মাছের স্বাদ নিতে ডিমের ওপর নির্ভর হয়েছে মানুষ। ফলে স্বাভাবিকভাবে বেড়েছে এ পণ্যের দাম। এ কারণে মুরগি ও মাছের বাজারে নেই কোনো শান্তি। বাজারে সরবরাহ বেশি থাকলেও কমেনি সবজির দাম। বিক্রি হচ্ছে ঊর্ধ্ব মূল্যে। নিত্য প্রয়োজনীয় পণ্যের দাম অধিক থাকায় চিন্তার ভাজ পড়েছে মধ্যম ও নিম্ন আয়ের মানুষের কপালে। সংসার চালাতে গিয়ে তারা রীতিমতো হিমশিম খাচ্ছেন।
ব্যবসায়ীরা প্রতি ডজন সাদা ডিম ১৪০ ও লাল ডিম ১৫০ টাকায় বিক্রি করছেন। সবজি বাজারের ব্যবসায়ীরা প্রতিকেজি বেগুন বিক্রি করছেন একশ’ টাকায়। একইভাবে প্রতিকেজি টমেটো ১৪০ টাকা, ঝিঙে ৮০ টাকা, পটল ৬০ টাকা, কচুরমুখী ৬০ টাকা, কাঁচা মরিচ ১২০ টাকা, শিম ১৮০ থেকে ২০০ টাকা, লাউ প্রতি পিস ৫০ টাকায় বিক্রি করছেন তারা। এছাড়া শীতকালীন ফুলকপি ১৬০ ও পাতাকপি ৮০ টাকা কেজি দরে বিক্রি করছেন ব্যবসায়ীরা।
নিত্যপ্রয়োজনীয় এ পণ্যের মধ্যে শুধু কাঁচা মরিচের দাম কমেছে। কারণ হিসেবে ব্যবসায়ীরা জানিয়েছে ভারত থেকে আমদানি করার কারণে সরবরাহ বেড়েছে। ফলে কমেছে এ পণ্যের দাম।
নিউমার্কেটের ডিম ব্যবসায়ী মুরাদ হোসেন বলেন, বাজারে মাছের ব্যাপক সংকট। মাছের স্বাদ নিতে মানুষ নির্ভর হয়েছে ডিমের ওপর। ফলে চাহিদা বেড়েছে। দামও বেড়েছে। গত এক সপ্তাহ ধরে সাদা ও লাল ডিম বিক্রি করছেন ১৪০ এবং ১৫০ টাকায়। পাড়া মহল্লায় আরও বেশি দামে বিক্রি হচ্ছে এ পণ্য।
একই বাজারের সবজি ব্যবসায়ী মোঃ হেলাল হোসেন বলেন, টানা ভারী বৃষ্টির প্রবণতা কমে আসায় সরবরাহ বেড়েছে সব ধরনের সবজির। কিন্তু পাইকারি বাজারে দাম বেশি থাকায় পণ্যগুলো কম দামে বিক্রি করা সম্ভব হচ্ছেনা।
মাছের বাজারেও আগুন। প্রতিকেজি রুই মাছ ৩০০ থেকে ৫০০ টাকা কেজি দরে বিক্রি করছেন ব্যবসায়ীর। একইভাবে ভেটকি সাইজভেদে ৭৫০-১২০০ টাকা, পারশে ৭০০ টাকা, ইলিশ মাছ ১ হাজার টাকা থেকে শুরু করে ৩ হাজার টাকা, ট্যাংরা ৭০০ টাকায় বিক্রি করছেন ব্যবসায়ীরা।
নিউমার্কেটের মাছ বিক্রেতা পল্লব মন্ডল বলেন, বাজারে দেশি মাছের চাহিদা অনেক। সরবরাহ কম থাকায় বেড়েছে এর দাম। তাছাড়া নদীর মাছের আমদানি কম থাকায় চাষের মাছের ওপর চাপ বেড়েছে।
ব্যবসায়ীরা ব্রয়লার মুরগী বিক্রি করছেন ১৮০ থেকে ১৯০ টাকা কেজিতে। একইভাবে সোনালি ২৮০ টাকা, কর্ক ২৯০ টাকা, লাল লেয়ার ৩৮০ টাকা, সাদা লেয়ার ৩২০ টাকা ও দেশি মুরগী বিক্রি হচ্ছে ৫২০ টাকা কেজিতে।
ময়লাপোতা মোড়স্থ সন্ধ্যা বাজারের ব্যবসায়ী মোঃ আকসার হোসেন বলেন, মুরগি দাম বেড়েছে। দাম বেশি হওয়ার প্রধান কারণ হিসেবে তিনি উল্লেখ করেন, পলট্রি মুরগির খাবারের দাম বেড়েছে। দ্বিতীয়ত মুরগির পরিবহণ এবং দুই থেকে তিন হাত বদল হয়ে বাজারে আসে। এ কারণে দাম বেশি।
সন্ধ্যায় সন্ধ্যা বাজারে কথা হয় আলামিনের সাথে। তিনি ক্ষুব্ধ স্বরে বলেন, যে পণ্যের দাম একবার বৃদ্ধি হয় সেটা আর কমে না। ব্যয় বাড়ে কিন্তু আয় বাড়েনা। মরণ হয় আমাদের মতো মধ্যবিত্ত পরিবারের সদস্যদের। কারণ হিসেবে তিনি বলেন, আমরা মানুষের কাছে হাত পাততে পারিনা।
নিউমার্কেট বাজারের ক্রেতা সৈয়দ সাজেদুর রহমান বলেন, সরকার ক্ষমতায় আসার পর জ্বালানি তেল ও বিদ্যুতের দাম বাড়িয়েছে। এই জ্বালানি তেলের মূল্য বৃদ্ধি থেকে প্রতিটি পণ্যের দাম বেড়েছে। আমাদের দেশে কোনো জিনিসের দাম একবার বেড়ে গেলে তা আর কমেনা। আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম কমলেও তার প্রভাব আমাদের এখানে পড়েনি। দাম বৃদ্ধির কারণ হিসেবে তিনি সিন্ডিকেটকেই দায়ী করেছেন। এটা বন্ধ করতে পারলে পণ্যের দাম কমে যাবে।
খুলনা গেজেট/এনএম

