বাংলা বর্ষবরণ যেন সকালের পান্তা ইলিশ ছাড়া চলেনা। কিন্তু এবছর মুখরোচক এ খাবার থেকে বঞ্চিত হচ্ছে ভোজন রশিকরা। খুলনার বাজারে সরবরাহ কম থাকায় ইলিশের দাম বেড়েছে অস্বাভাবিক হারে। মাঝারি থেকে বড় সাইজের ইলিশ কিনতে গিয়ে হিমশিম খাচ্ছেন সাধারণ ক্রেতারা। অনেকেই বলছেন ঐতিহ্যের টানে বাজারে গেলেও বর্তমানে তা সবার পক্ষে কেনা সম্ভব হচ্ছে না। ফলে অনেকের কাছে পান্তা ইলিশ স্বপ্ন হয়ে দাঁড়িয়েছে।
বিক্রেতারা জানান, প্রতিবছর এ সময় ইলিশের চাহিদা বাড়ে। কিন্তু এবার তুলনামূলক সরবরাহ কম থাকায় বড় সাইজের ইলিশ প্রতিকেজি ৪ হাজার টাকায় বিক্রি হচ্ছে। এছাড়া মাঝারি সাইজের ইলিশ ২ হাজার ৫০০ থেকে ২ হাজার ৭০০ টাকা, আধা কেজি সাইজের প্রতিকেজি ইলিশ ১ হাজার ৯ টাকায় বিক্রি করছে ব্যবসায়ীরা।
পশ্চিম রূপসা পাইকারি মাছ বাজারের মদিনা ফিসের ম্যানেজার মইনুদ্দিন বলেন, ‘বাজারে মাছের সরবরাহ খুব কম। সোমবার তিনি ৩০ কেজি মাছ পেয়েছেন।’ এককেজি সাইজের ইলিশ মাছের ৪ হাজার টাকায় বিক্রি করেছেন তিনি। এর থেকে কম ওজনের ৩ হাজার থেকে ৩ হাজার ২০০ টাকায় বিক্রি করেছেন।
তিনি আরও বলেন, ‘ভোলা ও চাঁদপুর এলাকায় মাছ ধরার ওপর নিষেধাজ্ঞা চলছে। এ কারণে বাজারে ইলিশ মাছের আমদানি খুব কম। তাছাড়া বরিশাল, চরদোহানি ও পাথরঘাটার ইলিশ মাছের আমদানি হয়ে থাকে এ বাজারে। কিন্তু এবার তার ব্যতিক্রম ঘটেছে।’
একই বাজারের এস বেঙ্গল ফিসের ম্যানেজার রাজ বলেন, ‘নতুন সরকার ক্ষমতায় বসেছে ঠিকই কিন্তু দেশের পরিস্থিতি এখনও স্বাভাবিক হয়নি। তাছাড়া অনেকেই পেশা পরিবর্তন করে অন্য পেশা বেছে নিয়েছে। গতবারের তুলনায় আমদানি কম থাকায় দাম অনেক বেশি। দেশে জ¦ালানি তেলের সংকট থাকায় অনেক বোট মালিকরা সাগরে যেতে পারছেন না। আমদানি বেশি থাকলে দামও কম থাকত।’
লবনচরা বাজারের খুচরা মাছ বিক্রেতা মোঃ হাফিজুল জানান, ‘সকালে মাছ কিনতে এ বাজারে এসেছিলাম। মাছ কম থাকায় বেশি দামে কিনে বিক্রি করেছি। ইলিশের চাহিদা থাকায় আবারও দুপুরের পর মাছ কিনতে এ বাজারে আসা। কিন্তু মাছ না থাকায় খালি হাতে ফিরে যেতে হচ্ছে। সকালে আধাকেজি সাইজের মাছ এক হাজার ৯০০ টাকায় কিনে ২০০ টাকা বেশি দামে বিক্রি করছি।’
একই বাজারের ব্যবসায়ী কামরুল ইসলাম জানান, ‘নদীতে বড় সাইজের ইলিশ কম ধরা পড়ছে। ফলে বাজারে আগের সংরক্ষিত মাছের ওপর নির্ভর করতে হচ্ছে।’
রূপসা পাইকারী বাজারে কথা হয় আবু নাসেরের সাথে। তিনি বলেন, ‘নববর্ষ এলেই কিছু অসাধু ব্যবসায়ী কৃত্রিম সংকট তৈরি করে দাম বাড়িয়ে দেন। ফলে উৎসবের আনন্দ ভাগাভাগি করার সুযোগ থেকে অনেকেই বঞ্চিত হন।’
সোনাডাঙ্গা নিউমার্কেটে কথা হয় আবু সাইদের সাথে। তিনি জানান, ‘নববর্ষ বাঙালির প্রাণের উৎসব। এদিনে মানুষ ভালো কিছু খাবারের চেষ্টা করে। কিন্তু দাম বেশি থাকায় মানুষ অতীত ঐতিহ্য ভুলতে বসেছে।
খুলনা গেজেট/এনএম

