শুক্রবার । ২৪শে এপ্রিল, ২০২৬ । ১১ই বৈশাখ, ১৪৩৩

তিন ভাইয়ের উদ্ভাবনী ক্ষমতায় মুগ্ধ দেশ

সাগর মল্লিক, ফকিরহাট

ফকিরহাটে ভিন্নধর্মী শিল্পের নীরব বিপ্লব ঘটিয়েছেন অরুন পাল ও তার পরিবার। কাঠের ছোট টুকরো আর বাটালির নিখুঁত ছোঁয়ায় আধুনিক প্রযুক্তি ও লোকজ সংস্কৃতির এক অপূর্ব সংমিশ্রণ ‘কাঠের কলম’ তৈরি করে তারা এখন দেশজুড়ে আলোচনায়।

মাসকাটা গ্রামের অরুন পাল ও তার তিন ভাইয়ের হাত ধরে গড়ে ওঠা ‘মিথুন কুটির শিল্প’ এখন যেন এক বিস্ময়ের নাম। অথচ এই শিল্পের পেছনের গল্পটি সংগ্রামের ও অদম্য ইচ্ছাশক্তির। অরুন পাল বলেন, “আমরা কৃষক পরিবারের সন্তান। বাইরে গিয়ে ভিন্ন পেশায় কাজ করার চেয়ে নিজেদের ঘরেই সৃজনশীল কিছু করার লক্ষ্য থেকে এই শিল্পের যাত্রা। শুরুতে আমরা বাঁশ দিয়ে কাজ শুরু করলেও, গত ২০ বছর ধরে আমরা মেহগনি কাঠ দিয়ে কলম তৈরি করছি।”

এই শিল্পের সবচেয়ে আকর্ষণীয় দিক হলো, কলম তৈরির মেশিনটিও তাদের নিজেদেরই আবিষ্কৃত। অরুন পাল গর্বের সাথে জানান, “পুরো বাংলাদেশে আমরা তিন ভাই ছাড়া কাঠের কলম তৈরির এই নিজস্ব প্রযুক্তি আর কারো কাছে নেই।”

উৎপাদন প্রক্রিয়ার নিপুণতায় এই কলমগুলো অনন্য। প্রতিটি কলম তৈরি করতে ৩৬টি ভিন্ন ভিন্ন ধাপ অতিক্রম করতে হয়। প্রতিটি ধাপে এক সেকেন্ড করে সময় দিলেও, অন্তত ৩৬ বার হাতের ছোঁয়া পাওয়ার পরই একটি কলম পূর্ণতা পায়। নিজেদের উদ্ভাবিত মেশিনে পুরো পরিবার মিলে তারা মাসে প্রায় ৩ থেকে ৪ হাজার কলম উৎপাদন করতে সক্ষম হন।

নিপুণ কারুকাজে তৈরি তাদের এই কলমের কদর এখন দেশজুড়ে। আড়ংয়ের মতো নামি দেশি ব্র্যান্ডসহ দেশের বিভিন্ন বড় ব্যাবসায়িক প্ল্যাটফর্ম নিয়মিতভাবে তাদের কাছ থেকে কলম সংগ্রহ করছে। নকশাবিহীন কলম ৩১ টাকা এবং নকশা করা কলম ৬৫ টাকা পাইকারি দরে বিক্রি করে তারা পরিবারের জীবিকা নির্বাহ করছেন।

স্থানীয় এই শিল্পটিকে আরও বড় পরিসরে ছড়িয়ে দেওয়ার স্বপ্ন দেখছেন উদ্যোক্তারা। অরুন পালের প্রত্যাশা, সরকারি পৃষ্ঠপোষকতা ও সহজ শর্তে ঋণসহায়তা পেলে এই শিল্পকে আরও আধুনিকায়ন করা সম্ভব।

সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, সরকারি উদ্যোগে এই শিল্পকে পৃষ্ঠপোষকতা দিলে একদিকে যেমন দেশের অভ্যন্তরীণ চাহিদা পূরণ করে পরিবেশবান্ধব এই পণ্যের সহজলভ্যতা নিশ্চিত করা যাবে, অন্যদিকে বিশ্ববাজারে ‘মেইড ইন বাংলাদেশ’ ব্র্যান্ডের হস্তশিল্প হিসেবে এই কলম রপ্তানির মাধ্যমে প্রচুর বৈদেশিক মুদ্রা অর্জন সম্ভব। ফকিরহাটের এই তিন ভাইয়ের উদ্ভাবনী এই উদ্যোগ সঠিক সহায়তা পেলে অদূর ভবিষ্যতে বিশ্ববাজারে বাংলাদেশের হস্তশিল্পের মানচিত্র উজ্জ্বল করতে পারে এমনটাই প্রত্যাশা স্থানীয়দের।

 

খুলনা গেজেট/এনএম




আরও সংবাদ

খুলনা গেজেটের app পেতে ক্লিক করুন