ভাঙা ও পচা কাঠের ওপর দিয়েই প্রতিদিন ঝুঁকি নিয়ে নদী পার হতে হচ্ছে দুই গ্রামের হাজারো মানুষকে। পুলের একাধিক তক্তা ভেঙে গেছে, কোথাও কাঠ সরে গিয়ে তৈরি হয়েছে ফাঁক, আবার কোনো কোনো খুঁটি এতটাই নড়বড়ে যে কখন ভেঙে পড়ে, সেই আতঙ্কে পার হতে হয় মানুষকে। এই পুল দিয়েই বিদ্যালয়ে যেতে হয় শিক্ষার্থীদের, কৃষকদের নিয়ে যেতে হয় মাঠের ফসল, আর মৎস্যচাষিদের মাছ পৌঁছে দিতে হয় বাজারে। ফলে একটি পুলের বেহাল দশায় ব্যাহত হচ্ছে মানুষের শিক্ষা, জীবিকা ও নিত্যদিনের চলাচল। পাইকগাছা উপজেলার ৯ নম্বর চাঁদখালী ইউনিয়নের ৮ নম্বর ওয়ার্ডের উত্তর গড়ের আবাদ ও পূর্ব গজালিয়া গ্রামের মধ্যবর্তী নৈর নদীর ওপর নির্মিত একমাত্র কাঠের পুলটির এমন দুরবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে চরম দুর্ভোগ পোহাচ্ছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।
স্থানীয় বাসিন্দারা বলছেন, উত্তর গড়ের আবাদ ও পূর্ব গজালিয়া এলাকার মানুষের চলাচলের জন্য নৈর নদীর ওপর এই কাঠের পুলটি গুরুত্বপূর্ণ। দীর্ঘদিন ধরে পুলটির কাঠামো নড়বড়ে হয়ে থাকলেও তা সংস্কারে কার্যকর কোনো উদ্যোগ নেওয়া হয়নি। বর্তমানে পুলটির একাধিক অংশ ভেঙে যাওয়ায় স্বাভাবিক চলাচল ব্যাহত হচ্ছে।
সরেজমিনে দেখা যায়, পুলটির বিভিন্ন স্থানে কাঠের তক্তা ভেঙে গেছে। কোথাও কোথাও তক্তা সরে গিয়ে নিচের পানি দেখা যাচ্ছে। পচে যাওয়া কাঠের খুঁটিগুলোও আগের মতো শক্ত নেই। এমন অবস্থায় মানুষকে সাবধানে পা ফেলে পুল পার হতে হচ্ছে। বিশেষ করে শিশু, শিক্ষার্থী ও বয়স্ক ব্যক্তিদের পারাপারে বেশি দুর্ভোগ হচ্ছে।
স্থানীয় গড়েরাবাদ গ্রামের মুজিবর মোল্লা জানান, দুই গ্রামের অনেক শিক্ষার্থী প্রতিদিন এই পথ ব্যবহার করে বিদ্যালয় ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে যাতায়াত করে। এ ছাড়া কৃষক, মৎস্যচাষি, ব্যবসায়ী ও সাধারণ মানুষ নিত্যপ্রয়োজনে পুলটি ব্যবহার করেন। পুলটি ভেঙে যাওয়ায় তাঁদের বিকল্প পথে ঘুরে যেতে হচ্ছে। এতে সময় ও যাতায়াত খরচ দুটোই বাড়ছে।
গণমাধ্যমকর্মী আবুল হাশেম বলেন, “এলাকার মানুষের প্রধান জীবিকার একটি অংশ কৃষি ও মৎস্য চাষ। স্থানীয় কৃষকেরা উৎপাদিত ফসল এবং মৎস্যচাষিরা মাছ পরিবহনের ক্ষেত্রে এই পুলের ওপর নির্ভরশীল। পুলটি চলাচলের অনুপযোগী হয়ে পড়ায় উৎপাদিত পণ্য দ্রুত বাজারে নেওয়াও কঠিন হয়ে পড়েছে। এতে পরিবহন ব্যয় বাড়ার পাশাপাশি অনেক সময় অতিরিক্ত পথ ঘুরে যেতে হচ্ছে।
স্থানীয় বাসিন্দা হামিদ মোল্লা বলেন, যেকোনো সময় পুলটির আরও কোনো অংশ ভেঙে বড় ধরনের দুর্ঘটনা ঘটতে পারে। বিশেষ করে শিশু বা বয়স্ক কেউ ভারসাম্য হারিয়ে পানিতে পড়ে গেলে বিপদ হতে পারে। তাই দুর্ঘটনা ঘটার আগেই পুলটি সংস্কার বা নতুন করে নির্মাণের দাবি জানিয়েছেন তাঁরা।
হুরাইরা বাদশা বলেন, “পুলটি মেরামত ও পুনর্নির্মাণের দাবিতে স্থানীয় বাসিন্দাদের যৌথ স্বাক্ষরসম্বলিত আবেদন খুলনা জেলা পরিষদ ও সংশ্লিষ্ট দপ্তরে দেওয়া হয়েছে।” মানুষের দুর্ভোগ বিবেচনায় দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য প্রশাসনের প্রতি অনুরোধ জানান তিনি।
স্থানীয় বাসিন্দা রউফ সানা জানান, “আপাতত পুলটির ঝুঁকিপূর্ণ অংশগুলো মেরামত করে চলাচলের উপযোগী করা হলেও তাঁদের দুর্ভোগ অনেকটা কমবে। তবে দীর্ঘমেয়াদি সমাধানের জন্য কাঠের পরিবর্তে টেকসই উপকরণ দিয়ে একটি স্থায়ী সেতু নির্মাণের দাবি তাঁদের।
চাঁদখালী ইউনিয়ন পরিষদের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান আব্দুল্লাহ সরদার বলেন, “কাঁঠের সাকোটি নষ্ট হয়েছে সত্যি কিন্তু এই মুহূর্তে বরাদ্দ নেই। বরাদ্দ পেলে অগ্রাধিকারের ভিত্তিতে সাকোটি ঠিক করে জনগণের চলাচলের ভোগান্তি লাঘব করবো।”
খুলনা গেজেট/এনএম

