খুলনার পেট্রোল পাম্পগুলোতে তেলের সংকট দেখা দিয়েছে। তেলের জন্য গাড়ি ও মোটর সাইকেলকে ঘণ্টার পর ঘণ্টা দীর্ঘ লাইনে অপেক্ষা করতে হচ্ছে। মোটরসাইকেল চালকসহ সাধারণ ভোক্তাদের উপচেপড়া ভিড় সামাল দিতে গিয়ে অনেক ক্ষেত্রে বিব্রতকর পরিস্থিতির সৃষ্টি হচ্ছে। হঠাৎ তেলের চাহিদা বেড়ে যাওয়ায় পরিস্থিতি আরও জটিল থহয়ে উঠেছে এবং ভোগান্তি বেড়েছে।
গতকাল বুধবার নগরীর পাওয়ার হাউজ মোড়, নিউ মার্কেট এলাকার মেট্রোপালিটন পাম্প, জয়বাংলা মোড়ের মেসার্স মরিয়া এন্টারপ্রাইজ ও খালিশপুর নতুন রাস্তা মোড়ের এলেনা ফিলিং স্টেশন, ফুলবাড়িগেট, বাদামতলা ফিলিং স্টেশনগুলোর সামনে মোটরসাইকেল ও গাড়ির দীর্ঘ লাইন দেখা যায়। সন্ধ্যা হলেই স্টেশনের মেশিনগুলোতে লেখা থাকে তেল নেই। তাই প্রয়োজনে তেল শেষ হওয়ার আগে মানুষ সকাল থেকে বিভিন্ন ফিলিং স্টেশনে তেল নেওয়ার জন্য ভিড় করতে থাকে।
কেসিসি পেট্রোলিয়ামে তেল নিতে আসা আব্দুল মুবিন জানান, ঈদের ছুটিতে খুলনায় এসেছেন। এক ঘন্টা সময় দাঁড়িয়ে তিনি তেল পেয়েছেন। রেশনিং পদ্ধতিতে ৫০০ টাকার তেল দিয়েছে ফিলিং স্টেশন কর্মচারীরা। বেশি দেওয়ার কথা জানালে তারা আর দেয়নি। জানতে চাইলে প্রতিত্তোরে তারা জানান এর বেশি দেওয়া সম্ভব নয়।
ওষুধ কোম্পানির কর্মকর্তা মোতাচ্ছিম বিল্লাহ জানান, মোটরসাইকেলে এক ঘন্টা চলার মত তেল ছিল। অসুবিধায় পড়ার আগে তেল নিতে আসা এখানে। কিন্তু দীর্ঘক্ষণ লাইনে দাড়িয়ে চাহিদা অনুযায়ি তেল পেলাম না।
কেসিসি পেট্রোলিয়ামের সুপারভাইজার মুজিবর রহমান বলেন, আগের চাহিদার তুলনায় জ¦ালানি তেল কম পাচ্ছি। থএকদিন অন্তর আমরা ৯ হাজার লিটার তেল পাচ্ছি। কোম্পানী আজ (গতকাল বুধবার) দিয়েছে ৬ হাজার লিটার ডিজেল, ৩ হাজার লিটার পেট্রোল ও ৩ হাজার লিটার অকটেন। ডিজেল ৩ হাজার লিটার নেওয়া হয়েছে। বাকী ৩ হাজার লিটার ডিজেল পদ্মায় রেখে এসেছি।
তিনি বলেন, খুলনা বিভাগে যতগুলো পাম্প আছে ততগুলোতে রেশনিং সিস্টেমে তেল দেওয়া হচ্ছে। যার যা চহিদা গড় হারে ভাগ করে প্রত্যেক পাম্পে দেওয়া হচ্ছে। নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে আমরা গ্রাহককে তেল দিয়ে যাচ্ছি। প্রত্যেক মানুষ যাতে তেল নিতে পারে। কিন্তু গ্রাহকদের আমরা চাহিদা অনুযায়ি দিতে পারছিনা। বহি:বিশ্বে যুদ্ধ পরিস্থিতি এবং তেল পর্যাপ্ত সরবরাহ না হওয়ার কারণে মূলত জ্বালানি তেলে সংকট। কোম্পানি থেকে আমাদের জানানো হচ্ছে আমরা তেল কম পাচ্ছি।
কেসিসি পেট্রোলিয়ামের সামনে ভিড় হওয়ার কারণ জানতে চাইলে তিনি বলেন, সব জায়গায় পর্যাপ্ত তেল দিচ্ছে না কোম্পানিগুলো। যে পাম্পে মানুষ তেল পাচ্ছে, সেখানে ভিড় জমাচ্ছে। মুঠো ফোনের মাধ্যমে খবর পেয়ে মোটরসাইকেল চালকরা এখানে হাজির হচ্ছেন। তাছাড়া চাহিদা মত তেল না পেয়ে একই ব্যক্তি রাস্তা পার হয়ে একাধিক বার তেল নিতে আসছেন। ভিড়ের মধ্যে তাদের না চেনার কারণে এ সুুধিধা তারা গ্রহণ করে অন্যদের সুবিধা থেকে বঞ্চিত করছেন।
মোটরসাইকেল আরোহী হাকিম মল্লিক বলেন, অনুযায়ী তেল পাচ্ছি না।
সুদীপ্ত ঘোষ জিতু বলেন, ফুলবাড়িগেট নগর ফিলিং স্টেশনে চাহিদামত তেল পাওয়া যাচ্ছে, এ সংবাদ শুনে এখানে তেল নিতে এসেছি।
স্টেশনের ম্যানেজার মাহফুজুর রহমান বিশ্বাস বলেন, অনেকদিন হলো ডিপো থেকে আমরা চাহিদামত তেল পাচ্ছি না। ডিপোগুলো থেকে রেশনিং পদ্ধতিতে আমাদের তেল দিচ্ছে। ২৬ মার্চ সরকারি ছুটি এবং শুক্রবার সাপ্তাহিক ছুটি দুই দিন ডিপো বন্ধ থাকাবে। দুই দিনের চাহিদা অনুযায়ী আমাদের তেলের যে চাহিদা ছিল, সে অনুযায়ী তেল পায়নি। আজ (গতকাল বুধবার) এবং আগামী দুই দিনের জন্য আমরা ৯ হাজার লিটার ডিজেল, তিন হাজার লিটার পেট্রোল ও তিন হাজার লিটার অকটেন পেয়েছি।
তিনি বলেন, সরকারের নির্দেশনা অনুযায়ী আমরা তেল সরবরাহ করছি। মোটরসাইকেলের জন্য সর্বোচ্চ আড়াইশো টাকা। প্রাইভেট কারের জন্য পনেরশো টাকার তেল, দূরপাল্লার গাড়ির জন্য চাহিদা মোতাবেক তেল সরবরাহ করা হচ্ছে। জনসাধারণের ভীতর প্যানিক আছে, কিন্তু বাস্তবে তেলের কোন সংকট নেই।
নগরীর বাদামতলা মোড়ল ফিলিং স্টেশনের ম্যানেজার হোসেন আহমেদ বলেন, মাসখানেক থেকে চাহিদা মত তেল পাওয়া যাচ্ছে না। আগের থেকে এখন চাহিদা বেড়ে গেছে। আগে প্রতিদিন যে চাহিদা ছিল তার পাঁচ ভাগের এক ভাগ চাহিদা বেড়েছে।
খুলনা গেজেট/এনএম

