শেখ হাসিনা সরকারের সাবেক শ্রম প্রতিমন্ত্রী বেগম মন্নুজান সুফিয়ান ও শ্রম অধিদপ্তরের সাবেক বিভাগীয় পরিচালক মিজানুর রহমানের বিরুদ্ধে আদালতে চার্জশীট দাখিল হয়েছে। দুদক তাদের বিরুদ্ধে দুর্নীতি, ক্ষমতার অপব্যবহর ও আয় বর্হিভূত সম্পদের মালিক হওয়ায় তাদের বিরুদ্ধে মামলা হয়েছে। ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট রাজনৈতিক পট পরিবর্তনের পর পরিচালককে ঢাকায় বদলী করা হয়।
সংশ্লিষ্ট সূত্র বলেছে, শ্রম প্রতিমন্ত্রীর সাথে পরিচালকের সখ্যতা গড়ে ওঠে। ১০ জনকে ডিঙ্গিয়ে তাকে বিভাগীয় পরিচালক হিসেবে পদোন্নতি দেওয়া হয়।
দুদকের উপ-পরিচালক (জন সংযোগ) মো: আক্তারুল ইসলাম অপর এক গণমাধ্যমকে জানান, বিভাগীয় শ্রম পরিচালক থাকাকালে বিভিন্ন ব্যক্তিকে পদোন্নতি দেন। প্রয়োজনীয় অনুসন্ধানের পর ২০২৫ সালের ৯ ফেব্রুয়ারি দুদক একটি মামলা দায়ের করেন। প্রাথমিক অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায় সাবেক প্রতিমন্ত্রী ও শ্রম পরিচালকের বিরুদ্ধে চার্জশিট গত ১৬ এপ্রিল দাখিল করা হয়। তাকে সাময়িকভাবে বরখাস্ত করা হয়েছে।
চার্জশিটে উল্লেখ করা হয় ২০১০-২০২৪ পর্যন্ত শ্রম পরিচালক কয়েক কোটি টাকার সম্পত্তি কেনেন। রাজধানীর উত্তরার ৭ নং সেক্টরের বাড়ি নির্মাণ, ইস্কাটন ও মোহাম্মাদপুরে দু’টি ফ্ল্যাট, যশোর শিক্ষা বোর্ডের সামনে ৬ তলা ভবন, খালিশপুর ‘সি’ ব্লকে ৮৫ লাখ টাকা ব্যায়ে একটি প্লট কিনে ৯ তলা বাড়ি নির্মাণ করেছেন। দুদুকের অনুসন্ধানে আয় বর্হিভুত সম্পদের মালিকানা প্রমাণিত হয়েছে।
সূত্র উল্লেখ করে উল্লেখিত পরিচালক উৎকোচের মাধ্যমে পদোন্নতি পান। সহকারী পরিচালক থেকে স্বল্প সময়ে উপ-পরিচালক পদে পদোন্নতি পেয়েছেন। দুদুকের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে সাবেক শ্রম প্রতিমন্ত্রী এসব বিষয় থেকে লাভবান হন।
উল্লেখ্য, বরখাস্তকৃত পরিচালক বরিশাল জেলার বাকেরগঞ্জ উপজেলার অধিবাসী। তার পিতা স্থানীয় ভূমি উন্নয়ন অফিসের কর্মচারি ছিলেন। আওয়ামী সরকারের আমলে প্রতিমন্ত্রীর ভয়ে এসব বিষয়ে কেউ মুখ খোলেননি। তিনি একাই চারটি পদের দায়িত্ব পালন করেন। এ ব্যাপারে প্রতিমন্ত্রীর সহযোগিতা ছিল।
খুলনা গেজেট/এনএম

