বৃহস্পতিবার । ২রা জুলাই, ২০২৬ । ১৮ই আষাঢ়, ১৪৩৩
কেসিসি প্রশাসকের নির্দেশ মানেননি প্রকৌশলী ও ঠিকাদার

ড্রেন বন্ধ করে নির্মাণ কাজ, সামান্য বৃষ্টিতে ডুবলো মুজগুন্নী মহাসড়ক

নিজস্ব প্রতিবেদক

বর্ষা মৌসুমের শুরুতেই নগরীর সকল ড্রেন ও খাল থেকে বাঁধ অপসারণের নির্দেশ দিয়েছিলেন কেসিসি প্রশাসক নজরুল ইসলাম মঞ্জু। সেই নির্দেশ অমান্য করেই খুলনা বিশেষায়িত হাসপাতালের সামনে প্রধান ড্রেন বন্ধ করে নির্মাণ কাজ অব্যাহত রেখেছিলেন উপ-সহকারী প্রকৌশলী ও ঠিকাদারেরা। খামখেয়ালীর এই কুফল ভোগ করতে হয়েছে মুজগুন্নী আবাসিক এলাকার মানুষকে। গতকাল বুধবার সকালে সামান্য বৃষ্টিতে ডুবে যায় মুজগুন্নী মহাসড়কসহ আশপাশের বাড়ি ঘরের নিচতলা। ঘণ্টার পর ঘণ্টা ছিল অচলাবস্থা। পরে কেসিসির প্রধান প্রকৌশলীর হস্তক্ষেপে বাঁধ কেটে পানি নিষ্কাশনের ব্যবস্থা করা হয়।

আবহাওয়া অধিদপ্তর থেকে জানা গেছে, গতকাল বুধবার সকাল ৬টা থেকে ৯টা পর্যন্ত ১২ মিলিমিটার, ১টা পর্যন্ত ২০ মিলিমিটার এবং দুপুর ৩টা পর্যন্ত আরও দুই মিলিমিটার বৃষ্টি হয়েছে। পানি নিষ্কাশনের প্রধান ড্রেন বন্ধ থাকায় সকালের ওই ১২ মিলিমিটার বৃষ্টিতেই ডুবে গেছে মুজগুন্নী মহাসড়কের একাংশ। এতে এলাকার অনেক বাড়ির নিচতলায় পানি প্রবেশ করে। কেসিসির বৃক্ষরোপণ কর্মসূচির আওতায় লাগানো গাছগুলো দীর্ঘক্ষণ পানিতে ডুবেছিল।

কেসিসি থেকে জানা গেছে, বিশেষায়িত হাসপাতালের বড় ড্রেনের ৩০০ মিটার অংশ কংক্রিটের ঢালাই দেওয়া হচ্ছে। এই কাজের জন্যই বাঁধ দিয়ে প্রধান ড্রেনটি বন্ধ করে দেওয়া হয়। এতে মহাসড়ক ও আশপাশ এলাকার পানি নিষ্কাশন পুরোপুরি বন্ধ হয়ে যায়। বেলা ১১টার দিকে বাসাবাড়িতে পানি প্রবেশ করলে স্থানীয়রা বিষয়টি কেসিসিকে জানায়, বেলা ১২টার দিকে বাঁধ কেটে পানি নিষ্কাশনের ব্যবস্থা করা হয়।

প্রশাসকের নির্দেশ অমান্য করে কেন ড্রেন বন্ধ রাখা হলো জানতে চাইলে উপ-সহকারী প্রকৌশলী এফ এম ফয়সাল বলেন, ঠিকাদার কাজ অব্যাহত রেখেছিলেন। পরে দুপুর বাঁধ কেটে দেওয়া হয়েছে। বর্ষার মধ্যে আর কাজ করা হবে না।

কেসিসির প্রধান বর্জ্য ব্যবস্থাপনা কর্মকর্তা আনিসুর রহমান জানান, প্রশাসকের নির্দেশে সব বাঁধ আগেই কেটে দেওয়া হয়েছে। ওইটা বন্ধ করে কাজ করা ঠিক হয়নি। বর্ষার আর কোনো ড্রেন বন্ধ রাখা হবে না।

 

খুলনা গেজেট/এনএম




আরও সংবাদ

খুলনা গেজেটের app পেতে ক্লিক করুন