এশিয়ান গেমসে পাকিস্তানের বিপক্ষে সেমিফাইনাল ম্যাচ শেষে জাপানে বাংলাদেশি প্রবাসীদের মুখ মলিন। অথচ বাংলাদেশের ক্রিকেটার ও কোচদের মাঝে যেন কোনো বিকার নেই! বিশেষ করে অধিনায়ক লিটন দাস মিক্সড জোনে সাংবাদিকদের প্রশ্নে স্বভাবসুলভ বাঁকা সুরে জবাব দিয়েছেন।
নাগোয়ার চলমান বৃষ্টিতে ক্রিকেট মাঠের উইকেট চারদিন ঢাকা ছিল। উইকেটে ফাটল থাকায় বাংলাদেশ ও পাকিস্তান দুুই দলই বেশি স্পিনার খেলায়। স্পিনবান্ধব উইকেটে বাংলাদেশের অধিনায়ক লিটন দাস পেসার মুস্তাফিজুর রহমানকে দিয়ে ২ ওভার করিয়েছেন। প্রথম ওভারে ১৮ রান দেওয়ার পরও কেন আবার তাকে দেওয়া হলো স্পিনারদের না দিয়ে? এমন প্রশ্নে লিটন পাল্টা আক্রমণের সুরে বললেন, ‘আজকে মুস্তাফিজ ৩ উইকেট পেলে আপনি এই প্রশ্ন করতেন না।’
পাকিস্তান ১৩ ওভারের মধ্যে মাত্র তিন ওভার করিয়েছে পেসার দিয়ে। সেখানে বাংলাদেশ সাইফ, মোসাদ্দেক সৈকতের মতো স্পিনারকে ব্যবহারই করেনি। এ নিয়ে ফের লিটন বলেন, ‘আমার কাছে বেস্ট অপশন মুস্তাফিজ মনে হয়েছে, আমি করিয়েছি। আপনার কাছে যদি কখনও মনে হয় অন্য অপশন বেস্ট, আপনি করাবেন।’
মুস্তাফিজের ২ ওভারে ৪১ রানই বাংলাদেশকে ম্যাচ থেকে ছিটকে দিয়েছে। দলের সেরা বোলারের এমন বোলিং নিয়ে অধিনায়কের বক্তব্য, ‘দেখেন, ও আমাদের টিমের বেস্ট বোলার অনেক বছর ধরে। তো ক্রিকেটে এই জিনিসটাই, যে আপনি কখনও একই ওয়েতে যেতে পারবেন না, আপস অ্যান্ড ডাউনস থাকবে। আমার কাছে মনে হয় তার জন্য আজকের দিনটা খুব একটা সুইটেবল ছিল না।’
লিটন সাংবাদিকদের সামনে এসে কথার ফুলঝুরি ঝরালেও ব্যাট হাতে ৩ বলে করেছেন মাত্র ২ রান। অধিনায়কত্ব নিয়েও রয়েছে প্রশ্ন। তবে বাজে ব্যাটিংয়ের জন্য অধিনায়ক অনুশীলন ঘাটতিকে সামনে এনেছেন, ‘আমরা অনেক দিন ধরে রুমে বসা, প্লাস আমরা টসে হেরে গেছি। তো আমাদের হাতে তো কোনো অপশন ছিল না, উইকেটটাও একটু ডিফিকাল্টি ফেস করার ছিল। যদি ভালো খেলতে পারতাম ভালো হতো, বাট এটা খুবই ইজি না যে আপনি এতদিন বসে থাকবেন অ্যান্ড যাইয়া খুব এক্সট্রাঅর্ডিনারি ইনিংস খেলবেন।
বাংলাদেশের অধিনায়ক এই মন্তব্য করলেও কোচ অবশ্য দিন দুয়েক আগেই বলেছিলেন তারা এমন পরিস্থিতির জন্য প্রস্তুত। গতকাল ইয়াসির আলী রাব্বিও অনুশীলন না করাকে কারণ হিসেবে আনেননি। সেখানে অধিনায়ক সেটিকে ঢাল হিসেবে ব্যবহার করেছেন। অথচ একইভাবে পাকিস্তানও অনুশীলন করতে পারেনি, তবুও ঠিকই তারা সাবলীল ব্যাটিং করেছে।
বাংলাদেশ ২০১০ সালে এশিয়ান গেমসের পুরুষ ক্রিকেটে স্বর্ণ জিতেছিল। ২০১৪ সালে রৌপ্যর পর ২০২৩ সালে ব্রোঞ্জ। এবার পূর্ণ শক্তির দল আসায় এবং সেমিফাইনালে তুলনামূলক দুর্বল পাকিস্তান থাকায় অন্তত রৌপ্য প্রত্যাশা ছিল। সেখানে বাংলাদেশ দুর্বল পাকিস্তানের কাছে হেরে এখন ব্রোঞ্জের লড়াইয়ে। পদকের রংটা বদলানোর সুযোগ হাতছাড়া হওয়ায় অধিনায়কের বক্তব্য, ‘স্বাভাবিক বিষয়, যখন দেশ ছাড়ি বলছিলাম যে আমরা ফাইনাল খেলতে চাই। সো ওই জায়গাটা আমরা যেতে পারিনি।’
খুলনা গেজেট/এনএম

