খুলনা সিটি কর্পোরেশনের ৩১টি ওয়ার্ডে ৬ মাস থেকে ৫ বছরের নিচের ৯৩ হাজার ৭৮৮ শিশুকে এক ডোজ হাম-রুবেলা টিকা প্রদানের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। যার মধ্যে স্কুল শিশুর লক্ষ্যমাত্রা ১৩ হাজার ৩৮৮ এবং কমিউনিটি শিশুর লক্ষ্যমাত্রা ৮০ হাজার ৪০৪ জন। রবিবার (১৯ এপ্রিল) খুলনা সিটি কর্পোরেশনের নগর স্বাস্থ্য ভবনের সম্মেলনকক্ষে সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য জানানো হয়।
সংবাদ সম্মেলনে প্রধান অতিথি ছিলেন খুলনা সিটি কর্পোরেশের প্রশাসক নজরুল ইসলাম মঞ্জু।
অনুষ্ঠানে প্রশাসক বলেন, আমরা চাই টিকা প্রদান কার্যক্রম জনগণের কাছে পৌঁছে দিতে। ইতোমধ্যে সিটি কর্পোরেশন এলাকায় মাইকিং করা হচ্ছে। মসজিদের ইমামদের সাথে নিয়ে এব্যাপারে বৈঠক করা হয়েছে। হাম-রুবেলা টিকা প্রদান সম্পর্কে শুক্রবার নামাজের পূর্বে খুতবায় আলোচনা করবেন। একই সাথে প্রচারের জন্য মিডিয়ার বড় ভূমিকা রয়েছে। এই ক্যাম্পেইনে যেন কোন শিশুবাদ না পড়ে সেদিকে খেয়াল রাখতে হবে। খুলনার শিশুদের হাম-রুবেলা থেকে নিরাপদ রাখতে গণমাধ্যমকর্মীদের প্রচার কার্যক্রম জোরদার করতে হবে। প্রশাসক কোথাও কোন দুর্বলতা সংবাদকর্মীদের নজরে আসলে খুলনা সিটি কর্পোরেশনকে অবহিত করার অনুরোধ করেন।
খুলনা সিটি কর্পোরেশনের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা রাজিব আহমেদের সভাপতিত্বে সংবাদ সম্মেলনে কেসিসির প্রধান স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডা. শরীফ শাম্মীউল ইসলাম, খুলনা প্রেসক্লাবের আহবায়ক এনামুল হক, সদস্য সচিব রফিউল ইসলাম টুটুলসহ গণমাধ্যমকর্মীরা বক্তব্য রাখেন। হাম-রুবেলা টিকা সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য উপস্থাপন করেন বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার মেডিকেল অফিসার ডা. নাজমুর রহমান সজিব।
সভায় জানানো হয়, খুলনা সিটি কর্পোরেশনের ৩১টি ওয়ার্ডে ২৫৬টি টিকা কেন্দ্রে ১৪৪ জন টিকাদানকর্মী, ২০৬ জন স্বেচ্ছাসেবী এবং ৬২জন প্রথম সারির সুপারভাইজার দায়িত্ব পালন করবে। ছুটির দিন ব্যতীত প্রতিদিন সকাল আটটা থেকে বিকেল চারটা পর্যন্ত এই ক্যাম্পেইন চলবে। হাম-রুবেলা সংক্রামক রোগ প্রতিরোধে আগামীকাল ২০ এপ্রিল থেকে ১০ মে ২০২৬ তারিখ পর্যন্ত ৬ মাস থেকে ৫ বছরের নিচের (পূর্বে এমআর টিকা গ্রহণ করেছে এমন শিশুসহ) সকল শিশুকে এক ডোজ হাম-রুবেলা টিকা প্রদান করা হবে। এরই ধারাবাহিকতায় খুলনা বিভাগের সকল জেলা, উপজেলা, সিটি কর্পোরেশন এবং পৌরসভায় হাম-রুবেলা টিকাদান ক্যাম্পেইন অনুষ্ঠিত হবে।

