নকশায় সময়োপযোগী চারটি বড় ধরনের পরিবর্তন এনে নতুন প্রস্তাবনা তৈরি হয়েছে নির্মাণাধীন ভৈরব সেতু নির্মাণ কার্যক্রমে। পরিবর্তিত নকশায় অতিরিক্ত সম্ভাব্য ব্যয় দেড়শ’ কোটি টাকা। যা ডিপিপি’র মোট ব্যয়ের সাত শতাংশ। সব মিলিয়ে নির্মাণ ব্যয় বেড়ে দাঁড়াবে প্রায় পৌনে ৮শ’ কোটি টাকা। একনেকে অনুমোদনের পর কাজ শুরু হবে। নতুন করে সময় প্রার্থনা করা হয়েছে তিন বছর।
খুলনা সড়ক ও জনপথ বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, পরিবর্তিত নকশা অনুযায়ী নদীর মধ্যে কোনো পিলার থাকছে না। ভবিষ্যতে যানবাহনের চাপ এড়াতে সেতুর প্রশস্ততা তিন মিটার বাড়িয়ে দুই লেন করা হচ্ছে। কংক্রিট কাঠামোর পরিবর্তে স্টিল স্ট্রাকচার স্প্যানে নির্মিত হবে সেতুটি। এছাড়া নতুন নকশায় শহর প্রান্তে সেতুর সংযোগ সড়কটি খুলনা যশোর মহাসড়কের রেলিগেট স্টাফ কোয়ার্টার এলাকায় সেতুর প্রবেশদ্বার ১৫ মিটার উঁচুতে ৫০ মিটার গোলাকৃতি অত্যাধুনিক ইন্টারসেকশন (ফ্লাইওভার) নির্মাণ করা হবে।
খুলনা সড়ক ও জনপদ বিভাগ (সওজ)’র নির্বাহী প্রকৌশলী তানিমুল হক বলেন, ব্রিজটি ২০১৬/১৭ সালে ডিজাইন করা হয়। এরপর ২০২০ সালে ডিপিপি পাশ হয়। সেই সময়ে আমাদের ডিজাইনের একটা ক্যারিটোরিয়া ছিল। ১০০ মিটারের বেশি স্প্যান করতে পারতাম না। এখন ১৫০ মিটার করতে পারি। সে সক্ষমতা এবং ম্যাটেরিয়ালটা আমরা পেয়েছি। তাছাড়া ডিজাইনের ক্যারিটোরিয়া অনেক আপডেট হয়েছে। জনগণের কল্যাণের কথা ভেবে ব্রীজটা নিয়ে আমরা অনেক স্টাডি করেছি। যেহেতু আন্ডার কনস্ট্রাকশন, আপডেট করার সুযোগ রয়েছে। সময়োপযোগী এবং দৃষ্টিনন্দন হবে এমন ভাবে নকশা পরিবর্তনের চারটি প্রস্তাবনা তৈরি করেছি। ১৫ জুলাইয়ের মধ্যে মন্ত্রণালয় জমা দিতে হবে। এরপর একনেকে উঠবে অনুমোদনের জন্য। অনুমোদন পেতে ২-৩ মাস সময় লাগবে। নতুন করে তিন বছর সময় চেয়েছি। ২০২৯ সালের ৩০ জুনের মধ্যে কাজটি শেষ করব ইনশাআল্লাহ। এক বছর সময় লাগবে অনুমোদন, ইকুয়েপমেন্ট চেঞ্জসহ আনুষঙ্গিক কাজ করতে। বাকি দুই বছর লাগবে কাজ শেষ করতে। পরিবর্তিত নকশা অনুযায়ী মূল ব্রীজটা অনেক দৃষ্টিনন্দন হবে এবং ঢাকা থেকে খুলনার দূরত্ব ৪৮ কিলোমিটার কমবে। আড়ুয়া আতাই নদীর উপর ব্রিজের ফিজিবিলিটি চলমান রয়েছে। ব্রিজ হওয়ার আগ পর্যন্ত ওখানে প্রয়োজন হলে দুইটা ফেরি ২৪ ঘণ্টা চলাচলের ব্যবস্থা করে যানবাহন চলাচল সচল রাখার ব্যবস্থা করা হবে।
তিনি বলেন, অনুমোদন ছাড়া কাজ বেশি সামনে এগিয়ে নেওয়া সম্ভব হচ্ছে না। বর্তমানে কাজ চলমান আছে ধীরগতিতে। পূর্বের ডিজাইন অনুযায়ী যে-সব জায়গায় সুযোগ আছে কাজ চলবে। সব মিলিয়ে এ পর্যন্ত ১৮ শতাংশ কাজ হয়েছে।
উল্লেখ্য ২০১৯ সালের ১৭ ডিসেম্বর খুলনাবাসীর দীর্ঘ প্রত্যাশিত ও কাঙ্খিত স্বপ্নের ভৈরব সেতু বাস্তবায়নে একনেক সভায় অনুমোদন হয়। সেতুর নির্মাণ ব্যয় ধরা হয় ৬১৭ কোটি টাকা। এরমধ্যে মূল সেতুর ব্যয় ধরা হয় ৩০৩ কোটি টাকা। বাকি টাকা ব্যয় ধরা হয় জমি অধিগ্রহণসহ আনুষঙ্গিক কাজে। ২০২১ সালের ২৪ মে সেতুর আনুষ্ঠানিক কাজও শুরু হয়। চুক্তি অনুযায়ী দুই বছরের মধ্যে কাজ শেষ করার কথা ছিল। কিন্তু পাঁচ বছরে কাজের অগ্রগতি মাত্র ১৮ শতাংশ। ৩০ টি পিলারের মধ্যে এ পর্যন্ত দৃশ্যমান হয়েছে ২১ টি। ওয়াহিদ কন্সট্রাকশন লিঃ (করিম গ্রুপ) নামে একটি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান নির্মাণ কাজটি করছে। গতকাল মঙ্গলবার সরজমিনে সেতুর শহরাংশের রেলিগেট প্রান্তে গিয়ে দেখা যায় সেতুর ৭ নং পিলারের কাজ চলমান রয়েছে।
খুলনা গেজেট/এনএম

