পরীক্ষায় সুবিধা দিতে প্রায় ৩ লাখ টাকা উৎকোচ গ্রহণ!

বাহাদুর স্যারের বাহাদুরি

জাহাঙ্গীর আলম

খুলেছেন WhatsApp গ্রুপ। দিয়েছেন সেখানে বিকাশ নম্বর। প্রতি শিক্ষার্থীর কাছ থেকে নিচ্ছেন মাত্র ৮০০ টাকা। বিনিময়ে পাচ্ছেন নির্বিঘ্নে পরীক্ষার হলে দেখে লেখার নিশ্চয়তা! আর এমন কান্ডটি হচ্ছে খুলনা রূপসা কলেজের উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়ের বিএ/বিএসএস পরীক্ষাকে কেন্দ্র করে। সম্পূর্ণ কেরামতি ওই প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক বাহাদুর স্যারের।

সরেজমিনে যেয়ে এবং একাধিক সূত্র এ তথ্য নিশ্চিত করেছে।

প্রাপ্ত তথ্যানুযায়ি, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীনে ওই প্রতিষ্ঠানে ২৫ সালের ব্যাচে শিক্ষার্থী ২শ’। গেল ২১ আগস্ট বাংলায় উপস্থিত ছিলেন ১৭০ শিক্ষার্থী। আর ২৩ ও ২৪ ব্যাচে ১৮০ শিক্ষার্থী তাদের স্ব স্ব বিষয়ে পরীক্ষা দিয়েছেন। এ শিক্ষার্থীদের নিয়ে খোলা হয়েছে একটি WhatsApp গ্রুপ। ওই গ্রুপের মাধ্যমে প্রতি শিক্ষার্থীর কাছে ৮০০ টাকা করে উৎকোচ গ্রহণের কথা বলা হয়েছে। বিনিময়ে নির্বিঘ্নে পরীক্ষার হলে দেখে লেখার নিশ্চয়তা দেওয়া হয়েছে। বিকাশ নম্বর হিসেবে ওই গ্রুপে দেওয়া হয়েছে প্রতিষ্ঠানটির শিক্ষক উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়ের হল সুপার অনিরুদ্ধ কুমার বাহাদুরের নিজস্ব মোবাইল নম্বর।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, অধিকাংশ শিক্ষার্থী সহজ এ সুবিধার আশায় ইতোমধ্যে হাতে হাতে কেউ আবার ওই বিকাশ নম্বরে টাকা পাঠিয়েছেন। একাধিক সূত্র দাবি করেছে, গত ২১ আগস্টের পরীক্ষা সকল পরীক্ষার্থী দেখে শুনে বেশ ভালোই দিয়েছেন। আগামী ২৮ আগস্ট ইংরেজি পরীক্ষা। এখনও যেসব শিক্ষার্থী টাকা প্রদান করেননি তাদের কাছে তাগাদা দেওয়া হচ্ছে। কঠিন বিষয়টির বৈতরণী পার হতে নিরুপায় হয়ে সকলকে ওই টাকা গুনতে হচ্ছে। শিক্ষার্থীর সংখানুযায়ি ২৫ ব্যাচ থেকে ১ লাখ ৩৬ হাজার আর ২৩ ও ২৪ ব্যাচ থেকে ১ লাখ ৪৪ হাজার টাকা উৎকোচ গ্রহণ করা হচ্ছে। WhatsApp গ্রুপের এডমিন ৪ জন। বাহাদুর স্যার নিজে এডমিন। এছাড়া মাসুদ রানা, শুভ ও আশিকুর রহমানও এডমিন। গ্রুপের মোট সদস্য ৩৩৮ জন। যদিও সব টাকা এখনও না পাওয়ায় মনে মনে বিরক্ত ও হতাশ হচ্ছেন তিনি।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে কমপক্ষে ২০ শিক্ষার্থী এ প্রতিবেদককে বলেন, ভালো ফলের আশায় টাকা দিয়েছি। অনেকে বলেছেন, বাহাদুর স্যারের সাথে যোগাযোগ করেছি কিছু কম দেওয়ার জন্য। কিন্তু তিনি বলেছেন, সব একসাথে পরীক্ষা চলাকালীন সুবিধাজনক সময় দিতে।

বাউবি’র খুলনা আঞ্চলিক কেন্দ্রের প্রধান মোহাম্মদ ওয়াহিদুজ্জামান বলেছেন, একটি টাকাও সরাসরি নেওয়ার কোন বিধান নেই এ বিশ্ববিদ্যালয়ে। রূপসা কলেজে এমন কোন ঘটনা ঘটলে কঠোর হাতে দমন করার আশ্বাস দিয়ে বলেন, এখনই তদন্ত করে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

অভিযুক্ত অনিরুদ্ধ কুমার বাহাদুর এসব অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, WhatsApp গ্রুপ তিনি খোলেননি এবং কোন অর্থ তিনি নিচ্ছেন না। WhatsApp গ্রুপে বিকাশ করা নম্বরটি তার ব্যবহৃত ০১৭১৪৬৭১৩৮৮ দাবি করলেও তিনি বলেন, এ উৎকোচ গ্রহণের সাথে তিনি জড়িত নয়। তার বিরুদ্ধে অপপ্রচার করা হচ্ছে বলে তিনি দাবি করেন।

খুলনা গেজেট/এএজে




আরও সংবাদ

খুলনা গেজেটের app পেতে ক্লিক করুন