মঙ্গলবার । ১৯শে মে, ২০২৬ । ৫ই জ্যৈষ্ঠ, ১৪৩৩
চিতলমারীর অশোক নগর প্রাইমারি স্কুলভবন ঝুঁকিপূর্ণ, ছাদের পলেস্তারা খসে পড়ছে

গাছতলায় চলছে পাঠদান

সেলিম সুলতান সাগর, চিতলমারী

ছোট্ট ঋদ্ধি নাগ। চতুর্থ শ্রেণির ছাত্রী। ক্লাসরুমের কোনায় বসেছিল। হঠাৎ ছাদ থেকে পলেস্তারার বিশাল অংশ খসে পড়ল পাশে। অল্পের জন্য তার প্রাণ রক্ষা। শিক্ষকরা ছুটে এসে উদ্ধার করল ভীতসন্ত্রস্ত ঋদ্ধিকে। বর্তমানে শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা মাঠের গাছতলায় বিদ্যালয়ের কার্যক্রম চালাচ্ছে। আর ঘটনাটি বাগেরহাটের চিতলমারী উপজেলার অশোক নগর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের।

সরেজমিন দেখা গেছে, উপজেলার চরবানিয়ারী ইউনিয়নে ১৯৮৯ সালে অশোক নগর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়টি প্রতিষ্ঠিত হয়। বিদ্যালয়ে একটি মাত্র ভবন। ভবনটি ২০০০ সালে স্থাপিত হয়। ভবনটিতে ছোট-বড় মোট ৪টি কক্ষ। সব কক্ষের ভিতর ছাদ থেকে ফাটল নিয়ে পলেস্তারা খসে পড়ছে মেঝেতে। এরই মধ্যে চরম ঝুঁকি নিয়ে পাঠদান ও পাঠগ্রহণ করছিল ওই স্কুলের ৬০ জন শিক্ষার্থী ও ৪ জন শিক্ষক। গত ১৪ মে হঠাৎ ছাদ থেকে পলেস্তারার বিশাল অংশ স্কুলের শিশু শিক্ষার্থী ঋদ্ধি নাগের পাশে খসে পড়ে। অল্পের জন্য ঋদ্ধির প্রাণ রক্ষা পায়। সে কক্ষের মধ্যে ভয়ে গুটিসুটি হয়ে বসেছিল। বিকট শব্দ শুনে শিক্ষকরা ছুটে এসে কক্ষ থেকে ঋদ্ধিকে উদ্ধার করেন। ওইদিন বিদ্যালয়ে ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক তপতি গোলদার উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কাছে বিষয়টি জানিয়ে একটি আবেদন করেন। আর এ ঘটনার পর থেকে শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা খোলা মাঠে বিদ্যালয়ের কার্যক্রম চালাচ্ছে।

ওই বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী ঋদ্ধি নাগ, আমিষা আক্তার, নিরব বাড়ই, রিক মন্ডল, সেজুতি মন্ডল ও পাপড়ি মন্ডল জানায়, ঘটনার পর বিকট শব্দ হয়েছে। তারা প্রচণ্ড ভয় পেয়েছে। ঝুঁকিপূর্ণ ওই কক্ষগুলো আর ক্লাস করতে চায় না তারা।

শিক্ষার্থী অভিভাবক মিলন মন্ডল, অখিল নাগ ও হরলাল ঘরামি জানান, “অল্পের জন্য শিশুটির প্রাণ রক্ষা পেয়েছে। তারা তাদের সন্তানদের স্কুলে পাঠিয়ে বর্তমানে খুব দুশ্চিন্তায় থাকেন।”

অশোক নগর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক তপতি গোলদার জানান, “বিষয়টি তিনি উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তাকে অবহিত করলে কর্মকর্তা আপাতত ঝুঁকিপূর্ণ ভবনটির বারান্দায় পাঠদানের পরামর্শ দেন। কিন্তু বারান্দায় প্রচণ্ড রোদ পড়ায় তিনি মাঠে গাছতলায় পাঠদান করাচ্ছেন।”

চিতলমারী উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা অচ্যুতানন্দ দাস বলেন, “ঘটনাটি জানার পর সংশ্লিষ্ট বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষককে বিকল্প উপায়ে পাঠদান অব্যাহত রাখতে বলেছি। কারণ ক্লাসতো বন্ধ রাখা যাবে না।”

গতকাল রবিবার দুপুর ২টায় চিতলমারী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা খাদিজা আক্তার বলেন, “আমি জেলার মিটিংয়ে আছি। ওই প্রধান শিক্ষকের আবেদন পেয়েছি কিনা এই মুহূর্তে বলতে পারবো না। বিষয়টি আমরা গুরুত্বের সাথে দেখব।”

 

খুলনা গেজেট/এনএম




আরও সংবাদ

খুলনা গেজেটের app পেতে ক্লিক করুন