দীর্ঘ ৯ মাসের বিরতির পর সাতক্ষীরার ভোমরা স্থলবন্দর দিয়ে ভারত থেকে কাঁচামরিচ আমদানি শুরু হয়েছে। সোমবার (৩ আগস্ট) সন্ধ্যা নাগাদ ভোমরা স্থলবন্দর দিয়ে ১০টি ট্রাকে করে প্রায় ৯১ দশমিক ৫৫ মেট্রিক টন কাঁচামরিচ বাংলাদেশে প্রবেশ করে। তবে আমদানি শুরু হওয়ায় স্থানীয় বাজারে কাঁচামরিচের দাম কমতে শুরু করেছে। ফলে ক্রেতাদের মধ্যে স্বস্তি ফিরছে।
বন্দর সূত্রে জানা যায়, আমদানিকৃত প্রতিটি ট্রাকে গড়ে ৯ দশমিক ১১ মেট্রিক টন করে কাঁচামরিচ রয়েছে। কাস্টমসের প্রয়োজনীয় আইনি প্রক্রিয়া ও দ্রুত শুল্কায়ন শেষ করে ট্রাক গুলো দেশের বিভিন্ন প্রান্তের পাইকারি বাজারে সরবরাহের ব্যবস্থা নেয়া হয়।
দেশের বাজারে কাঁচামরিচের অস্বাভাবিক মূল্যবৃদ্ধি রোধ ও সরবরাহ স্বাভাবিক রাখতে গত ২ আগস্ট ভারত থেকে আমদানির অনুমতি দেয় সরকার। কৃষি মন্ত্রণালয় থেকে আইপি (ইমপোর্ট পারমিশন) ইস্যু করার পরই ব্যবসায়ীরা ভারত থেকে কাঁচামরিচ আমদানি শুরু করে। ফলে প্রথম দিনই ১০টি ট্রাকে করে প্রায় ৯১ দশমিক ৫৫ মেট্রিক টন কাঁচামরিচ ভোমরা বন্দরে ঢোকে। রাতেই স্থানীয় বাজারের পাশপাশি এই মরিচ পৌঁছে দেওয়া হয় দেশে বিভিন্ন বাজারে। আমদানির প্রভাবে আগামী দুই-এক দিনের মধ্যেই বাজারে কাঁচামরিচের দাম উল্লেখযোগ্য ভাবে কমে আসবে বলে আশা করছেন ব্যবসায়ীরা।
মঙ্গলবার (৪ আগষ্ট) সাতক্ষীরা শহরের সুলতানপুর বাড় বাজারের পাইকারি আড়তে গিয়ে দেখা গেছে, প্রায় প্রতিটি ঘরে দেশি কাঁচামরিচের পাশাপাশি ভারতীয় আমদানি করা এলসির কাঁচামরিচ রয়েছে। এসময় দেশি এবং এলসির প্রতি কেজি কাঁচামরিচ বিক্রি হচ্ছে ২০০ টাকা দরে। অথচ মাত্র একদিন আগে রোববার (২ আগষ্ট) পাইকারি বাজারে দেশি কাঁচামরিচ বিক্রি হয়েছে ২৩০ থেকে ২৩৫ টাকা কেজি দরে। আমদানির শুরুতেই মাত্র একদিনের ব্যবধানে মরিচের দাম কেজিতে ৩০ থেকে ৩৫ টাকা কমে গেছে। তবে দাম কমলেও বাজারে কাঁচামরিচের ক্রেতা কিছুটা কম বলে জানিয়েছেন ব্যবসায়ীরা।
এ বিষয়ে সাতক্ষীরা শহরের কাঁচাপাকা মাল ব্যবসায়ী সমিতির সাধারণ সম্পাদক রজব আলী খা জানান, সাম্প্রতিক টানা বর্ষণে স্থানীয় মরিচ খেত পানিতে তলিয়ে যাওয়ায় বাজারে সরবরাহ কমে যায়। ফলে গত ১৫ দিনের ব্যবধানে ৫০ টাকার কাঁচামরিচ বিক্রি হয়েছে ৩০০ টাকা কেজি। তবে ভারত থেকে আমদানি শুরু হওয়ায় বাজারে সরবরাহ বাড়লে দ্রুতই দাম সাধারণ মানুষের ক্রয় ক্ষমতার মধ্যে চলে আসবে।
তিনি আরো বলেন, রাতেই ভোমরা থেকে আমদানি করা ভারতীয় কাঁচামরিচ সুলতানপুর বড় বাজারে চলে আসে। আজ দেশি ও এলসির কাঁচামরিচ দু’টোই বিক্রি হচ্ছে ২০০ টাকা কেজি দরে। আগামীকাল নাগাদ কেজিতে আরও ৪০/৫০ টাকা কমতে পারে বলে জানান তিনি।
এ বিষয়ে ভোমরা সিঅ্যান্ডএফ এজেন্টস অ্যাসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক আবু মুছা বলেন, আজ প্রথম চালানে ১০ ট্রাকে ৯১ দশমিক ৫৫ মেট্রিকটন কাঁচামরিচ এসেছে। মঙ্গলবার আরও বড় চালান আসার অপেক্ষায় রয়েছে। ধারাবাহিকভাবে এই সরবরাহ বজায় থাকলে বাজারে দাম দ্রুতই স্বাভাবিক পর্যায়ে নেমে আসবে।
ভোমরা কাস্টমসের রাজস্ব কর্মকর্তা মিজানুর রহামন জানান, ভোমরা বন্দর দিয়ে আমদানিকৃত প্রতি টন কাঁচামরিচ সর্বনিম্ন ৬০০ ডলারে শুল্কায়ন করা হচ্ছে। যেহেতু এটি একটি পচনশীল পণ্য, তাই ব্যবসায়ীরা যাতে দ্রুত বন্দর থেকে পণ্য ছাড়িয়ে নিতে পারেন, সে জন্য কাস্টমস কর্তৃপক্ষ সর্বোচ্চ সহযোগিতা প্রদান করে।
তিনি আরো বলেন, সবশেষ ২০২৫ সালের ২০ নভেম্বর এই বন্দর দিয়ে কাঁচামরিচ আমদানি হয়েছিল। সরকারের অনুমতির পর ভোমরা স্থলবন্দরের আমদানিকারকরা কাঁচামরিচ আমদানির আবেদন করেন।
ভোমরা কাস্টমস কমিশনার মো. মোস্তাফিজুর রহমান আমদানির বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, সোমবার সন্ধ্যা পর্যন্ত ১০ ট্রাক কাঁচামরিচ ভোমরা স্থলবন্দরে খালাস হয়েছে। বাজারে দ্রুত সরবরাহ নিশ্চিত করতে বন্দর কর্তৃপক্ষ অগ্রাধিকার ভিত্তিতে কাজ শেষ করে।
খুলনা গেজেট/এনএম

