খুলনা জেলা আইনশৃঙ্খলা কমিটির সভা

খুমেক হাসপাতালে করোনা রোগীর চিকিৎসায় ২০ শয্যা প্রস্তুত

গে‌জেট ডেস্ক

খুলনা জেলা আইনশৃঙ্খলা কমিটির জুন মাসের সভা বুধবার (৪ জুন) সকালে জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ সাইফুল ইসলামের সভাপতিত্বে তাঁর সম্মেলনকক্ষে অনুষ্ঠিত হয়। সভায় খুমেক হাসপাতালে করোনা রোগীর চিকিৎসায় ২০ শয্যা প্রস্তুত, ময়ূর নদের উপর গল্লামারি ব্রিজের নির্মাণ কাজ শেষ করা, সোনাডাঙ্গা বাইপাস সড়কের সংস্কার কাজ দ্রুত বাস্তবায়ন, আসন্ন ঈদের সময় আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখা, সুন্দরবনকেন্দ্রিক দুস্যুতা বন্ধকরা-সহ বিবিধ গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে আলোচনা করা হয়।

সভায় পুলিশ সুপার টি এম মোশাররফ হোসেন জানান, খুলনার জিরোপয়েন্ট-ডুমুরিয়া সড়কের ভাঙ্গাচোরা অংশগুলো দুর্ঘটনার কারণ হতে পারে। ঈদের সময় এ সড়কে যান চলাচলের ক্ষেত্রে অধিক সতর্কতা নিতে হবে। প্রয়োজনে রেকার-সহ অন্যান্য যন্ত্রপাতি প্রস্তুত রাখতে হবে। কোরবানির পশুর হাটগুলোর গরু ব্যবসায়ী অথবা ঈদের সময় বড় অঙ্কের টাকা পরিবহনের ক্ষেত্রে ঝুঁকি কমাতে পুলিশি প্রহরা গ্রহণের বিষয়টি সবাইকে বিবেচনা করতে হবে। খুলনায় কোন ভাবেই যেন মবসংস্কৃতি স্থান না পায় সেদিকে নজর দিতে হবে।

সভায় মেট্রোপলিটন পুলিশের অতিরিক্ত উপ-পুলিশ কমিশনার (দক্ষিণ) মো. হুমায়ুন কবির জানান, ঈদকে কেন্দ্র করে জাল টাকার বিস্তার বন্ধে মেট্রোপলিটন পুলিশের দুইটি অভিযানে পাঁচ লাখ এবং এক লাখ ৭৫ হাজার টাকার জালনোট আটক করা হয়েছে। কোরবানির হাটগুলোয় জাল টাকা শনাক্তের ব্যবস্থা থাকবে। নগরীতে ছিনতাই বন্ধে বিশেষ পদক্ষেপ নেয়া হচ্ছে এবং কয়েকটি ছিনতাইকারী চক্রকে পুলিশ আটক করতে সক্ষম হয়েছে।

খুলনার ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ডা. মো. রফিকুল ইসলাম গাজী সভায় জানান, দেশের বিভিন্ন স্থানে ডেঙ্গু রোগের প্রকোপ বৃদ্ধি পাচ্ছে। আবার পার্শ্ববর্তী দেশে করোনার প্রকোপ বৃদ্ধি পাওয়ায় আমাদের দেশেও করোনা আক্রান্তের সংখ্যা বৃদ্ধির আশংকা রয়েছে। পরিস্থিতি বিবেচনায় খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে করোনা রোগীর চিকিৎসায় ২০টি শয্যা প্রস্তুত করা হয়েছে।

সভাপতির বক্তৃতায় জেলা প্রশাসক বলেন, আসন্ন কোরবানির ঈদের সময় আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে প্রয়োজনীয় সব ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে। ইতোমধ্যে যে সকল গরুর হাটের অনুমতি দেয়া হয়েছে তার বাইরে নতুন করে কোন হাটের অনুমতি দেয়া হবে না। হাটের সংখ্যা খুব বেশি হলে ক্রেতারা বিভ্রান্ত হন, গরুর মালিকরাও ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার সম্ভাবনা থাকে। ঈদের ছুটিতে জরুরিসেবা প্রদানকারী দপ্তরগুলোর সেবা যেন বিঘ্নিত না হয় সেদিকে নজর রাখতে হবে।

অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্টেট দীপংকর দাশ সভায় বিগত মাসে খুলনা জেলা ও মহানগরীর আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি তুলে ধরেন। খুলনা জেলায় মে মাসে রাহাজানি ১টি, চুরি ২১টি, খুন ৫টি, অস্ত্র আইনে ৪টি, ধর্ষণ ৮টি, নারী ও শিশু নির্যাতন ১৩টি, মাদকদ্রব্য বিষয়ক ৩৭টি এবং অন্যান্য ৬০টিসহ মোট ১৪৯টি মামলা হয়েছে যা বিগত এপ্রিল মাসে দায়ের হওয়া মামলার চেয়ে ৫টি কম। মহানগরে মে ডাকাতি ১টি, চুরি ১০টি, খুন ৫টি, অস্ত্র আইনে ১টি, দ্রুত বিচার ২টি, ধর্ষণ ৫টি, নারী ও শিশু নির্যাতন ১০টি, মাদকদ্রব্য বিষয়ক ৯২টি এবং অন্যান্য ৪৯টিসহ মোট ১৭৫টি মামলা হয়েছে যা বিগত এপ্রিল মাসে দায়ের হওয়া মামলার চেয়ে ২০টি বেশি।

সভায় উপজেলা নির্বাহী অফিসার, বিভিন্ন সরকারি দপ্তরের কর্মকর্তা-সহ কমিটির সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।

খুলনা গেজেট/এএজে




আরও সংবাদ

খুলনা গেজেটের app পেতে ক্লিক করুন