খুলনা উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ-কেডিএ চেয়ারম্যান এ্যাড. এসএম শফিকুল আলম মনা বলেছেন, খুলনা মহানগরীতে ডেঙ্গু রোগীর সংখ্যা দিন দিন বৃদ্ধি পাচ্ছে। খুলনার হাসপাতালগুলোতে রোগীদের ভর্তি করার মতো কোনো জায়গা নেই। খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে গেলেই দেখা যাচ্ছে ফ্লোরেই জায়গা নেই, যে তারা রোগী ভর্তি করবে। খুলনা থেকে ডেঙ্গুকে নির্মূল করার জন্য কেডিএ’র পক্ষ থেকে কর্মসূচি গ্রহণ করেছি। ফগার মেশিন দিয়ে স্প্রে করছি, লার্ভা সাইড এবং এ্যাডাল্ট দুই সাইডের মশা মারার জন্য ব্যবস্থা গ্রহণ করেছি।
বুধবার (২ সেপ্টেম্বর) বেলা ১১টায় কেডিএ’র উদ্যোগে ডেঙ্গু প্রতিরোধ ও মশক নিধন অভিযানের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
কেডিএ চেয়ারম্যান বলেন, আমরা পরিকল্পনা গ্রহণ করেছি সোনাডাঙ্গা আবাসিক এবং নিরালা আবাসিক এলাকায় একই কার্যক্রম পরিচালনা করা হবে। এছাড়া আমাদের কোয়াটারগুলোর আশে-পাশের ঝোপঝাড় কেটে পরিস্কার করা হবে। আমরা আশা করছি এই সকল কার্যক্রমের মধ্যদিয়ে খুলনাকে ডেঙ্গুমুক্ত করা সম্ভব হবে।
এই পরিস্থিতিকে তিনি একটি বড় ধরনের মানবিক সংকট হিসেবে আখ্যা দিয়ে তিনি বলেন, ডেঙ্গু মোকাবিলায় কেবল নির্দিষ্ট কোনো প্রতিষ্ঠানের ওপর নির্ভর না করে রাজনৈতিক, সামাজিক সংগঠনসহ সর্বস্তরের জনগণকে একসাথে কাজ করতে হবে। এডিস মশার প্রজননস্থল ধ্বংস ও লার্ভা নিয়ন্ত্রণে ব্যাপক জনসচেতনতা তৈরির ওপর তিনি বিশেষ জোর দেন। নগরবাসীকে নিজ নিজ বাড়িঘর ও আশপাশ পরিষ্কার রাখার আহ্বান জানান।
কেডিএ চেয়ারম্যান ও মহানগর বিএনপি’র সভাপতি এ্যাড. এসএম শফিকুল আলম মনা আরও বলেন, মশক নিধন ও পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা অভিযান নির্দিষ্ট কোনো এলাকায় সীমাবদ্ধ না রেখে নগরীর প্রতিটি ঘর-বাড়ি, অফিস-আদালত, হাসপাতারে আঙিণায় মশার প্রজননস্থ ধ্বংস করতে হবে।
জনগণের স্বাস্থ্য সুরক্ষায় নিজ নিজ অবস্থান থেকে সামাজিক ও জনকল্যাণমূলক কর্মকাণ্ড অব্যাহত রাখার জন্য সংশ্লিষ্ট সকলকে উৎসাহিত করতে হবে। মাননীয় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বে জনকল্যাণমুখী এ সরকার জনদুর্ভোগ লাঘবে বদ্ধপরিকর। তবে কোনো একক সংস্থার পক্ষে এই সংকট মোকাবিলা করা সম্ভব নয়; ডেঙ্গু প্রতিরোধে রাজনৈতিক, সামাজিক ও স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনসহ সব শ্রেণি-পেশার মানুষকে ঐক্যবদ্ধভাবে এগিয়ে আসতে হবে।
এসময়ে আরও উপস্থিত ছিলেন কেডিএ’র সদস্য (এস্টেট) মো. ইকবাল হোসেন (উপসচিব), সচিব সৈয়দ ফারুক আহম্মদ (উপসচিব), পরিচালক (এস্টেট) ড. জাকিয়া সুলতানা, তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী মো. মজিবুর রহমান, স্থপতি জিনিয়া হক পিংকি, সিনিয়র বৈষয়িক কর্মকর্তা মো. আব্দুল্লাহ্ কবি সাদ, পরিকল্পনা কর্মকর্তা মো. তানভীর আহমেদ, উপ-পরিচালক মো. মামুনুল আবেদীন, মো. ইজাদুর রহমান, অর্থ ও হিসাবরক্ষণ কর্মকর্তা মো. সাঈদুল হক, উপ-পরিচালক মো. সাইফুল ইসলাম, অর্থরাইজড অফিসার মোরতোজা আল মামুন, নির্বাহী প্রকৌশলী (রক্ষণাবেক্ষণ) মুনতাসির মামুন ও প্রোগ্রামার মো. নাজমুল হুদা প্রমুখ।
খুলনা গেজেট/এএজে

