বিশ্ব শিশুশ্রম প্রতিরোধ দিবস উপলক্ষ্যে আলোচনা সভা সোমবার (২৯ জুন) খুলনা জেলা প্রশাসকের সম্মেলনকক্ষে অনুষ্ঠিত হয়। বিশ্ব শিশুশ্রম প্রতিরোধ দিবসের এবারের প্রতিপাদ্য ‘শিশুশ্রমকে না বলি, শোভন কর্মপরিবেশ নিশ্চিত করি’।
অনুষ্ঠানে সভাপতি জেলা প্রশাসক হুরে জান্নাত বলেন, শিশুশ্রম নিরসনে সরকারি ও বেসরকারি প্রতিষ্ঠানসহ সমাজের সকল শ্রেণি-পেশার মানুষকে সমন্বিতভাবে কাজ করতে হবে। তিনি বলেন, শিশুরা ঝুঁকিপূর্ণ কাজে নিয়োজিত থাকলে অঙ্গহানি এমনকি প্রাণহানির মতো দুর্ঘটনাও ঘটতে পারে। দারিদ্র্য, পারিবারিক সংকট ও মাদকের নেতিবাচক প্রভাবের কারণে অনেক শিশুশ্রমে যুক্ত হয়।
তিনি আরও বলেন, দরিদ্র ও অসহায় পরিবারের শিশুদের জন্য আর্থিক সহায়তা এবং লেখাপড়ায় উৎসাহ দিতে মেধাবৃত্তির ব্যবস্থা করা হবে। সরকারের বিভিন্ন দপ্তরের সেবা ও সুযোগ-সুবিধা সম্পর্কে জনগণকে অবহিত করতে হবে। টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা (এসডিজি) অর্জনে সকল দপ্তর ও অংশীজনকে সমন্বিতভাবে দায়িত্ব পালন করতে হবে।
সভায় খুলনা অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) বিতান কুমার মন্ডল, মাসসের নির্বাহী পরিচালক অ্যাড. শামীমা সুলতানা শিলু, জাতীয় শ্রমিকদলের আহবায়ক মো. মজিবুর রহমান, ওয়ার্ল্ড ভিশনের সহকারী ম্যানেজার লিটন কুমার মন্ডল প্রমুখ বক্তব্য রাখেন।
স্বাগত বক্তব্য রাখেন কলকারখানা ও প্রতিষ্ঠান পরিদর্শন অধিদপ্তরের খুলনা বিভাগীয় কার্যালয়ের উপমহাপরিদর্শক সানতাজ বিল্লাহ। সভায় প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন কলকারখানা ও প্রতিষ্ঠান পরিদর্শন অধিদপ্তরের সহকারী মহাপরিদর্শক মো. শাহিনুর রহমান।
সভায় সরকারি দপ্তরের কর্মকর্তা, এনজিও প্রতিনিধিসহ জেলা শিশুশ্রম পরিবীক্ষণ কমিটির সদস্যরা অংশ নেন। ওয়ার্ল্ড ভিশনের সহযোগিতায় খুলনা জেলা প্রশাসন এবং কলকারখানা ও প্রতিষ্ঠান পরিদর্শন অধিদপ্তর যৌথভাবে এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করে।
এর আগে দিবসটি উপলক্ষ্যে খুলনা কালেক্টরেট চত্বর থেকে বর্ণাঢ্য শোভাযাত্রা শুরু হয়ে বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ করে একই স্থানে এসে শেষ হয়। শোভাযাত্রায় সরকারি-বেসরকারি দপ্তরের কর্মকর্তাসহ বিভিন্ন শ্রেণি পেশার জনগণ অংশ নেন।
এছাড়াও দিবসটি উপলক্ষ্যে সাতক্ষীরা জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের চত্বর থেকে বর্ণাঢ্য শোভাযাত্রা বের করা হয়। পরে জেলা প্রশাসকের সম্মেলনকক্ষে আলোচনা সভায় অতিথিরা বলেন, শিশুশ্রম নির্মূলে শুধু আইন প্রয়োগই যথেষ্ট নয়, এর পাশাপাশি দরিদ্র পরিবারের জীবনমান উন্নয়ন, অভিভাবকদের কর্মসংস্থান নিশ্চিত করা এবং বিদ্যালয় থেকে ঝরে পড়া শিশুদের জন্য বিশেষ কারিগরি ও বৃত্তিমূলক শিক্ষার সুযোগ সৃষ্টি করতে হবে। প্রতিটি পরিবারকে সচেতন করে শিশুদের দক্ষ জনশক্তি হিসেবে গড়ে তুলতে হবে।
সাতক্ষীরা জেলা প্রশাসক কাউসার আজিজের সভাপতিত্বে এবং কলকারখানা ও প্রতিষ্ঠান পরিদর্শন অধিদপ্তর, খুলনা শ্রম পরিদর্শক মোহাম্মদ এহসানুল হকের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখেন অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) শেখ মঈনুল ইসলাম মঈন , জেলা তথ্য কর্মকর্তা মো. জাহারুল ইসলাম টুটুল, সাতক্ষীরা কারিগরি প্রশিক্ষণ কেন্দ্রের ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ কে. এম. মিজানুর রহমান, সুশীলনের উপ-পরিচালক জি. এম. মনিরুজ্জামান, কলকারখানা ও প্রতিষ্ঠান পরিদর্শক সিরাজ সরদার, জেলা শ্রমিক দলের সভাপতি আব্দুস সামাদ প্রমুখ।
এসময় বিভিন্ন সরকারি দপ্তরের কর্মকর্তা, বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধি, শ্রমিক সংগঠনের নেতৃবৃন্দ ও সুধীজন উপস্থিত ছিলেন।
উল্লেখ্য, বিশ্বব্যাপী প্রতিবছর ১২ জুন বিশ্ব শিশুশ্রম প্রতিরোধ দিবস পালন করা হয়। বিশেষ কারণে বাংলাদেশে কেবল এ বছর ১২ জুনের পরিবর্তে ২৯ জুন দিবসটি পালন করা হচ্ছে। টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রার ৮ দশমিক ৭ নম্বর সূচক অনুযায়ী শিশুশ্রম নিরসনে বাংলাদেশ প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। বাংলাদেশ সরকার ঘোষিত ৪৩টি ঝুঁকিপূর্ণ খাতে শিশুদের নিয়োগ করা আইন অনুযায়ী সম্পূর্ণ নিষেধ।
খুলনা গেজেট/এএজে

