একই বছরে দ্বিতীয় দফা ক্রয়াদেশ

বোয়িংয়ের আরও ১১ উড়োজাহাজ কেনার চুক্তি বাংলাদেশের

গেজেট প্রতিবেদন

স্বাধীনতার পর ১৯৭২ সালে মাত্র একটি উড়োজাহাজ নিয়ে যাত্রা শুরু করা বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের বহর সময়ের সঙ্গে বেড়েছে। ইতিহাসে বিমানের বহরে সর্বোচ্চ ২১টি উড়োজাহাজ ছিল। সেই সংখ্যাকেও ছাড়িয়ে গেছে এক বছরে করা নতুন উড়োজাহাজের ক্রয়াদেশ। ২০২৬ সালে প্রথমে ১৪টি এবং এবার আরও ১১টি—বোয়িংয়ের কাছ থেকে মোট ২৫টি নতুন উড়োজাহাজ কেনার চুক্তি করেছে বিমান। অর্থাৎ বিমানের ইতিহাসে একসময় থাকা সর্বোচ্চ বহরের চেয়েও চারটি বেশি উড়োজাহাজের অর্ডার হয়েছে মাত্র এক বছরে।

বুধবার (২৩ সেপ্টেম্বর) জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৮১তম সাধারণ পরিষদের অধিবেশনের ফাঁকে যুক্তরাষ্ট্রের উড়োজাহাজ নির্মাতা প্রতিষ্ঠান বোয়িংয়ের কাছ থেকে আরও ১১টি উড়োজাহাজ কেনার চুক্তিটি সই করেছে বাংলাদেশ।

এই চুক্তির মাধ্যমে পাঁচটি বোয়িং ৭৮৭-১০ ড্রিমলাইনার এবং ছয়টি ৭৩৭-৮ উড়োজাহাজ কিনবে বিমান।

নিউইয়র্কে স্থানীয় সময় বিকেলে বোয়িংয়ের পক্ষে চুক্তিতে স্বাক্ষর করেন প্রতিষ্ঠানটির কমার্শিয়াল সেলস অ্যান্ড মার্কেটিং বিভাগের সিনিয়র ভাইস প্রেসিডেন্ট ব্র্যাড ম্যাকমুলেন। বিমানের পক্ষে চুক্তি স্বাক্ষর করেন বোর্ড চেয়ারম্যান রুমি এ. হোসেন।

এ সময় আরও উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশের বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটনমন্ত্রী এম. রশিদুজ্জামান মিল্লাত, পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী হুমায়ুন কবির, ইনভেস্ট বাংলাদেশ কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান চৌধুরী আশিক মাহমুদ বিন হারুন, প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা মাহদী আমিন, যুক্তরাষ্ট্রের বাণিজ্যমন্ত্রী হাওয়ার্ড লুটনিক এবং যুক্তরাষ্ট্রের উপ-পররাষ্ট্রমন্ত্রী ক্রিস্টোফার ল্যান্ডাউ।

এ সময় বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের চেয়ারম্যান রুমি এ হোসাইন বলেন, আজকের এই সম্পূরক চুক্তি বিমানের চলমান বহর ও নেটওয়ার্ক সম্প্রসারণের ক্ষেত্রে একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ। এই ক্রয়াদেশ আমাদের বহর পরিকল্পনার সুনির্দিষ্ট প্রয়োজনীয়তার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ। বছরের পর বছর ধরে বোয়িংয়ের সঙ্গে আমাদের দলের কার্যকর কাজের সম্পর্ক উড়োজাহাজ সরবরাহ ও সহায়তা ব্যবস্থাপনা নিয়ে আমাদের আস্থা তৈরি করেছে।

তিনি বলেন, “জাতীয় পতাকাবাহী এয়ারলাইন হিসেবে আমরা বাংলাদেশের জনগণ, প্রবাসী সম্প্রদায়, ব্যবসা ও পর্যটনের যোগাযোগের প্রয়োজনের কথা বিবেচনায় রেখে বিমানের নেটওয়ার্ক ও সক্ষমতা উন্নয়নে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। আগামী বছরগুলোতে দেশের আন্তর্জাতিক যোগাযোগ ব্যবস্থা আরও শক্তিশালী করার লক্ষ্যে নেওয়া বৃহত্তর ও সুচিন্তিত পরিকল্পনারই একটি অংশ এই চুক্তি।”

বিমান বর্তমানে আন্তর্জাতিক রুটে ৭৮৭, ৭৭৭ এবং ৭৩৭ নেক্সট-জেনারেশন উড়োজাহাজ পরিচালনা করছে। এসব উড়োজাহাজের মাধ্যমে বাংলাদেশকে মধ্যপ্রাচ্য, দক্ষিণ ও দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়া এবং ইউরোপের প্রধান প্রধান হাবের সঙ্গে যুক্ত করা হচ্ছে।

চুক্তির প্রতিক্রিয়ায় বোয়িংয়ের কমার্শিয়াল সেলস অ্যান্ড মার্কেটিং বিভাগের সিনিয়র ভাইস প্রেসিডেন্ট ব্র্যাড ম্যাকমুলেন বলেন, বিমানের নতুন এই ক্রয়াদেশ বহর ও সক্ষমতা বৃদ্ধির ক্ষেত্রে তাদের কৌশলগত দৃষ্টিভঙ্গির প্রতিফলন এবং আমাদের দীর্ঘদিনের অংশীদারত্বের শক্তি তুলে ধরে। অতিরিক্ত ৭৮৭ ড্রিমলাইনার ও ৭৩৭ ম্যাক্স উড়োজাহাজগুলো বিমানকে প্রয়োজনীয় জ্বালানি সাশ্রয়, বহুমুখিতা ও নির্ভরযোগ্যতা দেবে, যা বৈশ্বিক এভিয়েশনে বাংলাদেশের ক্রমবর্ধমান ভূমিকা সমর্থনে প্রয়োজন।

২০২৬ সালের এপ্রিলে ১৪টি উড়োজাহাজ কেনার চুক্তি করে বিমান। সেই চুক্তিতে ছিল- ৮টি বোয়িং ৭৮৭-১০ ড্রিমলাইনার, ২টি বোয়িং ৭৮৭-৯ ড্রিমলাইনার এবং ৪টি বোয়িং ৭৩৭-৮ ম্যাক্স।

 

খুলনা গেজেট/এনএম




আরও সংবাদ

খুলনা গেজেটের app পেতে ক্লিক করুন