খুলনা গেজেট/এনএম

