‘কাউকে ভয় পাই না, সেরাটা দিতে এসেছি’—টুর্নামেন্ট শুরুর আগে বাফুফের পাঠানো ভিডিও বার্তায় এভাবেই হুঙ্কার ছুড়েছিলেন হামজা চৌধুরী। তবে মাঠের লড়াইয়ে সেই আত্মবিশ্বাসের ছিটেফোঁটাও দেখা যায়নি। পুরো ম্যাচজুড়ে ছন্নছাড়া ফুটবল খেলে শক্তিশালী মালয়েশিয়ার কাছে ৩-০ ব্যবধানে হেরে প্রথমবার আয়োজিত ফিফা আসিয়ান কাপ মিশন শুরু করল বাংলাদেশ জাতীয় ফুটবল দল।
শুক্রবার (২৫ সেপ্টেম্বর) ইন্দোনেশিয়ার জাকার্তার গেলোরা বুং কর্ন স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত ম্যাচের শুরু থেকেই আধিপত্য বিস্তার করে মালয়েশিয়া। ফিফা র্যাঙ্কিংয়ে ১৩৬ নম্বরে থাকা দলটি শুরু থেকেই ১৮১ নম্বরে থাকা বাংলাদেশের ওপর চাপ সৃষ্টি করে নিজেদের শক্তিমত্তার স্পষ্ট প্রমাণ দেয়। আরিফ আইমানের জোড়া গোলের পাশাপাশি অন্য গোলটি আসে অভিষিক্ত বের্গসন গুস্তাভোর পা থেকে।
এদিন হামজা চৌধুরী, সমিত সোম ও ফারহান আলি ওয়াহিদের মতো প্রবাসী ফুটবলারদের নিয়ে শক্তিশালী একাদশ গড়ে মাঠে নামলেও শুরু থেকেই গোছানো ফুটবল খেলতে ব্যর্থ হয় বাংলাদেশ। তাতে ম্যাচের চতুর্থ মিনিটেই বড় সুযোগ আসে মালয়েশিয়ার সামনে। কর্নার কিক থেকে গোলবার বরাবর নেয়া শট কোনোমতে টোকা দিয়ে বাইরে পাঠিয়ে দেন বাংলাদেশের গোলরক্ষক মেহেদী হাসান শ্রাবণ।
তবে মালয়েশিয়ার ফরোয়ার্ডদের আটকে রাখা যায়নি। ম্যাচের ১৮তম মিনিটে প্রথম ধাক্কা খায় লাল-সবুজের প্রতিনিধিরা। মাঝমাঠ থেকে সতীর্থের বাড়ানো বল নিয়ন্ত্রণে নিয়ে ডি-বক্সে ঢুকে পড়েন মালয়েশিয়ার ১০ নম্বর জার্সিধারী ফরোয়ার্ড আরিফ আইমান। গোলরক্ষক মেহেদী হাসান শ্রাবণের দুই পায়ের ফাঁক দিয়ে বল জালে জড়িয়ে দলকে ১-০ ব্যবধানে এগিয়ে নেন তিনি।
গোল হজমের পর ম্যাচে ফেরার চেষ্টা করলেও ৩৮তম মিনিটে রক্ষণের মারাত্মক ভুলে দ্বিতীয় গোল হজম করে বাংলাদেশ। ডিফেন্ডার শাকিল আহাদ তপুর বাড়ানো ভুল পাস নিয়ন্ত্রণে নিয়ে নিজের দ্বিতীয় গোলটি করেন আরিফ আইমান (২-০)। ২-০ ব্যবধানে পিছিয়ে থেকে বিরতিতে যাওয়া বাংলাদেশ প্রথমার্ধে দুটি হলুদ কার্ডও দেখায় (ফরোয়ার্ড রাকিব হোসেন ও ডিফেন্ডার সাদ উদ্দিন)।
দুই গোলে পিছিয়ে থাকা বাংলাদেশ দ্বিতীয়ার্ধে খানিকটা আক্রমণের চেষ্টা চালায়। কিন্তু তাতে কোনো লাভ হয়নি। উল্টো ম্যাচের ৫৩তম মিনিটে খেয়ে বসে আরও এক গোল। এসময় মাঠে ডানপ্রান্ত থেকে আসা বল বাম পায়ে রিসিভ করে ডান পায়ে শট করেন ব্রাজিলে জন্ম নেওয়া মালয়েশিয়ান ফরোয়ার্ড বের্গসন গুস্তাভো। শটের গতি না থাকলেও তা রুখে দিতে পারেননি শ্রাবণ।
এদিকে ৭৬তম মিনিটে গোলের সুবর্ণ সুযোগ পেয়েছিলেন বাংলাদেশের হামজা চৌধুরী। সতীর্থের বাড়িয়ে দেওয়া বলে ডি-বক্সের ভেতরে ঢুকে পড়েন হামজা। সামনে শুধু মালয়েশিয়ার গোলরক্ষক ছিলেন। কিন্তু তার নেওয়া শট রুখে দেন মালয়েশিয়ার গোলকিপার। দ্বিতীয়বার ফের শট নিলে কর্নারের বিনিময়ে তা ঠেকান তিনি। শেষদিকে মালয়েশিয়ার শট গোলবারে না লাগলে হারের ব্যবধান আরও বড় হতে পারত।
হতাশাজনক এই হারের পর আগামী ২৮ সেপ্টেম্বর গ্রুপ পর্বে নিজেদের দ্বিতীয় ম্যাচে সিঙ্গাপুরের মুখোমুখি হবে বাংলাদেশ। এরপর ১ অক্টোবর স্বাগতিক ইন্দোনেশিয়ার বিরুদ্ধে মাঠে নামবেন হামজা চৌধুরীরা। দুটি ম্যাচই অনুষ্ঠিত হবে জাকার্তার গেলোরা বুং কর্ন স্টেডিয়ামে।

